সিগ্রাস থেকে ম্যলেরিয়ার ওষুধ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 19.11.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

সিগ্রাস থেকে ম্যলেরিয়ার ওষুধ

চিকিত্সা বিজ্ঞানী ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি সমুদ্রকে নতুন করে আবিষ্কার করতে উদ্যোগী হয়েছেন৷ সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের বিশাল ভাণ্ডারের দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে তাঁদের৷ অনেক পদার্থ থেকে ওষুধ তৈরি করতে পারবেন তাঁরা৷

সমুদ্রের তলদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

সমুদ্রের তলদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীব রসায়নবিদ জুলিয়া কুবানেক সমুদ্রের তলদেশে এক ধরনের রাসায়নিক মলিকিউল বা অণু খুঁজে পেয়েছেন, যা চিকিত্সা ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে৷ এ সব পদার্থ দিয়ে ওষুধ তৈরির জন্য জর্জিয়া ইন্সটিটিউ অব টেকনোলজির গবেষণাগারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন তিনি৷ জুলিয়া কুবানেক এর ভাষায়, ‘‘আমরা বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি থেকে দুর্লভ সব পদার্থ খোঁজার চেষ্টা করছি৷ যত বেশি প্রজাতি আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করব ততই নতুন নতুন রাসায়নিক পদার্থের সন্ধান পাব আমরা৷''

চিকিত্সা ক্ষেত্রে কাজে লাগবে বিরল প্রজাতির সিগ্রাস

ডুব সাঁতারে পারদর্শী বিজ্ঞানী কুবানেক অস্ট্রেলিয়ার উত্তর পূর্বে অবস্থিত ফিজি দ্বীপের সমুদ্র তলদেশে সন্ধান পেয়েছেন এক ধরনের সিগ্রাসের, যা চিকিত্সা ক্ষেত্রে বিশেষ সুফল বয়ে আনবে৷ এই সিগ্রাস এক ধরনের অণু প্রস্তুত করে, যা ম্যালেরিয়ার জীবাণু ধ্বংস করতে বেশ কার্যকর হবে বলে গবেষকদের ধারণা৷ বিজ্ঞানী জুলিয়া কুবানিক তাঁর গবেষণার কাজে ফিজি দ্বীপের জনসাধারণের সহযোগিতা চান৷ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ প্যাসিফিকের বিজ্ঞানী ও ছাত্রদের তিনি তাঁর প্রকল্পে সম্পৃক্ত করেছেন৷ স্থানীয় সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে চুক্তিও করেছেন তিনি৷ জুলিয়া কুবানিক জানান, ‘‘ফিজি দ্বীপে প্রাকৃতিক সম্পদকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ তার মানে সমুদ্র থেকে কোনো পদার্থ সংগ্রহ করলে সেই অঞ্চলের রীতি অনুযায়ী প্রথমে গ্রামের মোড়লের সঙ্গে কথা বলতে হয়৷ তারপর করতে হয় একটি চুক্তি৷ গবেষণা থেকে পাওয়া সামগ্রী থেকে যদি আর্থিক লাভ হয়, তাতে অংশ থাকার নিশ্চয়তা থাকতে হয় চুক্তিতে৷''

গবেষণায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে ফিজি দ্বীপের মানুষদের

ফিজির জেলে সম্প্রদায় ও বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় জুলিয়া কুবানেক বহু সামুদ্রিক অর্গানিজম সংগ্রহ করেছেন৷ এর মধ্যে রয়েছে এক ধরনের সিগ্রাস৷ টকটকে লাল রঙের এই উদ্ভিদটি প্রবাল প্রাচীরে বেড়ে ওঠে৷ কোন কিছুর সংস্পর্শে এলেই সিগ্রাস এক ধরনের উপাদান বের করে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়৷ বিজ্ঞানী কুবানেক গবেষণাগারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে লক্ষ্য করেছেন যে, এই উপাদনটি ম্যালেরিয়ার জীবাণু দমনে বিশেষ কার্যকর৷ ম্যালেরিয়ার পুরনো ওষুধ ক্লোরোকুইনের মত কাজ করে এটি৷ তবে ম্যালেরিয়ার জীবাণুরা ইতোমধ্যে ক্লোরোকুইন প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে৷ কিন্তু নতুন এই উপাদানে এই সম্ভাবনাটি নেই৷ তাই গবেষক কুবানেককে আগ্রহী করে তুলেছে সাগর তলদেশের সিগ্রাস৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘ম্যালেরিয়ার মত কোনো অসুখের চিকিত্সা করতে চাইলে খরচের কথাটাও চিন্তা করতে হয়৷ আমাদের পাওয়া নতুন উপাদান অত্যন্ত জটিল কাঠামোর৷ এই অবস্থায় ওষুধ প্রস্তুত করতে গেলে তা ব্যয়বহুল হয়ে যাবে৷ এ জন্য আমাদের এই উপাদানের অনুকরণে অন্য ধরনের মলিকিউল তৈরি করতে হবে, যা সুলভ মূল্যের এমনকি আরো কার্যকরও হতে পারে৷ পাশাপাশি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধেরও চেষ্টা করব আমরা৷ তার মানে নতুন ওষুধ প্রস্তুত করতে হলে জটিল এক গবেষণা কর্মসূচি হাতে নিতে হবে আমাদের৷''

ক্যান্সার সহ বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে সামুদ্রিক অর্গানিজম

সামুদ্রিক অর্গানিজম থেকে অন্যান্য ওষুধ তৈরির প্রকল্পও সাফল্যের মুখ দেখেছে ইতোমধ্যে৷ যেমন ক্যানসার ও ব্যথানিরোধক একরকম ওষুধ সব রকমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে৷ চিকিত্সকরা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রয়োগও করছেন৷ আরো কিছু ওষুধ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে৷ জুলিয়া কুবানেকের এই দুর্গম পথযাত্রা সফল হলে ম্যালেরিয়ার নতুন ওষুধও আসবে মানুষের হাতে৷ এমন এক রোগ, যাতে বছরে ১০ লাখ লোক প্রাণ হারান, আর যার বিরুদ্ধে লড়াই করার মত খুব কমই ওষুধ রয়েছে৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক