সাবেক রাজ্যপালের তোষণ-মন্তব্যে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 01.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সাবেক রাজ্যপালের তোষণ-মন্তব্যে বিতর্ক

বিদায়বেলায় বিতর্কের সূত্রপাত করে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী৷ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোষণের রাজনীতি করছেন৷ নষ্ট হচ্ছে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি৷

তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস৷ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী জগদীপ ধনকর৷ রাজভবন ছেড়ে গিয়েছেন তাঁর পূর্বসূরী কেশরীনাথ ত্রিপাঠী৷ যাওয়ার সময় সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোষণের রাজনীতিতেই এ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে৷ আমার মনে হয়, বৈষম্য ছাড়া প্রত্যেক নাগরিককেই তাঁর সমান ভাবে দেখা উচিত৷''

এই মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন নয়, একটি চালু বিতর্কেই ফের শোরগোল শুরু হয়েছে৷  কার্যত বিজেপির অভিযোগের প্রতিধ্বনি করেছেন তিনি৷ পশ্চিমবঙ্গের জনসমষ্টির এক-চতুর্থাংশের বেশি সংখ্যালঘু৷ এদের মধ্যে মূলত মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পক্ষপাতিত্ব করেন, এই অভিযোগ বিজেপির৷ ভোটের হিসেব বলছে, মুসলমানদের সিংহভাগই তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক৷ বিজেপির অভিযোগ, এই ভোট ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী তোষণের রাজনীতি করেন৷

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরি থেকে পুলিশ-প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি নগণ্য৷ তারা রাজ্যের সংখ্যাগুরু মানুষের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে৷ এই পরিস্থিতিতে মুসলমানদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে দীর্ঘদিন৷ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত করা যায় না৷ সব নাগরিককে সমান চোখে দেখতে হয়৷ তৃণমূলের বক্তব্য, দুর্বলের উন্নতির চেষ্টা পক্ষপাত নয়৷ তাই প্রাক্তন রাজ্যপালের তোষণ-মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল মহাসচিব, রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

তাঁর ভাষায়, ‘‘রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় উনি তোষণের কথা বলেননি৷ এখন চলে যাওয়ার সময় কেন বলছেন জানি না৷ ওঁর আর দ্বিতীয় দফায় রাজ্যপাল থাকারও সুযোগ নেই৷ তবে রাজভবন যে বিজেপির পার্টি অফিস হয়ে উঠেছে, এ কথা তিনি যাওয়ার সময় প্রমাণ করে গেলেন৷''

অডিও শুনুন 04:07

‘‘রাজ্যের সংখ্যাগুরু মানুষের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু পদক্ষেপের ভীষণ প্রতিক্রিয়া হয়েছে’

২০১৪ সালে রাজ্যপালের দায়িত্বভার নেয়ার পর থেকে গত পাঁচ বছরে কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে নানা বিষয়ে রাজ্য সরকারের মতবিরোধ হয়েছে৷ তিনি বিজেপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীও বটে৷ তৃণমূল তাঁর মন্তব্যের পিছনে রাজনীতি দেখলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ রাজ্যপালের বক্তব্যকে বাস্তবসম্মত বলছেন৷

অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দের মতে, রাজ্যে সাঙ্ঘাতিক মেরুকরণ হয়েছে৷ ‘‘মূলত সে জন্যই বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে এত ভালো ফল করেছে৷ মেরুকরণ কেন হল, তা বিশ্লেষণ করতে গেলেই তোষণের প্রসঙ্গ উঠে আসবে,'' ডয়চে ভেলেকে বলেন তিনি৷

তিনি যোগ করেন, ‘‘রাজ্যের সংখ্যাগুরু মানুষের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক পদক্ষেপের ভীষণ প্রতিক্রিয়া হয়েছে৷ প্রথমে শুধু সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের মধ্যে সাইকেল বিতরণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়৷''

সবথেকে বেশি বিতর্ক হয়েছিল ইমাম ভাতার ঘোষণায়৷ অধ্যাপক নন্দ বলেন, ‘‘এই ভাতা নিয়ে সংখ্যাগুরুদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের জন্য ভাতা ঘোষণা করেন৷ কলকাতা হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়৷ এরপর ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে ঘুরপথে রাজ্য সরকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করে৷ তিন তালাক রদের বিরুদ্ধেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা সওয়াল করেছেন৷ এটাকে সংখ্যাগুরু জনতা তোষণ হিসেবেই দেখেছে৷''

তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী রাজনীতিকরা অবশ্য এতে দুই দলের কৌশলে মিল খুঁজে পাচ্ছেন৷ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘দুই দল সাম্প্রদায়িকতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে৷ ধর্মের নামে ভোট চাইছে, এতে সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে৷ তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে সাহায্য করছে৷ দেশভাগের জ্বালা সত্ত্বেও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে মাথা তুলতে পারেনি৷ তৃণমূল সেই সুযোগ করে দিচ্ছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন