‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়’ | আলাপ | DW | 21.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়’

তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই পেশাজীবী সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামে৷ এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় কী? এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্যাব-এর সভাপতি গোলাম রহমান৷

ডয়চে ভেলে : পেশাজীবীদের সিন্ডিকেটকে আপনি কিভাবে দেখেন?

গোলাম রহমান : পেশাজীবীদের নীতি-নৈতিকতা থাকা দরকার৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেক পেশাজীবী নীতি-নৈতিকতার বাইরে গোষ্ঠীস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে৷ এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়৷

কেন এই সিন্ডিকেট?

এটা গ্রুপ ইন্টারেস্ট৷ নীতি-নৈতিকতাকে প্রাধান্য না দিয়ে তাদের গ্রুপের আর্থিক স্বার্থ বা আইনের যে বিধি-বিধান সেগুলো অবজ্ঞা করে নিজেদের বাঁচানোর জন্য এই ধরনের আচরণ ডেভেলপ করেছে৷ এটা খুবই গর্হিত৷

অডিও শুনুন 08:44

‘এটা গর্হিত, এটা অনৈতিক ও এটা অনাকাঙ্খিত’

 

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কি রাজনীতির সম্পর্ক আছে?

রাজনীতির ছত্রছায়ায় সাধারণত এসব হয়৷ সরকার যদি কঠোর হয়, তাহলে এই ধরনের আচরণ ব্যাপকতা পায় না৷ কিন্তু সরকার যদি নমনীয় হয়, তাহলে এই ধরনের কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে৷ 

সরকার এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কতটা তৎপর? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সরকার না হলেও সরকারের মধ্যে বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এদের প্রতি অনেক সময় নমনীয় মনোভাব পোষণ করে৷ অনেক সময়ই দেখা যায়, একজন পরিবহণ শ্রমিক অপরাধ করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সবাই এক হয়ে আন্দোলন শুরু করেন...

ওই জন্যই তো বলছি, এটা গর্হিত, এটা অনৈতিক ও এটা অনাকাঙ্খিত৷ এটা আইনের প্রতি অবজ্ঞা

তাহলে কি এসব পেশাজীবী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না?

অবশ্যই না৷ এজন্য সরকারের উচিত আইনানুগভাবে এসব ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া৷

পেশাজীবীদের এই সিন্ডিকেট সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলে?

এসব সিন্ডিকেটের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হন৷ তাঁরা ন্যায় বিচার বা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন৷

ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে তো এই রমজান মাসেও সরকার চাইলেও পণ্যের দাম কমাতে পারছে না...

পেশাজীবী আর ব্যবসায়ীদের বিষয়টা এক রকম না৷ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হওয়া দরকার৷ বাজার যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব৷

সরকার কি সেটা করছে?

চেষ্টা করছে৷

সিন্ডিকেটের কারণে কি দুর্নীতি উৎসাহিত হয়?

ব্যাপক অর্থে যেটা দুর্নীতি, সেটার মধ্যে এটা পড়ে৷ আমরা সাধারণ মানুষ নীতি-নৈতিকতা বহির্ভূত যে কোনো কাজকেই দুর্নীতি মনে করি৷ কিন্তু সরকারের যে আইন আছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের যে আইন আছে, সেটাতে কিন্তু এই ব্যাপক অর্থে দুর্নীতিকে সংজ্ঞায়িত করেনি৷ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনে কিছু শিডিউল অব অপরাধ আছে৷ সেগুলোকেই শুধুমাত্র দুর্নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো একটা বিষয়কে দুর্নীতি বলেছেন৷ কিন্তু সেটা দুর্নীতির আইনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না৷ তবে সত্যিকার অর্থে এটা দুর্নীতি এতে কোনো সন্দেহ নেই৷

এখন কি তাহলে আইনগুলো সংশোধনের সময় এসেছে?

না, এটা সংশোধন করে হবে না৷ আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষমতা, সেটা কিন্তু সীমিত৷ আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, এখন সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি তাদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান আরো অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে৷

 

সম্প্রতি সংসদ সদস্য ক্রিকেটার মাশরাফির বিরুদ্ধে সমালোচনার  ক্ষেত্রে চিকিৎসক পেশাজীবীদের একটা সমন্বয় দেখা গেল৷ এটা কিভাবে ঠেকানো যাবে?

উনি ডাক্তারদের যে আক্রোশের মধ্যে পড়েছেন, সেটাতে ডাক্তারদের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না৷ তিনি যেটা করেছেন সব জনপ্রতিনিধির তা-ই করা উচিত৷ জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখা৷ সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হন, প্রবঞ্চিত না হন, অধিকার-বঞ্চিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখা৷ তাই আমি মনে করি, এই সংসদ সদস্য যে কাজটি করেছেন, তা সঠিক ছিল৷

এক্ষেত্রে তো খুব একটা বড় ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখিনি...

যদি খুব একটা ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা৷

এই ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে সরকারকে কী করতে হবে?

সরকারকে কঠোর হতে হবে, আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে৷ যদি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে অনৈতিক কার্যক্রম আরো বেশি উৎসাহিত হবে৷

এই সিন্ডিকেট ভাঙতে গেলে সরকার কী ধরনের সংকটে পড়তে পারে?

আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না, বহু বছর আগে ব্যাংকের লোকেরা সরকারকে জিম্মি করে ফেলেছিল৷ তখনকার প্রেসিডেন্ট সাত্তার সাহেব একসঙ্গে ১০ হাজার ব্যাংক কর্মচারীকে চাকরিচ্যূত করেন৷ তিনি কিন্তু খুব স্ট্রং মানুষ ছিলেন না৷ তারপরও তিনি এই ব্যাবস্থা নিয়েছিলেন৷ ওই ঘটনার পর ব্যাংকের কর্মচারীদের ওই আচরণ একেবারেই বদলে গিয়েছিল৷

সমাজে তো পেশাজীবী, ব্যবসায়ী সবারই সিন্ডিকেট আছে৷এখন সবার বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে?

এখানে সবাই তো একসঙ্গে হচ্ছে না৷ এখানে একটা গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠী মিলে সবাই একসঙ্গে বিদ্রোহ করবে না৷ সবার স্বার্থও এক না৷ তাই যখন যে গ্রুপ অনৈতিক কাজ করবে, তখনই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জনগণের সমর্থন থাকবে৷ আর জনসমর্থন থাকলে কেউ কিছু করতে পারে না৷ ধরেন, তাৎক্ষণিক সাফারিং হতে পারে৷ ওই যে ব্যাংকের কথা বললাম, তখন কিন্তু সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সমস্যা হয়েছিল, পরে কিন্তু সব ঠিক হয়ে গেছে৷ কঠোর হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনে৷

এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনই সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

যখনই অনৈতিক ও অরাজকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটবে, তখনই সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷ এখানে কারো প্রতি সদয় আচরণ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই৷ কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়াটা যৌক্তিক৷ আর না নেওয়া হলে অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন