সাফাইকর্মীদের নিরাপত্তা কতটা, প্রশ্ন উঠল শীর্ষ আদালতে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সাফাইকর্মীদের নিরাপত্তা কতটা, প্রশ্ন উঠল শীর্ষ আদালতে

ভারতে সাফাইকর্মীদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ এ ক্ষেত্রে জাতিভেদ নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই উষ্মা প্রকাশ করেছে কর্মীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা নিয়ে৷

দেশের ছোট-বড় শহরে যে ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে, তা পরিষ্কার করতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় সাফাইকর্মীদের৷ একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জাতি ও বর্ণের ভিত্তিকে প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষ এই কাজের সঙ্গে বংশ পরম্পরায় যুক্ত থাকে৷ এঁদের নিয়ে হঠাৎ কঠোর মন্তব্য করছে শীর্ষ আদালত৷ বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘কাজের সময় এই মানুষদের নিরাপত্তা থাকে কি? বিষাক্ত গ্যাসের হাত থেকে তাঁদের বাঁচাতে কোনো রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে কি?”

তফসিলি জাতি-উপজাতি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি আদালতের কাছে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ সেই মামলার শুনানিতে সাফাইকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে সরকারে ভর্ৎসনা করেছে আদালত৷ বিচারপতি অরুণ মিশ্র, বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি এম আর শাহ-কে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ গ্যাস চেম্বারের প্রসঙ্গ টেনে এনেছে৷ পর্যবেক্ষণে ম্যানহোল সাফাইয়ের কাজে যে কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের মাস্ক দেওয়া হয়নি কেন? অক্সিজেন সিলিন্ডারও কেন দেওয়া হয়নি? ম্যানহোলে নেমে আবর্জনা সাফ করতে গিয়ে মাসে চার-পাঁচ জনের মৃত্যু হচ্ছে৷ স্বাধীনতার ৭০ বছর পর এ ধরনের ঘটনা দেশে ঘটছে৷ একে অমানবিক আখ্যা দিয়ে জাতিভেদ নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘‘সব মানুষই এক৷ কিন্তু, সকলে একই সুবিধা পান না৷’’

কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেন,‘‘যিনি সাফ করতে নালায় নামছেন, তাঁর দিকে আঙুল তোলা ঠিক নয়৷ যাঁরা এই কাজ করাচ্ছেন, তাঁদের অভিযুক্ত করা উচিত৷’’ কিন্তু, আদৌ কি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? যদি হয়েই থাকে তবে এখনও অসুরক্ষিত অবস্থায় সাফাইকর্মীরা ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালায় নামছেন কেন? খোদ রাজধানী দিল্লির লাজপত নগরের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল৷ নালায় নেমে আবর্জনা সাফ করতে গিয়ে তিন সাফাইকর্মীর মৃত্যু হয়৷ তাঁদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার দূরের কথা, কোনো দড়ি বা মাস্কও ছিল না৷ গুজরাটের বরোদায় ম্যানহোলে নেমে মারা যান সাত জন৷ সরাসরি পুরসভার তত্ত্বাবধানে এই কর্মীরা কাজ করেন না, ঠিকাদার সংস্থা এঁদের দিয়ে কাজ করায়৷ সংস্থার কাছে কর্মীদের সুরক্ষা কোনো গুরুত্বই পায় না৷ উল্টোডাঙার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাফাইকর্মী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘চুক্তির ভিত্তিতে কাজ হয়৷ দড়ি, গ্লাভস, গামবুট এসবের দাবি দিলে কাজ যদি না থাকে, সেই ভয়টা আছেই৷ দড়ি আর বালতি নিয়েই তাই ম্যানহোলে নেমে পড়ি৷ অক্সিজেন তো অনেক দূরের কথা৷ এভাবেই চলে আসছে৷ সরকার থেকে কিছু করা হয় না৷’’

অথচ সাফাইকর্মীদের জন্য নিরাপত্তার জন্য নির্দেশিকা নেই, এমন নয়৷ কিন্তু, তা অনুসরণ করার ব্যাপারে কেউ যত্নশীল নয়৷কেন্দ্রীয় সরকারের সম্প্রতি একটি তথ্য জানিয়েছে, ১৯৯৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৫টি রাজ্যে ৬২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা সাফ করতে গিয়ে৷ গত তিন বছরে এই সংখ্যা ৮৮৷ পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮৷ নির্দেশিকা সত্ত্বেও ৮৮টি মৃত্যুর মধ্যে ৫২টি ক্ষেত্রে মৃতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি৷ ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দিয়েছিল, ১৯৯৩ সাল থেকে যতজন নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজে নেমে মারা গিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে৷ মৃতদের পরিবারকে ১০লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷ অথচ বাস্তবে তা কার্যকরী হচ্ছে না৷ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁরা বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন৷     

সমাজকর্মী সুনন্দা মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ম্যানহোলে প্রবেশ করে কেউ মারা গেলে, তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে৷ কিন্তু এঁরা এত পশ্চাদপদ গোষ্ঠীর সদস্য যে, এ সব নিয়মকানুন জানেন না৷ নিজেদের দাবি আদায় করে নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁদের নেই৷ তাই বঞ্চিত করা সহজ৷ ‘‘দলিত ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন পরিষদের রাজ্য সম্পাদক সনৎ নস্কর বলেন, ‘‘সুরক্ষা বিধি রয়েছে৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে সেটা পালন করা হয় না৷ জাতিভেদের তকমা দিয়ে অমানবিক কাজ করানো হচ্ছে৷’’  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন