সালাউদ্দিনের বিকল্প নেই বলেই...? | বিশ্ব | DW | 18.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সালাউদ্দিনের বিকল্প নেই বলেই...?

২০১৬ সালে কাজী সালাউদ্দিনের প্রকাশ্য ঘোষণা ছিল, এটিই তাঁর শেষ নির্বাচন৷ কিন্তু চার বছর পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-র আরেক নির্বাচনে ঠিকই সভাপতি প্রার্থী তিনি!

আর জনমানুষের সমালোচনা যতই থাকুক, বাফুফে সভাপতি হওয়ায় সালাউদ্দিনই ফেভারিট৷

এক যুগে বাংলাদেশ ফুটবলের দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া সত্ত্বেও এমনটা কেন? যোগ্য বিকল্প না থাকাই কি বড় কারণ?

গত নির্বাচনে সালাউদ্দিনের বিরোধী পক্ষ হুট করে প্রার্থী করে কামরুল আশরাফ খান পোটনকে৷ ভদ্রলোক সংসদ সদস্য, সার ব্যবসায়ী৷ কিন্তু ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না৷ এ কারণে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সারের ডিলারদের দিয়ে সারাদেশে ফুটবলের উন্নতির কথা বলে হাস্যাষ্পদ হন৷ ভোটের মাঠে সালাউদ্দিনের সামনে টিকতে পারেননি৷

সে নির্বাচনে সালাউদ্দিনের প্যানেলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন রুহুল আমিন তরফদার৷ নির্বাচন জয়ের এক-দেড় বছরের মাথায় ফুটবলে তাঁর উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়তে থাকে ক্রমশ৷ মহানগরীর প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় বিভাগের ফুটবল আর জেলা ফুটবলের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে আসেন সংগঠকদের সামনের সারিতে৷ ৫৪ জেলার ফুটবল লিগ আয়োজন হয় তরফদারের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায়৷ খরচ করেন কোটি কোটি টাকা৷ এক সময় হয়ে ওঠেন সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী৷ এবারের নির্বাচনে বাফুফে সভাপতি পদেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রবলভাবে৷ কিন্তু এ বছরের গোড়ার দিকে হুট করেই নিজেকে সরিয়ে নেন সে জায়গা থেকে৷ পরে সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা শোনা গেলেও এখন নিজেকে ফুটবল থেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছেন তরফদার৷

সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বাদল রায়েরও৷ কিন্তু সময়মতো প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালট পেপারে নাম থাকবে এ ফুটবলার-সংগঠকের৷ কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ানোয় বাদল রায়ের পালে হাওয়া কমে গেছে৷ বাফুফে সভাপতি পদে তৃতীয় প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক৷ আগে থেকে কোনো আওয়াজ ছাড়া হুট করেই দাঁড়িয়ে যান সাবেক এ ফুটবলার ও বর্তমানের কোচ৷

অডিও শুনুন 05:30

এর চেয়ে খারাপ আর কী হবে: গোলাম সারোয়ার টিপু

এই যখন অবস্থা, তখন আরেকবার বাফুফে প্রেসিডেন্ট হওয়ায় ফেভারিট সালাউদ্দিন৷ যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রবল সরব ‘সালাউদ্দিন আউট’, ‘বয়কট সালাউদ্দিন’, ‘সালাউদ্দিন হটাও ফুটবল বাঁচাও’ শ্লোগানে৷ বাফুফে তো বটেই, এমনকি ফিফার ফেসবুক পেজেও নিজেদের উচ্চকিত উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা প্রবলভাবে৷ কিন্তু তাতে কি বাফুফেতে পরিবকর্তন আসবে? নাকি বিকল্পের অভাবে আবারও ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেবেন একসময়ের তুখোড় সেন্টার ফরোয়ার্ড সালাউদ্দিন?

ফুটবলের সঙ্গে প্রায় ছয় দশক জড়িয়ে থাকা গোলাম সারোয়ার টিপু বাফুফে নির্বাচন নিয়ে কথা বলতেই নারাজ৷ এটি তার কাছে মনে হচ্ছে খামখেয়ালীপনা, ‘‘এ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতেই ইচ্ছে করে না৷ যেখানে হারুন সাহেবের (হারুনুর রশিদ) মতো লোক, যিনি বাফুফের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন, এমপি ছিলেন, তিনি সদস্যপদে নির্বাচন করছেন আর আমিরুল ইসলাম বাবু সহসভাপতি পদে নির্বাচন করছেন৷ এমন নির্বাচন আমার কাছে খামখেয়ালীর মতো মনে হচ্ছে৷’’ সালাউদ্দিনের উপর তীব্র বিরক্তিও ফুটে ওঠে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচের কথায়, ‘‘সালাউদ্দিন তো ১২ বছরে আমাদের ফুটবলকে একটা দুর্দান্ত জায়গায় নিয়ে গেছে৷ এখন ফিফা ব়্যাংকিংয়ে ২০০ পেরোনোর জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকু করবে৷ এই তো! ব়্যাংকিংয়ে ১৪৪ থেকে এখন ১৮৭৷ এখানে উন্নতি তো আছে, কারণ, ১৯৭ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল৷ ১০ ধাপ এগুনোর উন্নতি আছে৷ আসলে হারুন সাহেবের মতো লোক যেখানে সদস্যপদে নির্বাচন করছেন, তা নিয়ে কী বলবো! হয় উনি নির্বাচন করবেন না, করলে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন৷ এখন তো ভাবেসাবে মনে হচ্ছে, সবাই মিলে দল পাকানোর মতো৷’’

হারুনুর রশিদ বাফুফে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করলে মানাতো বলে দাবি টিপুর৷ এমনিতেই সামগ্রিক অর্থে সালাউদ্দিনের বিকল্প কী আছে? প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়েই দেন তিনি, ‘‘আমি এখন একটা প্রশ্ন করি৷ ধরুন, একটা খাবারের ব্যাপারে জানি যে, সেটি খারাপ৷ আমি কী সেটি খাবো? না জেনে খারাপ খাবার খেতে পারি৷ যদি জানি এ খাবারটা নষ্ট হয়ে গেছে, এটি খেলে পেটে সমস্যা হবে; আরেকটি খাবার ভালো নাকি খারাপ জানি না, গন্ধ-টন্ধ পাচ্ছি না--তাহলে কোনটি বেছে নেবো, আমাকে বলুন? এখানেই তো উত্তর আছে৷’’

বিকল্পের চেয়ে টিপু বরং ভাবছেন, পরিবর্তনের কথা৷ সালাউদ্দিনের জায়গায় অন্য যে কেউ এলে বাংলাদেশ ফুটবলের অবস্থা বর্তমানের চেয়ে খারাপ হবে না বলে দাবি তার, ‘‘প্রথমবার সালাউদ্দিন যখন নির্বাচন করেন, তখন তাঁর প্লেয়িং ব্যাকগ্রাউন্ড, সুন্দর চেহারা, অর্ধেক বাংলা অর্ধেক ইংরেজি মিলিয়ে কথা বলে সবাইকে ইমপ্রেস করেছেন৷ নির্বাচত হয়ে গেলেন৷ প্রথমবার গেল, দ্বিতীয়বার গেল, তৃতীয়বার গেল, এরপরও যদি আমাদের বোধোদয় না হয়, তা হলে ঠিক আছে৷ চলুক৷ ১২ বছর দেখার পরও বলছি বিকল্প নেই৷ আমার কথা হলো, এর চেয়ে খারাপ আর কী হবে! ফিফা ব়্যাংকিংয়ে এখন আমরা ১৮৭ নম্বরে৷ ফিফা সদস্য ২১০৷ এর চেয়ে খুব বেশি খারাপ আর কী হবে! এখন টম-ডিক-হ্যারি যে-ই বাফুফে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসুক, এখনকার চেয়ে ভালো না হলেও খারাপ হওয়ার খুব সুযোগ তো নাই৷’’ কিন্তু নিজের চাওয়া অনুযায়ী পরিবর্তনের সুযোগ দেখছেন না টিপু, ‘‘পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখার কোনো সুযোগ নেই৷ বাদলের শরীর ভালো না, আবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷ সেটি প্রত্যাহার করলে আগেই করা উচিত ছিল৷ সময় পেরিয়ে যাবার পর কেন? আর মানিকের মধ্যে ১০০% সততা আছে৷ এখন ও কার্যকর হবে কিনা, ভালো করবে কিনা, তা জানি না৷ তবে এর চেয়ে খারাপ আর কী করবে!’’

অডিও শুনুন 07:03

যদি ভোটারদের মনের বিরুদ্ধে কিছু করতে না হয়, তাহলে আমার সম্ভাবনা উজ্জ্বল: শফিকুল ইসলাম মানিক

এই শফিকুল ইসলাম মানিক হুট করেই দাঁড়িয়ে গেছেন নির্বাচনে৷ বলা যেতে পারে, তেমন কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই৷ নিজেই বলেছেন তা, ‘‘ঠিক প্রস্তুতি না৷ তবে মনের অজান্তে হয়তো ভেবেছি৷ এবার দেখলাম, প্রার্থী হবার জন্য যারা কাজ করছিলেন, তারা একে একে সবাই বিদায় নিয়েছে৷ প্রতিবাদমুখর যারা ছিলেন, তারাও পিছিয়ে যাচ্ছেন৷ নমিনেশন পেপার যখন বিক্রি হচ্ছে, তখনই ভেবেছি, আমি বাফুফে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের চিন্তা করতে পারি কিনা, আমি নিজে এ পদের উপযুক্ত কিনা৷ তখন মনে হয়েছে, হ্যাঁ, কেন নয়?’’

এক যুগ আগের সালাউদ্দিনের সঙ্গে নিজের বর্তমান অবস্থানের তুলনা করেন মানিক৷ আর তাতে নিজেকে পিছিয়ে রাখছেন না খুব একটা, ‘‘১২ বছর আগে উনি যখন বাফুফে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন, তখন ওনার অবস্থান কী ছিল? উনি বাংলাদেশের গ্রেট এক ফুটবলার৷ কিন্তু সংগঠক ছিলেন না৷ মাঝেমধ্যে কোচিং করিয়েছেন, মাঝেমধ্যে ছেড়ে দিয়েছেন৷ ১২ বছর আগের সালাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার নিজের বর্তমান সময়কে তুলনা করলে উনি শুধু এগিয়ে থাকবেন গ্রেট প্লেয়ার হিসেবে৷’’

নির্বাচনে তাই ‘আউটসাইডার' হয়েও নিজের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখেন মানিক৷ শুধু চান নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়, ‘‘যদি ভোটারদের অনাকাঙ্খিত বা মনের বিরুদ্ধে কিছু না করতে হয়, তাহলে আমার সম্ভাবনা উজ্জ্বল৷ অল্প কিছু ভোটের ব্যাপার তো৷ এর সুযোগ নিতে পারে অনেকে৷ আমি বলছি না, অর্থের বিনিময়ে বা বল প্রয়োগ করে ভোট কিনুক৷ আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি৷ যদি কাউন্সিলররা মনের ইচ্ছে প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে আমার সম্ভাবনা উজ্জ্বল৷’’

এই ইচ্ছের কথা বললে তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সালাউদ্দিনের বিদায়ের পক্ষে সিংহভাগের মত৷ বাফুফে নির্বাচনে যদি এ মতের প্রতিফলন না ঘটে? আরো অনেক কিছুর সঙ্গে বাফুফেতে সালাউদ্দিনের যোগ্য বিকল্পের অভাবের আলোচনাটাও তখন করতে হবে৷

২০১৬ সালের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন