সিনহা হত্যা মামলা: প্রদীপ কুমার দাশ ও মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড | বিশ্ব | DW | 31.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সিনহা হত্যা মামলা: প্রদীপ কুমার দাশ ও মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন৷ আজ কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন৷

রায়ে টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত এবং কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে৷ এছাড়া কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত৷ বাকি সাতজন আসামি খালাস পেয়েছেন৷

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সোমবার বিকালে জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন৷

৩০০ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে৷ আর তাতে আট আসামির সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে৷

মানববন্ধন

এর আগে সোমবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা আদালতের সামনে দুটি ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান ৩০ থেকে ৪০ জন; যারা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও হয়রানির শিকার পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন৷

‘সর্বস্তরের জনগণ টেকনাফ’, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি- কক্সবাজার জেলা শাখার ব্যানারে ওই মানববন্ধনে দাঁড়ানো কারো কারো হাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতদের ছবি ছিল৷

‘ওসি প্রদীপের ফাঁসি চাই’ স্লোগানসহ তারা সিনহা হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করছিলেন৷ ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে সিনহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়৷ ঘটনার প্রায় সাড়ে চার মাস পর ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন৷ 

মানববন্ধনে দাঁড়ান ৩০ থেকে ৪০ জন

মানববন্ধনে দাঁড়ান ৩০ থেকে ৪০ জন

২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর টেকনাফ থানায় যোগ দেন প্রদীপ৷ তার আগে তিনি একই জেলার মহেশখালী উপজেলার ওসি ছিলেন৷

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, টেকনাফে আসার পর থেকেই তিনি মাদক নির্মূলের আড়ালে ‘সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা’ করছিলেন৷ ইয়াবা ব্যবসায়ী ছাড়াও স্থানীয় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নিরীহ পরিবারকে টার্গেট করে, তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে, অনেককে ‘ক্রসফায়ারে দিয়ে এবং ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে’ টাকা আদায়ের ‘নির্মম নেশা’ পেয়ে বসেছিল তাকে৷

ভ্রমণবিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণে কক্সবাজারে যাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান ও তার সঙ্গীরা টেকনাফের নিরীহ মানুষের উপর ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ‘অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়নের কাহিনী’ জেনে গিয়েছিলেন৷ প্রদীপের অত্যাচারের শিকার কিছু মানুষের সাক্ষাতকারও তারা নিয়েছিলেন৷

বিষয়টি নিয়ে প্রদীপের সঙ্গে সিনহা এবং তার সঙ্গীদের কথাও হয়৷ বিপদ আঁচ করতে পেরে প্রদীপের পরিকল্পনায় শামলাপুর চেকপোস্টে সিনহাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে এ মামলায়৷ সিনহা হত্যার পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে সব বিষয় খতিয়ে দেখে৷ তাদের প্রতিবেদনেও বলা হয়, টেকনাফ থানায় ওসি প্রদীপের ৩৩ মাসের সময়কালে ১০৬টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭৪ ব্যক্তি নিহত হন৷ নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন টেকনাফের ডেইল পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ (২০)৷ যিনি পেশায় ছিলেন রিকশাচালক৷ ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সকালে স্থানীয় সোনাইয়া সওদাগরের দোকানে নাস্তা করছিলেন আজিজ৷ সেখান থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ৷ পরিবার টাকা দেওয়ার পরও তাকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হয়৷

সোমবার সকালে আদালতের সামনে মানববন্ধনে আজিজের ছবি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা হালিমা খাতুন৷ কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ৷ ওসি প্রদীপ ১০ লাখ টাকা চেয়েছিল৷ ভিটাবাড়ি বন্ধক রেখে ছয় লাখ টাকা দিই৷ তারপরেও দুদিন পর আমার ছেলেকে ক্রসফায়ার দেয়৷ আমার এখন বাড়িঘরও নেই, ছেলেও নেই৷’’

হালিমা খাতুনের দুই ছেলে আর এক মেয়ের মধ্যে আবদুল আজিজ ছিলেন দ্বিতীয়৷

টেকনাফের হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হাসান চৌধুরী জাতীয়তাবাদী যুবদল করেন৷ ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়৷ মুরাদ হাসানের দাবি, তার কয়েক দিন আগে দলীয় এক সমাবেশে তিনি পুলিশের ‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানির’ বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তাকে ধরে নিয়ে যায়৷ মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়৷ ১১টি মামলা দেওয়া হয়৷ ১৪ মাস কারা ভোগের পর আমি জামিনে মুক্তি পাই৷’’

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হাম জালাল বলেন, ‘‘২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর আমার ভাই ইউসুফ জালাল বাহাদুরকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ৷ এক কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিল৷ টাকা দিতে না পারায় একদিন পর রাতে ক্রসফায়ার দেয়৷ পরে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি আমাকে আটক করে৷ চার মাস পর হাই কোর্ট থেকে জামিন নিই৷ ওসি প্রদীপ টেকনাফের নিরীহ মানুষকে মাদক নির্মূল অভিযানের নামে ক্রসফায়ার, নির্যাতন, চাঁদাবাজি সব করেছে৷ আমরা তার ফাঁসি চাই৷’’

প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের  অভিযোগে মামলা করা সংবাদকর্মী ফরিদুল মোস্তফা খান বলেন, ‘‘ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ঢাকা থেকে তুলে আনা হয়৷ টেকনাফ থানায় অকথ্য নির্যাতন করা হয়৷ ছয়টি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ১১ মাস জেল খাটায়৷ আজ ওসি প্রদীপের ফাঁসির রায় শুনতে আদালতে এসেছি৷ আমি তার ফাঁসি চাই৷’’

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)   

নির্বাচিত প্রতিবেদন