সিঙ্গাপুরে ধর্ম এবং জাতির জনকের অবমাননা | বিশ্ব | DW | 04.04.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সিঙ্গাপুরে ধর্ম এবং জাতির জনকের অবমাননা

আদালত থেকে হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলেন আমোস ই প্যাং স্যাং৷ আদালত তাঁর জামিন দিয়েছে৷ তাঁর বাবার মুখে তারপরও হাসি নেই৷ সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘‘ছেলের হয়ে আমি ক্ষমা চাই৷ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাই আমি!''

১৬ বছর বয়সি আমোস ই প্যাং স্যাং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বেশ মারাত্মক৷ একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া, আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইউ-এর অবমাননা এবং অশ্লীলতার অভিযোগে মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷ সম্প্রতি ৮ মিনিটের এক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে ছেড়ে দেন তিনি৷ ভিডিওচিত্রের নাম দিয়েছেন, ‘অবশেষে মারা গেলেন লি কুয়ান ইউ'৷ ভিডিওচিত্রে তিনি সদ্য প্রয়াত লি কুয়ান ইউ-কে তীর্যক ভাষায় কটাক্ষ করেন৷

১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থেকে সিঙ্গাপুরকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া লি কুয়ানকে যীশু খ্রিষ্টের সঙ্গে তুলনা করে আমোস বলেছেন, ‘‘তাঁরা দুজনই ক্ষমতালিপ্সু৷'' যীশু এবং লি কুয়ান দুজনই অত্যাচারী হয়েও নিজেকে সবার কাছে মহান হিসেবে তুলে ধরেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন আমোস৷

গত ২৩ মার্চ ৯১ বছর বয়সে মারা যান আধুনিক সিঙ্গাপুরের স্থপতি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত লি কুয়ান ইউ৷ তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে দেশে৷ লক্ষাধিক মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানান৷ সরকারি হিসেব অনুযায়ী ৫৫ লক্ষ মানুষের দেশ সিঙ্গাপুরের অন্তত ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৮৭ জন মানুষ প্রয়াত রাষ্ট্রনায়ককে শ্রদ্ধাভরে বিদায় জানিয়েছেন৷

Staatsbegräbnis für Singapurs Gründervater Lee Kuan Yew

সিঙ্গাপুরের স্থপতি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত লি কুয়ান ইউ

সামোন উ প্যাং স্যাং ঠিক লি কুয়ানের মৃত্যুর পরই ‘অবশেষে মারা গেলেন লি কুয়ান ইউ' শীর্ষক ভিডিও প্রচার করে বিতর্কের জন্ম দেন৷ ভিডিওতে সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি লুং-এর বিরুদ্ধেও ‘উসকানিমূলক' বক্তব্য ছিল সেখানে৷ প্রধানমন্ত্রী চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন- এমন কথাও ভিডিওতে বলেছেন আমোস৷

লি কুয়ানের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার দিনই গ্রেপ্তার হন আমোস৷ গত রোববার আদালতে হাজির করা হয়েছিল তাঁকে৷ তাঁর পক্ষের উকিল জামিন আবেদন করায় সে আবেদন মঞ্জুর করে আদালত৷ পাশাপাশি ইউটিউব, নিজের ব্লগ বা অন্য কোনো ইন্টারনেট মাধ্যমে কোনো কিছু লেখা, কোনো ভিডিও বা অডিও প্রচার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেয়া হয়৷ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৩ বছরের জেল এবং জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি এবং অশ্লীলতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন মাসের জেল, জরিমানা বা উভয় শাস্তিই হতে পারে আমোস ই-র৷

আমোস ই প্যাং স্যাংয়ের বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে লি কুয়ানের একটি কার্টুনের কারণে৷

এসিবি / এসবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়