সিএএ নিয়ে স্থগিতাদেশ দিলো না সুপ্রিম কোর্ট | বিশ্ব | DW | 22.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সিএএ নিয়ে স্থগিতাদেশ দিলো না সুপ্রিম কোর্ট

সিএএ বা এনপিআর নিয়ে কোনও স্থগিতাদেশ জারি করল না সুপ্রিম কোর্ট৷ আবেদনকারীদের আইনজীবীরা বারবার করে অনুরোধ করেছিলেন, মাস দুয়েকের স্থগিতাদেশের জন্য৷ তাঁদের আবেদন গৃহীত হল না৷

সিএএএবং এনপিআর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে শুধু নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট৷  কোনও স্থগিতাদেশ জারি করা হল না৷ চার সপ্তাহের মধ্যে সব আবেদনকারীর বক্তব্য নিয়ে জবাব দিতে হবে কেন্দ্রকে৷ পঞ্চম সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চ তাঁদের মতামত জানাবে৷ অর্থাৎ মামলা শুরু হবে পাঁচ সপ্তাহ পর থেকে সাংবিধানিক বেঞ্চে৷ ফলে আপাতত হাতে কিছুটা সময় পেয়ে গেল তারা৷ এটা নিঃসন্দেহে সরকারের কাছে স্বস্তির খবর৷ সাংবাদিক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন,  ''৩১ জানুয়ারি থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে৷ তার আগে সুপ্রিম কোর্ট সিএএ এবং এনপিআর নিয়ে স্থগিতাদেশ দিলে সরকারের বিড়ম্বনার শেষ থাকত না৷ সংসদে বিরোধীদের আক্রমণ এবং দেশ জুড়ে প্রতিবাদ তখন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকত৷ আপাতত সরকারকে সেই অস্বস্তিতে পড়তে হবে না৷''

মোট ১৪৪ জন আবেদনকারীর আবেদন একসঙ্গে বিচারের জন্য  নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ তবে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আসাম সহ উত্তর পূর্বের আবেদনকারীরা যে মামলা করেছেন, তা আলাদাভাবে বিচার করা হবে৷ কারণ, সেখানে আসাম চুক্তি একটা বড় বিষয়, যার সঙ্গে অন্য রাজ্যের সম্পর্ক নেই৷ আবেদনকারীদের পক্ষে দুই আইনজীবী কপিল সিবাল এবং অভিষেক মণু সিংভি আদালতে বলেন, ''সরকার আপাতত দু মাসের জন্য সিএএ ও এনপিআর প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিক৷ সিবালের যুক্তি ছিল, সত্তর বছর যা হয়নি, তা আর মাস দুয়েক পিছলে কোনও ক্ষতি হবে না৷'' অভিষেক উত্তর প্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ''সেখানে কে নাগরিক, কে নয়, তা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের নিয়মাবলী এখনও তৈরি হয়নি, তা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ সরকার এই কাজ করছে। সে কারণেই দু মাস পিছিয়ে দেওয়া খুবই জরুরি৷'' কিন্তু প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, পিছিয়ে দেওয়াকে স্থগিতাদেশেরই অন্য নাম বলে সরকার মনে করছে৷ তাঁরা স্থগিতাদেশ দেননি৷ সরকারকে সব আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় দিচ্ছেন৷ 

তবে আইনজীবীরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, সেটাই হবে বলে তাঁরা অনুমান করেছিলেন৷ এক আবেদনকারীর আইনজীবী অরিন্দম দাস ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''আমরা এই নির্দেশে একেবারেই অবাক নই৷ বরং এটা প্রত্যাশিত ছিল৷ মামলার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় আদালত মেনে নিয়েছে৷ আমাদের আশা, পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে সুবিচার পাব৷''

সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ না দিলেও তাদের সিএএ বিরোধী আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা৷ দিল্লির শীত ও প্রশাসনের চাপ আগ্রাহ্য করে তাঁরা গত একমাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন৷ সেই আন্দোলন যথারীতি চলবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা৷

এ দিন সিএএ মামলার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির আদালতকক্ষে ছিল বেনজির দৃশ্য৷ আদালতে সেই সময় উপস্থিত থাকা সাংবাদিক অরিন্দম ডয়চে ভেলেকে জানাচ্ছেন, ''১৪৪টি আবেদন ছিল৷ ফলে আবেদনকারী, তাঁদের হয়ে সওয়াল করার জন্য অন্তত দুজন করে আইনজীবী, তাঁদের সাহায্যকারী, সাংবাদিক মিলে ভিড়ে ভিড়াক্কার৷ তিনটি দরজা খুলে দেওয়ার পরেও দেখা গেল, ভিড় করিডোর পর্যন্ত চলে গিয়েছে৷ প্রধান বিচারপতি শুরুতেই প্রশ্ন করেন, এত ভিড় কেন? তাও তো সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদকারীরা ছিলেন না৷ গতরাতে তারা দল বেঁধে বসে পড়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালতের সামনে৷ পুলিশ অবশ্য দ্রুত গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে উঠিয়ে দেয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন