সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা: ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা: ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার পল্টন ময়দানে দুই দশক আগে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত৷

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম সোমবার এ মামলার রায় দেন৷ মামলার ১২ আসামির মধ্যে দুইজন খালাস পেয়েছেন৷

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি এ হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল, ১৯ বছর পর সেই একই তারিখে রায় দিল আদালত।

১০৪ পৃষ্ঠার রায় পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, এই জঙ্গিরা সিপিবিকে কাফের মনে করত। তাই তাদের ধ্বংস করতে ওই হামলা চালায়।

হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছিলেন৷ কিন্তু অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১০ আসামির মধ্যে মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানায় ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

বাকি ছয় আসামি জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান ও নুর ইসলাম পলাতক।

এই ১০ জনকে সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে৷ খালাস পাওয়া মো. মশিউর রহমান ও  রফিকুল আলম মিরাজও পলাতক৷

আদালতে উপস্থিত আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম বলেন, "মশিউর ও মিরাজ ছিলেন সিপিবির কর্মী। রায়ে বিচারকও সে কথা বলেছেন।”

এ রায়ের জন্য সোমবার সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷  সবাইকে তল্লাশির পর আদালতে ঢুকতে দেওয়া হয়।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে এই বোমা হামলা হয়। তাতে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের কর্মী মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর মারা যান খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায়। হামলায় আহত হয় শতাধিক।

ওই ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। তিনি আদালতকে বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সিপিবির সমাবেশে হামলার পর ওই বছরের ১৪ এপ্রিল রমনায় বর্ষবরণের উৎসবে একই ধরনের বোমা হামলা হয়। তারপর দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে জঙ্গি হামলার পর ২০০৫ সালে সিপিবির সমাবেশে হামলার মামলাটির তদন্ত পুনরায় শুরু করার আদেশ দেয় আদালত৷

সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিচার।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দেন বিচারক।

এসএনএল/কেএম

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন