সাত শ্রমিক আক্রান্ত, ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বিজিএমইএ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সাত শ্রমিক আক্রান্ত, ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বিজিএমইএ

শুক্রবার সাভারে সাতজন গার্মেন্টস শ্রমিকের কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে৷ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷ তবে এখনও তাদের শনাক্ত করতে পারেনি বিজিএমইএ৷

সাভারের আল মুসলিম গার্মেন্টসের দুই শ্রমিক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সিকিউরিটি ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ‘‘ওই শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার আগেই তারা জ্বর অনুভব করায় তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ কারাখানা থেকে তারা আক্রান্ত হননি৷ বাসা থেকেই তারা আক্রান্ত হয়েছেন- এটা আমরা নিশ্চিত৷ আমাদের মেডিকেল অফিসার খোঁজ খবর রাখছেন৷’’

গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ যেখানে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করছে সেখানে বিজিএমইএ বলছে তারা শ্রমিকদের খুঁজে পাচ্ছে না! থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাতজন শ্রমিকের আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত করলেও মালিকদের সংগঠনটির সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘আমরা দুই জনের কথা শুনেছি৷ সাতজন তো প্রথম শুনলাম৷ এখন খোঁজ খবর নিচ্ছি৷ কোথায়-কিভাবে তারা আক্রান্ত হলেন আমরা কিছুই জানি না৷ একটা টিম তাদের খোঁজ করছে৷’’ বিজিএমইএর এই নেতা নিশ্চিত করেন, কারাখানা কর্তৃপক্ষ যদি তাদের দায়িত্ব না নেয়, তাহলে বিজিএমইএ তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে৷ ‘আমাদের একটু সময় দিন, আমরা যে কথা দিয়েছিলাম, সেটা অবশ্যই রাখব৷’’ 

অডিও শুনুন 01:38

‘কারাখানা থেকে তারা আক্রান্ত হননি’

শ্রমিক বিক্ষোভ চলছেই

এদিকে প্রতিদিনই কোন না কোন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা আন্দোলনের জন্য রাজপথে নামছেন৷ শনিবারও গাজীপুরে দুটি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ দেখিয়েছে৷ কখনও বকেয়া বেতনের দাবিতে, আবার কখনও চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে পথে নামছেন শ্রমিকরা৷ শনিবার সকাল থেকে শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়৷ পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেছেন, শনিবার সকাল আটটা থেকে গাজীপুর শহরের তারগাছ এলাকায় ‘অনন্ত ক্যাজুয়াল ওয়্যার লিমিটেডের’ শ্রমিকেরা ছাঁটাইয়ের গুজবে বিক্ষোভ শুরু করেন৷ এক পর্যায়ে তারা পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন৷ কারখানার কোন শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়নি৷ সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে তিন হাজার শ্রমিকের মধ্যে দুই হাজার শ্রমিক নিয়ে কারখানার কাজ করানো হচ্ছে৷ ফলে শ্রমিকদের মধ্যে বাকিদের ছাঁটাইয়ের গুজব উঠে৷ এ কারণে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন৷

আমরা কিভাবে মানবিকতা দেখাবো?’ 

অডিও শুনুন 03:55

‘জুন-জুলাই মাসে কোন অর্ডারই নেই’

প্রতিদিন আন্দোলন হলেও সেটাকে বড় করে দেখছেন না বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল দিপু৷ তিনি বলেন, যারা শিক্ষানবীসকাল পার করেননি তাদের মালিকপক্ষ বাদ দিতে পারে৷ এটা সারা বিশ্বেই স্বীকৃত৷ যাদের ছয়মাস হয়নি তাদের আমরা যেকোন সময় বাদ দিতে পারি৷ আর যারা বলছেন, মানবিকভাবে বিষয়টি দেখতে তাদের বলব, বায়াররা তো অর্ডার বাতিলের সময় মানবিকতা দেখাচ্ছেন না৷ তাহলে আমরা কিভাবে মানবিকতা দেখাবো? সামনের জুন-জুলাই মাসে কোন অর্ডারই নেই৷ তখন কি হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না? 

এর আগে শুক্রবার মে দিবসের দিন শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করার অভিযোগে কয়েক হাজার শ্রমিক সাভারের হেমায়েতপুরে কারখানা ছেড়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন৷ অভিনেতা অনন্ত জলিলের মালিকানাধীন এ জে আই গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এ ঘটনা ঘটে৷ পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

অপরদিকে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো চালু করতে মালিকরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷ শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘সরকার তৈরি পোশাক খাত সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ রফতানি আদেশ রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী নিজে আমদানিকারক দেশের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন৷ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে৷ গার্মেন্ট কারখানা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ গার্মেন্ট মালিকরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কারখানা চালুর আবেদন করেছিলেন, এখন সেগুলো রক্ষা করুন৷’’ 

দেখুন ১৬ এপ্রিলের ছবিঘর...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন