‘সামাজিক ব্যবসা’ নিয়ে হাইতিতে অধ্যাপক ইউনূস | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

‘সামাজিক ব্যবসা’ নিয়ে হাইতিতে অধ্যাপক ইউনূস

ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হাইতি সফর করলেন অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস৷ শান্তিতে নোবেল জয়ী এই অধ্যাপক এবার হাইতিতে চালু করছেন ‘সামাজিক ব্যবসা’৷

জুরিখে ‘ওয়ান ইয়াং ওয়ার্ল্ড ফোরাম’এ নওমি কনরাড এর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস (ফাইল ফটো)

জুরিখে ‘ওয়ান ইয়াং ওয়ার্ল্ড ফোরাম’এ নওমি কনরাড এর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস (ফাইল ফটো)

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের পর অধ্যাপক ইউনূস এর ব্যস্ততা যেন আরো বেড়েছে৷ ক্ষুদ্রঋণ এর পর এবার সামাজিক ব্যবসাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশের এই অর্থনীতিবদ৷ এজন্য গত সপ্তাহে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত হাইতি সফর করেন তিনি৷ শুক্রবার হাইতিতে এক সম্মেলনে সেদেশে সামাজিক ব্যবস্থা চালুর বিভিন্ন উপায়ের কথা জানালেন ইউনূস৷

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা জানান, ৪২ জন অশিক্ষিত নারীর প্রত্যেককে ২৭ মার্কিন ডলার করে ধার দিয়ে গ্রামীণ ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তিনি৷ এই অর্থ দিয়ে অন্যান্য ঋণ শোধ করেছিল সেই নারীরা৷ বাংলাদেশে শক্তি দই উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টিহীনতা দূরের বিষয়টিও তুলে ধরেন ইউনূস৷ সামাজিক ব্যবসার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন এই নোবেল জয়ী৷

হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স'এর একটি হোটেলে ইউনূসের সম্মেলন কক্ষে হাজির ছিলেন অনেক মানুষ৷ এদের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং উন্নয়নকর্মীরাও ছিলেন৷ হাইতিতে এটিই তাঁর প্রথম সফর৷ তবে ভবিষ্যতে সেদেশে আরো সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস৷

ভূমিকম্পের পর গত বছর হাইতিতে কার্যক্রম শুরু করে গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ল্যাব৷ জার্মানিভিত্তিক এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূস৷ এই সংস্থা হাইতির একটি কারিগরি এবং কম্পিউটার শিক্ষা কেন্দ্রকে প্রাথমিক খরচ হিসেবে আশি হাজার মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে৷ চলতি বছর সেদেশে এরকম আরো কয়েকটি সামাজিক ব্যবসায় অর্থ সরবরাহ করবে গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ল্যাব৷

Flash-Galerie Muhammad Yunus

বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন অধ্যাপক ইউনূস

অধ্যাপক ইউনূস এর এই প্রতিষ্ঠান মূলত ‘সামাজিক ব্যবসা'য় সহায়তা প্রদান করে৷ এই সংস্থা দশ হাজার থেকে এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ প্রদান করে থাকে৷ ব্যবসার ধরন এবং ঝুঁকি বিবেচনা করে এই ঋণের সূদের হার এবং মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়৷

সামাজিক ব্যবসার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা পুনরায় একই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা৷ এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান নিজের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমাজকেও এগিয়ে নিতে পারে৷ বিশেষ করে ক্ষুধা এবং বেকারত্বের মত সামাজিক সমস্যাগুলো দূরে সহায়তা করতে পারে সামাজিক ব্যবসা৷

দারিদ্র দূরীকরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছেন প্রফেসর ইউনূস৷ সম্প্রতি তিনি হাইতির পুনর্গঠনে গঠিত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বোর্ডে যোগ দিয়েছেন৷ অর্থনৈতিক বিষয়ে হাইতির প্রেসিডেন্ট মিশায়েল মার্টিলিকে সহায়তা করছে এই এ বোর্ড৷ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ আরো অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রয়েছেন বোর্ডে৷

হাইতির ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ন্যাশনাল প্যালেসেই গত বৃহস্পতিবার প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর উপদেষ্টারা৷ ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ন্যাশনাল প্যালেস৷ সেটি এখনও পুরোপুরি সংস্কার করা হয়নি৷

অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, আশির দশকে তিনি যে ক্ষদ্রঋণ চালু করেছিলেন তার থেকে সামাজিক ব্যবসার ধারণা ভিন্ন৷ বলাবাহুল্য ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণা বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েক দেশে সফলতা পায়৷ এখন অবশ্য নিজের দেশেই অনেক সমালোচনা শুনতে হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল জয়ীকে৷

হাইতিতে অনেকেই সামাজিক ব্যবসার প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷ সেখানে ইউনূসকে স্টিভ জবস এর মতই কর্মক্ষম বলে আখ্যা দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা৷ তবে ইউনূসের এই ধারণা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ৷ এদেরই একজন স্টেনিলি পিয়েরি৷ ২৫ বছর বয়সি এই শিক্ষার্থীর বক্তব্য হচ্ছে, হাইতিতে একজন তরুণ উদ্যোক্তার পক্ষে সামাজিক ব্যবসা করা সম্ভব নয়৷ বিশেষ করে উদ্যোক্তার ব্যবসা সত্যিকার অর্থে সফল না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক চিন্তা করার সুযোগ নেই৷ কেননা, হাইতির তরুণদেরকে প্রথমেই পরিবারের চিন্তা করতে হয়৷ তারপর সমাজের চিন্তা৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন