সাকিবের জন্য ভালোবাসা | বিশ্ব | DW | 30.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সাকিবের জন্য ভালোবাসা

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা গোপন করায় আইসিসি বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করলেও তার পাশে রয়েছেন সবাই৷

সাকিব ভুল করেছেন সেটা জেনেও এই ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সতীর্থ, ভক্ত, দর্শক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ছাড়াও বেশ কিছু নামী ক্রিকেটার৷

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও সাকিবের নিষেধজ্ঞার খবর ফলাও করে প্রচার করেছে৷ নিষেধাজ্ঞার এই এক বছর সাকিব কি করতে পারেন বাংলাদেশে এখন এনিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা৷ তবে সাকিব এখনো এ বিষয়ে কিছু বলেননি৷

‘সাকিব আল হাসানকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করল আইসিসি‘, ‘শাকিবের সঙ্গে জুয়াড়ির চাঞ্চল্যকর কথোপকথন ফাঁস করল আইসিসি‘, ‘মুখ খুললেন শাকিব, পাশে থাকার বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা, বিসিবি' শিরোনামে তিনটি খবর ছেপেছে আনন্দবাজার পত্রিকা৷ এছাড়া ‘টিম তুলে নেওয়া থেকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন শাকিব' শিরোনামে ১১টি ছবি দিয়ে একটি ফটো গ্যালারিও করেছে কলকতার জনপ্রিয় এই বাংলা দৈনিকটি৷

সাকিবের এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী বছরের ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা তুলে ধরে দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, এই সময়ের মধ্যে ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ৷ সাকিব খেলতে পারবেন না ১৩টি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও ২০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ৷

বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফসহ সব গণমাধ্যমেই সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খরর প্রকাশিত হয়েছে৷ ওইসব খবরে আইসিসির বিজ্ঞপ্তিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর ফলাও করে প্রচারের পাশাপাশি এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তিনি দলে ফিরে ব্যাট-বলে সমানতালে লড়ে যাবেন এমন প্রত্যাশার খবারও ছাপিয়েছে৷

কী করবেন সাকিব?

এক বছরের নিষেধাজ্ঞার সময় সাকিব কি করবেন তা নিয়েই বাংলাদেশে চলছে আলোচনা৷ এই সময় তিনি অ্যামেরিকা থাকতে পারেন বলে ফেসবুকে অভিমত জানিয়েছেন কেউ কেউ৷ তবে এনিয়ে এখনো কিছু জানাননি সাকিব৷

নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়ে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাকিব৷ ২০১৭ সালের অক্টোবরে এমসিসির ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি৷ ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এই কমিটি কাজ করে৷

এখন কেন?

বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের আগ মুহূর্তে আইসিসি কেন সাকিবকে নিষিদ্ধ করা তানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে৷ আইসিসিতে ভারতের আধিপত্যের বিষয়টি তুলে ধরে এনিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ৷

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটের প্রধান অজিত সিং বলছেন, সাকিবের বিরুদ্ধে গোটা তদন্তটাই আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) স্বাধীনভাবে করেছে৷

তিনি বলেন, ‘‘আইপিএলের যে মৌসুমের ম্যাচ নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সে মৌসুমের সকল দুর্নীতিবিরোধী বিষয়গুলো আইসিসি-ই দেখভাল করেছে৷ কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে আইসিসি-ই কাজ করেছে, তদন্ত করেছে৷ এর সঙ্গে বিসিসিআইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই৷ হ্যাঁ, আমরা আমাদের তরফ থেকে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করেছি আইসিসিকে, কিন্তু এ বিষয়ে পুরো তদন্তটাই আইসিসি করেছে, বিসিসিআই না৷''

সবার মুখেই সাকিব বন্দনা

 

দোষ স্বীকার বলে আইসিসির শাস্তি মেনে নিয়েছেন সাকিব ৷ ফলে এই সাজার বিরুদ্ধে আপিলেরও কোনো সুযোগ পাবেন না তিনি৷ এরপরে বাংলাদেশের সেরা এই ক্রিকেটারের পাশেই রয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ৷

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি লিখেছেন, ‘‘দীর্ঘ ১৩ বছরের সহযোদ্ধার আজকের ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই কিছু বিনিদ্র রাত কাটবে আমার৷ তবে কিছুদিন পর এটা ভেবেও শান্তিতে ঘুমাতে পারব যে, তার নেতৃত্বেই ২০২৩ সালে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলব৷ কারণ নামটি তো সাকিব আল হাসান...!!!''

নিজের ফেসবুক পেইজে সাকিবের একটি ছবি জুড়ে দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া লিখেছেন, বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার কমপক্ষে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে এটা বেশ কষ্টকর, ভেঙে পড় না সাকিব৷

সাকিবকে ছাড়া খেলতে হেব এটা খুবই দুঃখের জানিয়ে মুশফিকুর রহিম লিখেছেন,১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে খেলছি৷ ... আশা করছি  শিগগিরই আপনি ফিরে আসবেন৷ আপনার প্রতি সব সময় আমার এবং পুরো বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে, শক্ত থাকুন৷

পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম লিখেছেন, আমি প্রত্যাশা করি বাংলাদেশের সকল মিডিয়া এবং বিদেশি গণমাধ্যমে কাজ করেন এরকম সকল বাংলাদেশী সাকিবের পক্ষে শক্ত হয়ে দাড়াবেন৷ রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর হেডলাইন করা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে৷ কিন্তু দয়া করে সাকিবের (বা অন্য যে কোন আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছে এরকম কোন ক্রিড়াবিদের) সাথে এটা করবেন না৷

‘‘স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সেরা সম্পদের অন্যতম একটির নাম সাকিব আল হাসান, যে আমাদের অনেক কষ্টের মাঝেও আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, আমরা বিশ্বের সেরা সেরা যেসব অলরাউন্ডারদের দেখে বেড়ে উঠেছিলাম তাদের সবার চেয়ে যে সে সেরা তা আমার আপনার বিবেচনায় নয়, বছরের পর বছরের পরিসংখ্যান এবং আইসিসিই তা বলেছে৷ আর এটাকে অন্য কিছুর সাথে অযথা জড়াবেন না৷ আইসিসির নিয়ম আছে, যা বি সি বি দেখবে কিন্তু নাগরিক হিসেবে সাকিবের পাশে সবাইকে দাঁড়াতেই হবে৷''

সাধারণ মানুষও সাকিবের প্রতি সহানুভুতি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন৷ এই ক্রিকেটার এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বীরের বেশে দলে ফিরবেন বলে আশায় বুক বাধছেন তারা৷ তবে সাকিবের সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ৷ এদের মধ্যে দুএকজন মনে করছেন, বিষয়টি আইসিসিকে না জানানোয় উচিত শাস্তিই পেয়েছেন তিনি৷ 

নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে সাকিব বলেন, "যে খেলাটাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, সেই খেলা থেকে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে আমি দুঃখিত। তবে অনৈতিক প্রস্তাবের ব্যাপারটি আইসিসি আকসুকে না জানানোয় যে শাস্তি দেয়া হয়েছে, তা আমি মাথা পেতে নিচ্ছি৷ ক্রিকেটকে দূর্নীতিমুক্ত করতে আইসিসি আকসু সবচেয়ে বেশি ভরসা করে ক্রিকেটারদের সহযোগিতার উপর৷ কিন্তু এক্ষেত্রে আমি দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পালন করতে পারিনি৷

"শতকোটি ভক্ত ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতো আমিও চাই ক্রিকেট থাকুক দূর্নীতিমুক্ত৷ তাছাড়া আগামীর তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা যেন আমার মতো ভুল না করে সে জন্য আমি আইসিসির আকসুর দুর্নীতিবিষয়ক শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবো৷”

এসআই/কেএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন