সাহারা মরুভূমি থেকে ইউরোপে আসবে সৌর-বিদ্যুৎ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 06.06.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

সাহারা মরুভূমি থেকে ইউরোপে আসবে সৌর-বিদ্যুৎ

জার্মানি এক দশকের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে৷ এর মধ্যে ইউরোপের একটা বড় অংশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে উত্তর আফ্রিকায় চলছে বিশাল এক প্রকল্প৷

স্পেনের আলমেরিয়ায় ‘ডেসার্টেক’

স্পেনের আলমেরিয়ায় ‘ডেসার্টেক’

পরিবেশের ক্ষতি না করে বিকল্প পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে চলেছে৷ ‘ডেসার্টেক' নামের এক প্রকল্প উত্তর আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে বিশাল মাত্রায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চালাচ্ছে৷ এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে উত্তর আফ্রিকা ও ইউরোপের বিদ্যুতের চাহিদার একটা বড় অংশ মেটানো যাবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা৷

বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য মহৎ হতে পারে, কিন্তু তার মাত্রা এখনো বেশ সীমিত রয়েছে৷ তার উপর প্রায় সারা বছর ধরে মেঘশূন্য আকাশ ও চড়া রোদ আশা করাও কঠিন৷ সাহারা মরুভূমিতে কিন্তু সেই সমস্যা নেই৷ এমনকি কাগজে-কলমে সেখানে যে পরিমাণ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, তা গোটা বিশ্বের বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ১০০ গুণেরও বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ ‘ডেসার্টেক' প্রকল্প তারই অংশবিশেষ কাজে লাগাতে চাইছে৷ বিশাল প্যানেলের সাহায্যে রোদের উত্তাপ ধরে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ৷ এই ‘সোলার থার্মাল' পদ্ধতিতে উত্তাপের মাধ্যমে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করে চালানো হয় টার্বাইন৷

(Copyright Solarmillenium AG) Mit einer Leistung von jeweils 50 Megawatt versorgt ein Andasol-Kraftwerk bis zu 200.000 Menschen mit Strom.

একটি ‘ডেসার্টেক’ প্রকল্প ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে৷

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয় – টিউনিশিয়া, মরক্কো বা মিশরের মতো উত্তর আফ্রিকার দেশগুলির অর্থনীতিও এই প্রকল্পের ফলে লাভবান হবে৷ কর্মসংস্থানের ফলে উপকৃত হবে স্থানীয় মানুষ৷ ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলিকে এই লক্ষ্যে এক যৌথ উদ্যোগ শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন ‘ডেসার্টেক' প্রকল্পের কর্মকর্তারা৷ তবে সস্তায় বিদ্যুৎ কেনাই ইউরোপের একমাত্র স্বার্থ বলে উত্তর আফ্রিকায় অনেকের মনেই সন্দেহ রয়েছে৷ ইউরোপের উপনিবেশ হিসেবে তাদের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেই ইতিবাচক নয়৷ তবে ‘ডেসার্টেক' প্রকল্পের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা সেই সন্দেহ কাটিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান৷ আপাতত উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে৷ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এমনকি এই সব দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তারা মনে করছেন৷

উত্তর আফ্রিকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে মদত দিতেও ‘ডেসার্টেক' প্রকল্পে বিনিয়োগ করা উচিত বলে প্রকল্পের প্রবক্তারা মনে করছেন৷ কারণ এর মাধ্যমে যে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, তা গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য সহায়ক হবে৷ তবে শুধু বিনিয়োগের জন্য আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করা যাবে, এমনটা আশা করা কঠিন৷ আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

বিজ্ঞাপন