সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে সরকার আপস করছে: বিচারপতি মানিক | আলাপ | DW | 20.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে সরকার আপস করছে: বিচারপতি মানিক

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক৷ তার নেতৃত্বে গণকমিশন সম্প্রতি ১১৬ জন ‘ইসলামি বক্তাকে' চিহ্নিত করেছে ‘ধর্ম ব্যবসায়ী' হিসেবে৷ তাদের তালিকা তারা দুদকেও জমা দিয়েছেন৷

সেই তালিকা নিয়ে তিনি ডয়চে ভেলেকে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন৷

ডয়চে ভেলে: আপনারা ১১৬ জন ‘ধর্ম ব্যবসায়িকে' চিহ্নিত করেছেন৷ তাদের সমস্যা কী, কেন চিহ্নিত করেছেন?

সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক: তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছি৷ তার মধ্যে একটি হচ্ছে মানিলন্ডারিং৷ তারা বিদেশি মৌলবাদী সংস্থা থেকে পয়সা নিচ্ছে৷ পাকিস্তান দূতাবাস, পাকিস্তানের গোয়েন্দা আইএসআই থেকে নিচ্ছে৷ দুর্নীতির সংজ্ঞা অনেক বড় ও বিস্তৃত৷ তারা দেশে ঘৃণা ছড়াচ্ছে৷ অন্য ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে৷ সম্প্রীতি নষ্ট করছে৷ মহিলাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে৷ মহিলারা যাতে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে না পারে সেই অবস্থা সৃষ্টি করছে৷ বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কথা বলছে৷ তারা বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংস করে তালেবানি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে৷ তারা সকলেই কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি৷ তারা বাংলাদেশ চায়নি৷

তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগও করেছেন৷ এটা আপনারা কীভাবে বের করেছেন?

আমরা গত বছর হিন্দুদের ওপর নির্যাতন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন জেলা সফর করেছি৷ ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিয়েছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিয়েছি, দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছি৷ ধর্ম ব্যবসায়ীদের ওয়াজ শুনেছি৷ ধর্ম আর ধর্ম ব্যবসায়ী এক নয়৷ আমরা যাদের নাম দিয়েছি এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের কেউ একলাখ টাকা নেয়৷ কেউ ৭০, কেউ ৮০ হাজার টাকা নেয়৷ এটা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম৷ সেই অর্থে তো তারা ইসলামের বিরোধিতা করছে৷ তারা ট্যাক্স দেয় না৷ তারা আসলে ধার্মিক না, ধর্ম ব্যবসায়ী৷

আপনারা দুদক ছাড়া আর কোথাও অভিযোগ দিয়েছেন?

আমরা হোম মিনিস্টারের কাছে তিন মাস আগেই দিয়েছি৷ তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলেও জানিয়েছেন৷

অডিও শুনুন 22:09

সরকার এদের সাথে আপসমূলক ভূমিকা দেখাচ্ছে: বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক

আপনারা শুধু ইসলামি বক্তাদের ব্যাপারেই বলেননি, প্রশাসনিক লোকজনের ব্যাপারেও কথা বলেছেন৷ সেটা কেন?

আমরা নোয়াখালীর ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি৷ এরইমধ্যে সরকার তাকে অপসারণ করেছে৷ আমরা বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি৷ যারা এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল৷ তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে৷ সুনামগঞ্জের জেলা জজ, সে এক বছর ঝুমন দাসকে জামিন দেয়নি৷ কিন্তু অপরাধীদের তিন-চার দিনের মধ্যে জামিন দিয়েছে৷

কত দিনে আপনারা এই কাজটি করেছেন?

৯ মাস৷ কুমিল্লার ঘটনার পর৷ এখানে একটা কথা বলতে চাই৷ আমরা আনন্দিত যে একজন ধর্ম ব্যবসায়ী, আব্বাসি যার নাম৷ সে রাজাকারের বংশধর৷ তার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে মামলা হয়েছে৷ সে কিন্তু কুমিল্লার ঘটনার পরই বলেছিল এটা হিন্দুরা করেছে৷ তারপর সারাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়৷ তার বিরুদ্ধে আগেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিলো৷ আরেকজন পীর আছেন৷ হেলিকপ্টার হুজুর নামে আরেক ধর্ম ব্যবসায়ীর কথায় এহসান গ্রুপে মানুষ ১৭ হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়৷

আপনারা তো নাগরিক হিসেবে কাজ করছেন৷ কিন্তু সরকার বা সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আগে ব্যবস্থা নেয়নি কেন?

এটা দুর্ভাগ্যজনক৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতেও তারা ঢুকে পড়েছে

সরকারেরও তো দায়িত্ব আছে?

হ্যাঁ সরকারের দায়িত্ব আছে৷ এই আপসের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান৷ এরা বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারকে ভোট দেবে না৷ এরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র হোক চায়নি৷ তারা এখন তালেবানি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়৷ আমরা এদের সাথে আপসের বিরুদ্ধে৷

এদের সাথে কারা আপস করছে? সরকার কি আপস করছে?

হ্যাঁ অবশ্যই৷ অবশ্যই সরকার এদের সাথে আপসমূলক ভূমিকা দেখাচ্ছে৷

সেটা কী রকম?

এই যেমন সরকার হেফাজতের অনেক দাবি মেনে নিয়েছে৷ তাদের দাবি মেনে নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন করা হয়েছে৷ এদের ধরা হচ্ছে না৷ এই যে ওয়াজে তারা প্রতিদিন বিদ্বেষ ছাড়াচ্ছে এটা তো অপরাধ৷ কিন্তু সরকার তাদের ধরছে না৷

যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন তারা প্রশ্ন তুলেছেন এই তদন্তের অথরিটি আপনাদের নেই৷ তাহলে আপনারা কারা?

অবশ্যই আমাদের অথরিটি আছে৷ তারা হিন্দুদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে৷ মন্দির ভেঙেছে৷ দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা এগুলো দেখব না?

আব্বাসি সাহেব তো অভিযোগ করেছেন আপনারা ‘নাস্তিকতা' প্রচার করছেন?

আমরা মোটেই নাস্তিকতা প্রচার করছি না৷ আমরা ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলছি৷

তিনি বলেছেন আপনারা ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করছেন?

মোটেও না৷ আমরা ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলছি৷

ইসলামি বক্তাদের' কেউ কেউ বলছেন তারা নাস্তিকদের তালিকা প্রকাশ করবেন৷ সেটাকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

তারা যে ধর্ম ব্যবসায়ী সেটা পুরো জাতি জানে৷ তাই তাদের এই তালিকায় কিছু আসে যায় না৷

আপনারা তো তাদের বিরুদ্ধে ইসলামের অপব্যাখ্যারও অভিযোগ করেছেন৷ আপনাদের কমিটিতে কি কোনো ইসলামি চিন্তাবিদ ছিলেন? ইসলামি চিন্তাবিদদের কোনো মতামত নিয়েছেন?

আমাদের কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ৩২ জন নাগরিক আছেন৷ তাদের মধ্যে একজন ইসলামি মাওলানাও আছেন৷ আইন ও সামাজিক বিশেষজ্ঞ আছেন৷ ঘতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রাধান্য আছে, যারা গত কয়েক দশক ধরে এই ধরনের গবেষণা করছেন৷ পাঁচজন সংসদ সদস্য আছেন৷ আছে মাইনরিটি ও আদিবাসী ককাস৷ আমি আরেকটু অ্যাড করতে চাই৷ প্রতিদিন পত্রিকা খুললে দেখতে পাই মাদ্রাসার শিক্ষকরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বলাৎকার করছে৷ অধিকাংশ মাদ্রাসা বলাৎকারের কারখানা৷ এদেরকে আপনি ধার্মিক বলবেন?

বলাৎকার, ধর্ষণ তো মাদ্রাসার বাইরেও হয়৷ সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হয়?

না না৷ আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখি বলাৎকার মাদ্রাসায় হয়৷

জঙ্গিবাদের বিষয়ে হলি আর্টিজানের ঘটনায় তো আমরা ইংরেজি স্কুলে পড়াশুনা করা তরুণদের জড়িত হতে দেখেছি?

তারা ইংরেজি স্কুলে পড়াশুনা করেছে সত্য, তবে তারা বলেছে তারা জাকির নায়েকের কথায় প্রভাবিত হয়েছে৷ তারা আমাদের ওয়াজ ব্যবসায়ীদের কথায় প্রভাবিত হয়েছে৷ এটা প্রমাণিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাদের ব্রেইন ওয়াশ করেছে৷

আপনাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন তারা?

হ্যাঁ তারা আমার মুন্ডু চাইছে৷ আমার মুন্ডুর বিনিময়ে যদি বাংলাদেশ মৌলবাদমুক্ত হয় তাহলে আমি খুশি৷ আমি আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে ফাঁসি দিয়েছি৷ অন্য তিনজন বিচারক আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন৷ ফলে তার ফাঁসি হয়নি৷ আমি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় দিয়েছি৷ তা কার্যকর হয়েছে৷ তখনো আমি নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম৷ কিন্তু আমি ভয় পাইনি৷ মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমার লড়াই অব্যাহত থাকবে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়