সাম্বা সুরের ব্রাজিলের অপেক্ষায় | বিশ্ব | DW | 04.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্বকাপ

সাম্বা সুরের ব্রাজিলের অপেক্ষায়

এ গল্পটি এক জাদুর বাক্সের৷ এ গল্পটি রেডিও-র৷ সময়ের ইথারের তরঙ্গ ভিন্ন, কিন্তু স্টেশন অভিন্ন৷ মহাকালের আলাদা ঘটনা, তবে গল্প একই৷ শব্দের পিঠে শব্দের এলিয়ে থাকার মতো স্বপ্নের ফোঁড়ে স্বপ্নের বুনন যেখানে৷ পিতা ও পুত্রের৷

আর তাতেই একাকার ব্রাজিলের ১৯৫০, ১৯৭০ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ!

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ছিল যেন ব্রাজিলের ফুটবল-বিশ্বে সম্রাটের আসনে অধিষ্ঠানের উপলক্ষ৷ নিজ দেশের আয়োজন, সেজন্য তৈরি করা হয় মারাকানার ফুটবলতীর্থ৷ একে একে সব বাধা টপকে চূড়ার কাছে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা৷ জুলেরিমে ট্রফির উড়ে যাওয়া পরীকে মুঠোবন্দি করা তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার৷ ঠিক আগের দুই ম্যাচে ১৩ গোল দিয়েছে যে দল, তাঁরা কী আর উরুগুয়ের সঙ্গে নূন্যতম ড্র-ও করতে পারবে না!

‘ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন' বিজয় সংগীত তাই তৈরি; সাম্বার তালে তালে তা বাজানোর জন্য প্রস্তুত ব্যান্ড দল৷ সংবাদপত্রের শিরোনামও ছাপা হয়ে যায়, 'চ্যাম্পিয়নস অব দ্য ওয়ার্ল্ড'৷ মারাকানায় দুই লাখ সমর্থকের রূপালি মিছিলের মুহুর্মুহু স্লোগান সেই স্বর্ণালি মুহূর্তের সাক্ষী হবার জন্য৷ যাঁরা যেতে পারেননি, তাঁদের কান পাতা রেডিওর ধারাভাষ্যে৷ কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে উরুগুয়ে যখন ২-১ গোলে জিতে যায়, শোকে নিস্তব্ধ গোটা ব্রাজিল৷ দোনদিনিয়োর চোখেও এক সমুদ্র জল৷ তখনই তাঁর ৯ বছরের ছোট্ট ছেলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে প্রতিশ্রুতি দেয়, ‘‘কেঁদো না বাবা, তোমার জন্য একদিন আমি ওই ট্রফি নিয়ে আসবোই৷'' 

৯ বছরের সেই ছেলেটিই পেলে, ৮ বছর পর ১৯৫৮ আসরে ঠিকই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান যিনি৷

পেলের ব্রাজিল এরপর বিশ্বকাপ জেতে আরো দু'বার৷ ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে৷ রেডিও-র পরের গল্পটি ওই সর্বশেষ আসরের৷ সেখানে ৯ বছরের আরেকটি ছেলে রেডিও শুনছিল বাবার সঙ্গে৷ ১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল৷ সেই ব্রাজিল-উরুগুয়ে৷ আগে গোল খেয়ে ‘সেলেসাও'রা পিছিয়ে পড়ার পর স্বপ্নকে শ্বাসবন্দি করে রেডিওর ধারাভাষ্যে সমস্ত মনোযোগ ছেলেটির৷ অপেক্ষা সেই অলৌকিক জাদুকরী শব্দগুচ্ছের৷ প্রথমার্ধ শেষ হবার ঠিক আগ মুহূর্তে যখন ধারাভাষ্যকার চিত্‍কার করে উঠলেন, ‘‘তোস্তাও... ক্লোদোয়ালদো... ক্লোদোয়ালদোদোদোদোদো'– তখন উল্লাসে নেচে ওঠে বাবা-ছেলে৷ সৌভাগ্য যে, ১৯৫০-এর মতো ট্র্যাজেজির আগুনে সেবার পুড়তে হয়নি ব্রাজিলকে৷ সেমিফাইনালের পর ফাইনাল জিতে জুলে রিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয় চিরতরে৷
আর ৯ বছরের সেই ছেলেটি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে চড়ানোর৷ কিন্তু ২৭ বছর বয়সেই বিসর্জন দিতে হয় সে স্বপ্ন৷ হাঁটুতে সাত সাতটি অস্ত্রোপচারে থমকে যায় ক্যারিয়ার৷ স্বপ্নের প্রজাপতি ডানা এলিয়ে পড়ে যায়; কিন্তু শীঘ্রই আবার তা উড়তে শুরু করে ভিন্ন এক বাগানে৷
আর ঠিকই তো ১৯৭০ বিশ্বকাপে ক্লোদোয়ালদোর গোল রেডিওতে শুনে উদ্বেলিত ৯ বছরের সেই ছেলে আদেনর লিওনার্দো বাচ্চি ‘তিতে' এখন এই ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্বপ্নসারথি৷ ব্রাজিলের কোচ হিসেবে৷
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আরেকবার বিশ্বসেরা করার অভিযান এখন তিতের৷ আর তাঁর দল যেমন ফর্ম নিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ায়, তাতে তাঁদের উপেক্ষর উপায় নেই মোটেও৷
অথচ এই ব্রাজিল কেমন তাচ্ছিল্যের শিকারই না হযেছিল! হয়ে উঠেছিল উপহাসের উপলক্ষ৷ তা সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও! ২০১৪ বিশ্বকাপে সুযোগ আসে ৬৪ বছর আগের অভিশপ্ত ‘মারাকানাসো'-কে কবরচাপা দেয়ায়৷ অথচ ওই ট্রাজেডির সৌধে যোগ হয় নতুন মিনার– ‘মিনেইরাসো'৷ নিজ দেশের আরেক বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে বিধ্বস্ত হবার লজ্জা৷ এখানেই শেষ নয়৷ ধারাবাহিকতায় ২০১৫ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৬ আসরের প্রথম রাউন্ডে বাদ হবার পর ব্রাজিল ফুটবলের এপিটাফই যেন লেখা হয়ে যায়৷

ফুটবলতীর্থের ত্রাতা হয়ে তখনই প্রবেশ তিতের৷
২০১৪ বিশ্বকাপ শেষে মনের কোণে আশা ছিল তাঁর– ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন হয়তো দায়িত্ব দেবে৷ দেয়নি৷ কী এক উদ্ভট কারণে ২০১০ বিশ্বকাপ কোচ কার্লোস দুঙ্গাকে ফিরিয়ে আনে তাঁরা৷ সৌন্দর্যের সঙ্গে আপোশ করে হলেও তাতে যদি শিরোপার দেখা মেলে! মেলেনি৷ পর পর দুটি কোপা অ্যামেরিকার বিপর্যর এর সাক্ষী৷ আর লাতিন অ্যামেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যখন ৬ রাউন্ড শেষে ৬ নম্বরে ব্রাজিল, আতঙ্কের চোরাস্রোত তখন স্রোতস্বিনীর বেগে প্রবাহমান৷ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো না বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতেই না ব্যর্থ হয় ব্রাজিল!

তিতে তাড়ালেন সে ভয়৷ দায়িত্ব নেবার পর প্রথম ম্যাচেই ইকুয়েডরকে ব্রাজিল হারায় ৩-০ গোলে৷ এমনিতে মনে হতে পারে, এ আর এমন কী! কিন্তু যখন জানবেন খেলাটি ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঢের উপরের ইকুয়েডরের মাটিতে, তখন নড়েচড়ে বসবেন কিছুটা৷ আর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের হতশ্রী অবস্থা জানলে আরো বেশি৷ দুঙ্গার অধীনের ৬ ম্যাচে দুই জয়, তিন ড্র আর এক হারে মোটে ৭ পয়েন্ট ছিল সেলেসাওদের৷ তিতের অধীনে সেই যে জয়যাত্রা শুরু, রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিজয়ের ওই ক্যারাভান থামানো যায়নি৷


শেষ ১২ ম্যাচে তাই ব্রাজিলের ১০ জয়, ২ ড্র৷ গোল দিয়েছে ৩০টি, হজম করেছে মোটে তিনটি৷ পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে পড়ে থাকা দলটির এই দৌর্দণ্ড প্রতাপে চার রাউন্ড বাকি থাকতেই নিশ্চত হয়ে যায় রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা৷ ভাবা যায়!
শুধু যে ম্যাচের পর ম্যাচ জিতেছে ব্র্রাজিল, তা নয়৷ জিতে নিয়েছে হৃদয়ও৷ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ‘জোগো বোনিতো'র সুর ফিরছে আবার৷ হয়তো পেলে-গারিঞ্চা-ভাভা-ডিডি'দের ঝংকারে কিংবা পেলে-রিভেলিনো-জেয়ারজিনহো-তোস্তাওদের কাব্যময়তা অথবা জিকো-সক্রেতিস-ফালকাওদের অর্কেস্ট্রায় নয়৷ তবে কাউন্টার অ্যাটাকের আবেশে থাকা ব্রাজিলকে আবারো পাসিং ফুটবলে ফিরিয়েছেন তিতে৷ ফিরেছে সাম্বার ছন্দ৷ সৌন্দর্যের পূজারিদের মন ভরানোর প্রতিশ্রুতি থাকছে তাই রাশিয়া বিশ্বকাপে৷ 
এখানে তিতের তুরুপের তাস নিঃসন্দেহে নেইমার৷ আবার একইসঙ্গে নেইমারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও নেই এখন আর ব্রাজিলের৷ কোচের ক্যারিশমাটা এখানেই৷ দুঙ্গা কিংবা তাঁর আগের কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি এ জায়গায় ছিলেন অসহায়৷ তাই তো এক নেইমারের বিদায়ে গেল বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে অমন কলঙ্কিত অধ্যায়৷ দুঙ্গাও পারেননি এ নির্ভরতা কমাতে৷ তাঁর সময়ে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল নেইমারের, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফিলিপে কৌতিনিয়োর গোল মোটে চার৷ এ অতিরিক্ত চাপে প্রায়শ দুমড়ে-মুচড়ে যেতেন ওই ফরোয়ার্ড৷ ওই পজিশনে থেকেও তাই দুঙ্গার সময়ে ব্রাজিলের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি পাঁচ হলুদ ও এক লাল কার্ড নেইমারের৷
তিতে এসে সে চাপ সরিয়ে নেন নেইমারের উপর থেকে৷ তাতে ব্যক্তিগত গোল কমেছে হয়তো, তবে সামগ্রিক খেলায় এই প্লে-মেকার হয়ে উঠেছেন আরো ভয়ঙ্কর৷ গোলে, অ্যাসিস্টে, আক্রমণভাগে খেলা তৈরিতে৷ সৃজনশীলতার ফুল ফুটছে তাঁর পায়ের জাদুতে৷ ইনজুরির কারণে গেল ফেব্রুয়ারির পর থেকে মাঠে না থাকা একটা দুশ্চিন্তা বটে৷ তবে চিকিত্‍সকরা আশ্বাস দিচ্ছেন, বিশ্বকাপের আগেই নেইমারের পুরোপুরি সেরে ওঠার৷ আর তাঁর ওপর তো ব্রাজিলের সেই ‘নেইমারডিপেনডেনসিয়া'ও নেই৷ প্রমাণ? তাঁকে ছাড়াই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে মার্চের প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের জয়৷ ৭-১ গোলের সেই ভুতুড়ে রাতের পর দুই দলের প্রথম দ্বৈরথে৷নেইমারহীন ব্রাজিলের এমন জয় বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি আরো উসকে দিচ্ছে নিঃসন্দেহে৷
তিতের দলে এখন গোল করার জন্য কেবল নেইমার নন, রয়েছেন অনেকে৷ তাঁর অধীনে খেলা ১৯ ম্যাচে ব্রাজিলের মোট গোল ৪২; মোট গোলদাতা ১৪ জন৷ এর মধ্যে গাব্রিয়েল জেসুসের ৯; নেইমার-পাউলিনিয়োর ৭টি করে, ফিলিপে কৌতিনিয়োর ৫, মিরান্দা-উইলিয়ান-মার্সেলো-সৌজার দুটি করে এবং ফিলিপে লুইস, রবের্তো ফিরমিনো, রেনাতো অগুস্তো, দুদু, থিয়াগো সিলভা ও তাইসনের একটি করে গোল৷
আলাদা করে অবশ্য উল্লেখ করতেই হয় গাব্রিয়েল জেসুসের কথা৷ তিতের সেরা আবিষ্কার এই স্ট্রাইকার৷ বিশ্বফুটবলে যুগে যুগেই তো বিশ্বমানের স্ট্রাইকার উপহার দিয়ে এসেছে ব্রাজিল৷ সেটি পেলে-জিকো থেকে শুরু করে আধুনিক সময়ে রোমারিও-বেবেতো-রোনালদো-আদ্রিয়ানো পর্যন্ত৷ অথচ কী আশ্চর্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুৎসই কোনো ‘নাম্বার নাইন' খুঁজে পাচ্ছিলো না ব্রাজিল৷ তাই তো ২০১০ বিশ্বকাপের লু্ইস ফাবিয়ানো আর ২০১৪ আসরে ফ্রেদের উপর ভরসা রাখতে হয়, যাঁদের মান গড়পড়তার চেয়ে ভালো নয় কিছুতেই৷ 


তিতে তাঁর প্রথম ম্যাচেই অভিষেক করিয়ে দেন জেসুসকে৷ বদলি হিসেবে যখন মাঠে নামেন এই স্ট্রাইকার, ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ তখনো গোলশূন্য সমতায়৷ নেমেই জেসুস পেনাল্টি আদায় করে নেন, যা থেকে গোল নেইমারের– পরে নিজে করেন আরো দুই গোল৷ ব্রাজিলের জয়রথ যেমন থামেনি এরপর, তেমনি থামানো যায়নি জেসুসকেও৷ ১০ খেলায় ৭ গোল করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি৷ তিতের অধীনে খেলা ম্যাচগুলোতেও তাই৷

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গোলের ভরসা হয়ে থাকবেন তাই জেসুস৷ রোমারিও-রোনালদোদের যোগ্য উত্তরসূরী হবার প্রতিশ্রুতি তাঁর খেলায়৷ অন্তত গোলের দিক দিয়ে৷
তিতের ব্রাজিলের আরেকটি বড় শক্তি কোচ হিসেবে নিজের দর্শনের প্রতিফলন দলের খেলায় রাখতে পারা৷ তিনি জানেন, কীভাবে খেলাতে চান৷ খেলোয়াড়দের চেনেন হাতের তালুর মতো৷ তাই তো বিশ্বকাপ শুরুর চার মাস আগে সেই ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করে দিয়েছেন ২৩ জনের মধ্যে ১৫ জনের নাম৷ আরেকটু বাজিয়ে দেখার জন্য উন্মুক্ত থাকে আট জনের জায়গা৷ দানি আলভেস ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলে সেই ৮ হয় ৯৷ কিন্তু তাতেও ২৩ জনের স্কোয়াড সরাসরি জানিয়ে দেয়ায় দ্বিধা ছিল না তিতের, যেখানে আর্জেন্টিনা কোচ হোর্হে সাম্পাওলি আগে ৩৫ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করে পরে তা কমিয়েছেন ২৩-এ৷

এবার তিতের সেই চূড়ান্ত স্কোয়াডে চোখ বোলানো যাক একবার৷ গোলবারের নীচে রোমার আলিসন প্রথম পছন্দ; বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে যিনি স্বীকৃত৷ দ্বিতীয় পছন্দের এদেরসনও অনায়াসে জায়গা করে নেবেন অনেক বড় বড় পরাশক্তিদের একাদশে৷ তৃতীয় গোলরক্ষক করিন্থিয়ানসের কাসিও৷ সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মারকুইনোস, মিরান্দা, থিয়াগো সিলভার মধ্যে একাদশে থাকবেন দু'জন৷ ব্যাকআপ হিসেবে চতুর্থজন গ্রেমিওর পেদ্রো গেরোমেল৷ লেফট ব্যাকে মার্সেলো, তাঁর বিকল্প ফিলিপে লুইস৷ রাইট ব্যাকে আলভেসের হঠাত্‍ ইনজুরি ঝামেলায় ফেলেছে কিছুটা৷ এখানে দানিলো-ফাগনেরে ভরসা তিতের৷

৪-৩-৩ ফর্মেশনে ব্রাজিলকে খেলাচ্ছেন কোচ৷ মাঝমাঠের তিনে কাসেমিরো, পাউলিনিয়োর জায়গা প্রশ্নাতীত৷ প্রথমজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে বিশ্বের অন্যতম সেরা; পরেরজনের পুনর্জন্ম তিতের স্পর্শে৷ ব্রাত্য এই পাউলিনিয়ো যখন চাইনিজ লিগে খেলেন, তখন তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়েছেন কোচ৷ প্রতিদান দিতে একদমই দেরি করেননি শিষ্য৷ এমনকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুরয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছেন৷ মাঝমাঠের ত্রিভুজে শেষ বাহু হিসেবে রেনাতো অগুসস্তোরই খেলার কথা ছিল৷ কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটিতে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটানোর পর ফের্নানদিনিয়ো উঠে এসেছেন কোচের পছন্দের তালিকায়৷ আর তিন ফরোয়ার্ডে নেইমার-জেসুস-কৌতিনিয়ো তো ভয়ঙ্কর ত্রিরত্ন৷

এই মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগেও তিতের হাতে বিকল্পের অভাব নেই৷ যদি উইঙ্গারের প্রয়োজন পড়ে, উইলিয়াম ও দগলাস কোস্তা আছেন৷ জেসুসের বদলি হিসেবে রবের্তো ফিরমিনো৷ সৃজনশীলতার প্রয়োজনে কৌতিনিয়োকে একটু নীচে নামিয়ে খেলানো যায়৷ সেখানে শারীরিক উপস্থিতির দরকারে রয়েছেন ফ্রেদ৷ ফরোয়ার্ড লাইনে যেমন তাইসন৷ 

Noman Mohammad

নোমান মোহাম্মদ, ক্রীড়া সাংবাদিক

এই ব্রাজিলকে রোখা তাই বড্ড কঠিন হবে অন্য দলগুলোর জন্য৷

বিশ্বকাপে 'ই' গ্রুপে ব্রাজিল৷ সেখানে তাঁদের সঙ্গী সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা ও সার্বিয়া৷ প্রত্যাশামতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়নই তো হবার কথা, যেমনটা 'এফ' গ্রুপে হবে হয়তো জার্মানি৷ তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওই গ্রুপের রানার্সআপের সঙ্গে দেখা হবে হলুদ জার্সিধারীদের– মেক্সিকো, সুইডেন বা দক্ষিণ কোরিয়া৷ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা বেলজিয়াম৷ সে বাধা টপকানোও খুব কঠিন নয়৷ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে হয়তো তাঁরা ফ্রান্সের৷ এরপর ফাইনাল৷
ড্র-তে আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন পড়েনি ব্রাজিলের দিকে৷ ফাইনালের আগে শিরোপার বড় দাবিদার এই তিন দলের সঙ্গে দেখা হবে না হয়তো তাদের৷ অবশ্য সেজন্য এই দলগুলোকে নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হবার দাবি মেটাতে হবে আগে৷
সে যা-ই হোক, ব্রাজিলের কাছে এবার ইতিহাসের দায়মোচনের দাবি৷ আর এর চাবিটা তিতের হাতে; বলা ভালো তাঁর মস্তিষ্কে৷ এই ব্রাজিলের রয়েছে নেইমারের মতো অবিশ্বাস্য ফুটবল-প্রতিভা৷ রয়েছেন জেসুস-কৌতিনিয়ো-কস্তা-পাউলিনিয়ো-কাসেমিরো-আলিসনরা৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্রাজিল তিতের৷ সেলেসাওরা গ্রহণকাল কাটিয়েছে যে কোচের জাদুকরী স্পর্শে৷ এবার পূর্ণচন্দ্রে উদ্ভাসিত হবার অপেক্ষা৷
১৯৫০ বিশ্বকাপে রেডিওর তরঙ্গে বাবার দুঃখের সঙ্গী ৯ বছরের পেলে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন৷ ১৯৭০ বিশ্বকাপে বেতারের ইথারে বাবার আনন্দের সঙ্গী ৯ বছরের তিতে কি পারবেন এবার ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে?
ব্রাজিলের ৯ বছরের অনেক ছেলে কিন্তু এই ২০১৮ সালেও রেডিওতে কান পেতে রইবে!

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়