সারা বিশ্বে যৌনরোগ সিফিলিসের সংক্রমণ বাড়ছে | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 16.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

স্বাস্থ্য

সারা বিশ্বে যৌনরোগ সিফিলিসের সংক্রমণ বাড়ছে

যৌনরোগ সিফিলিস কি অতীতের বিষয়? ভুল৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী এই রোগে সংক্রমণের হার ভয়াবহভাবে বেড়েছে৷ জার্মানিতে ১০ বছর আগে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩০৯, এখন তা বেড়েছে হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৬৷

যেসব মানুষ বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করছেন এবং প্রত্যেক শহরে ভিন্ন ভিন্ন শয্যাসঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন, তাঁদের সিফিলিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি৷ ৮০'র দশকে যখন এইডস নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল, সেসময় ‘নিরাপদ যৌনমিলন' মন্ত্রের মতো কাজ করেছিল৷ কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই মন্ত্র থেকে দূরে সরে গেছেন অনেকে৷ যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে যৌন রোগ নিয়ে বর্তমানে কোনো আতঙ্ক নেই আর সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, তা হলো, নিরাপদ যৌন সম্পর্ক নিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অভাব৷

কীভাবে বুঝবেন সিফিলিস হয়েছে?

সিফিলিসে আক্রান্ত হলে একেক জনের একেক রকম উপসর্গ দেখা দেয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলসারের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে৷ এরপর সারাদেহে ব্রনের মতো গুটি দেখা দেয় এবং তা বড় হতে থাকে৷ কোনো কোনোটির আকার এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে৷

পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত পেনিসে আলসার ধরা পড়ে, নারীদের যোনীতে৷ এছাড়া নারী ও পুরুষের পায়ুপথ বা মলদ্বারেও আলসার হতে পারে৷ জার্মানির বোখুমের যৌন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ নোরব্যার্ট ব্রকমেয়ের জানালেন, ‘‘কারো কারো ঠোঁট এবং জিহ্বাতেও আলসার ধরা পড়ে৷ এমনকি আঙুলেও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে৷ এমনটা হলে বুঝতে হবে, সিফিলিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম পর্যায়ে রয়েছেন৷''

অনেক মানুষই এই উপসর্গগুলো বুঝতে না পেরে এগুলো এড়িয়ে চলেন৷ তাঁরা ভাবেন, চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই এগুলো সারিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন৷ তবে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে কোনোরকম ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই আলসার সেরে যায়৷ কিন্তু তখন সারা শরীরে ফোসকা বা গুটি দেখা দেয়৷ কোনোটি লাল, কোনোটি গোলাপি আর কোনোটা পোড়া ফোস্কার মতো৷ হাতের তালুতেও দেখা দেয় এই ফোস্কা৷ তবে এগুলোতে কোনো চুলকানি হয় না, অ্যালার্জিতে সাধারণত যেটা হয়ে থাকে৷ এটা রোগের দ্বিতীয় পর্যায়৷

তৃতীয় পর্যায়ে এসে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়, যেমন শ্বাসতন্ত্র, পাকস্থলী, যকৃত, মাংসপেশী এবং হাড়৷ সবচেয়ে ভয়াবহ হলো যখন সিফিলিস প্রধান আর্টারিকে আক্রান্ত করে৷ এসময় প্রাণ-সংশয় দেখা দিতে পারে৷

সিফিলিস শরীরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে৷ চতুর্থ পর্যায়ে হৃদপিণ্ডে জ্বালাপোড়া শুরু হয়, যকৃত বা লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, শরীরের কিছু অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে এবং মস্তিষ্কে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়৷ এছাড়া এই রোগে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, স্নায়ুকোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ চিন্তাধারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যেটি দেখা গেছে বিখ্যাত সুরস্রষ্টা বেটোফেনের ক্ষেত্রে৷ 

সিফিলিস থেকে মুক্তির উপায়

বেশিরভাগ প্রাণঘাতী রোগ নিয়ে আমাদের সমাজে ট্যাবু রয়েছে৷ যখনই মানুষ জানতে পারে রোগটি যৌন মিলনের ফলে এক দেহ থেকে অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ে, ঐ ব্যক্তির প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়৷ এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে রাজি হয় না৷ বরং এটাকে গোপন রাখতে চায়৷ একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসেনি৷ বর্তমান সমাজে এইচআইভি সিফিলিসের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে৷ ব্রকমেয়ের জানালেন, তিনি যখন ১০০ মানুষকে এইচআইভি সম্পর্কে একটি টেলিভিশন আলোচনায় অংশ নেয়ার ব্যাপারে মতামত জানাতে বলেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন৷ অন্যদিকে সিফিলিসের ব্যাপারে আলোচনায় অংশ নিতে একজনও রাজি হননি৷ সিফিলিস রোগ থেকে পরিত্রাণের প্রধান উপায় হলো সচেতনতা৷ এছাড়া বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের কথাও ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা৷

ইউরোপে কীভাবে সিফিলিস এলো

ইউরোপে সিফিলিস কীভাবে এসেছে, এ নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে৷ একটি হলো: কলম্বাস এবং তাঁর সঙ্গীরা অ্যামেরিকা আবিষ্কারের পর ১৯৪২ সালে স্পেনে ফেরার পথে এ রোগ নিয়ে আসেন৷ সেখান থেকে ইটালি, ফ্রান্স হয়ে পুরো ইউরোপে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল এটি৷ ইউরোপে রোগটি ‘ফরাসি রোগ' হিসেবে পরিচিত৷  এরপর রোগটি এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে৷ এমনকি যুদ্ধের সময় যেসব যৌনকর্মী সিফিলিসে আক্রান্ত, শত্রুপক্ষের কাছে তাঁদের গোপনে চালান করতো অন্য পক্ষ৷ এটকে তারা বলতো ‘লাভ ম্যাসেজ' বা প্রেমের বার্তা৷ এর ফলে সেই যুদ্ধ জয়ের ঘটনার উল্লেখ আছে অনেক বইতে৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই আজ সিফিলিসের কথা ভুলে গেছেন, কিন্তু সিফিলিস হারিয়ে যায়নি, বরং তা ভয়ঙ্কর রূপে হাজির হয়েছে৷ এই রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে শিক্ষা, কাউন্সেলিং, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা এবং থেরাপি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা৷ সবচেয়ে জরুরি হলো যৌনমিলনের সময় কনডমের ব্যবহার৷ এটি এইচআইভিসহ বিভিন্ন যৌন রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে৷ কিন্তু এই রোগকে চিরতরে দূর করতে আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্রকমেয়ের এবং সেজন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন৷ তাঁরা একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে চান৷ কিন্তু এরজন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, সেটা নেই৷

আপনার মতামত লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

গুডরুন হাইসে/এপিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন