সাইকেলের নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি | অন্বেষণ | DW | 09.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সাইকেলের নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি

বাংলাদেশ বা ভারতে গাড়ি, বাস, ট্রাকের দাপটে সাইকেল চালকদের কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়৷ ইউরোপে তাঁদের অবস্থা অনেক ভালো হলেও চুরি ও দুর্ঘটনার সমস্যা রয়েছে৷ বেশ কিছু চমকপ্রদ উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেই সব সমস্যা দূর করার চেষ্টা চলছে৷

স্পিড-পেডেলেক্স সাইকেল জগতের এসইউভি গাড়ির মতো৷ এমন সাইকেল হাতে পেলে প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে চালানো যায়৷ অবশ্য তাতে ইঞ্জিনের কিছুটা অবদানও থাকে৷

কাঠামোর মধ্যেই ব্যাটারি, অনবোর্ড কম্পিউটার ও জিপিএস মডিউল বসানো রয়েছে৷ টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে সেসব ব্যবহার করা যায়৷ সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় গিয়ার বদলানো হয়৷ ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারি চার্জের প্রয়োজন নেই৷ তাছাড়া ব্রেক করলেই ব্যাটারি কিছুটা চার্জ হয়ে যায়৷

এই সাইকেলের গুণের শেষ নেই৷ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথাকথিত এই ‘স্মার্ট বাইক' অ্যাপ দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব৷  মাইস্ট্রোমার কোম্পানিরনুশা ওয়াকিলজাদেহ বলেন, ‘‘অ্যাপের মাধ্যমে আমি সাইকেলে পছন্দমতো কনফিগারেশন পাঠাতে পারি৷ যেমন পেছনের ইঞ্জিনের কাজে ইচ্ছামতো রদবদল করতে পারি৷ এমনকি সাইকেল চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে যদি তার অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার ইঞ্জিন ব্লক করে দিতে পারি৷ তখন আর সেই সাইকেল চলবে না৷ তাছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে সাইকেলের অবস্থানও জানতে পারি৷''

এত উদ্ভাবনী গুণাগুণের মূল্যও কম নয় – প্রায় ৯,০০০ ইউরো গুনতে হয় এই সাইকেলের জন্য৷ তবে সাইকেল সংক্রান্ত বাণিজ্য মেলা ও উৎসবে নিয়মিত যাতায়াত করলে দেখা যাবে, দামী ও উচ্চ মানের সাইকেলের চল কতটা বাড়ছে৷

তবে সাধারণ সাইকেলেও আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব৷ জার্মানিতে বছরে প্রায় ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার সাইকেল চুরি হয়৷ অতি সহজেই সাইকেল চুরি করা সম্ভব৷ ভুক্তভোগীদের জন্য সেই অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়৷ ফাররাডইয়েগার কোম্পানির স্টেফি ভুল্ফ বলেন, ‘‘আমার বেশ কয়েকটি সাইকেল চুরি গেছে৷ আমার বয়ফ্রেন্ড মার্টিনের ৩ বছরে ৫টি সাইকেল চুরি হয়েছে৷ তার রেসিং সাইকেল চুরি হওয়ার পর সাইকেল চোরদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করলাম৷''

অ্যালার্মের কানফাটা শব্দ এই সংগ্রামেরই অংশ৷ স্টেফি ভুল্ফ এই সিস্টেমের ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘এর নাম ইনসেক্ট – আমার সাইকেলের রক্ষাকবচ ও ট্রান্সমিটার৷ সাইকেলে ইনসেক্ট বসাতে হবে৷ ব্লুটুথের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে যোগাযোগের পর সে মালিক হিসেবে আমাকে চিনতে শিখেছে৷ এবার কোনো চোর সাইকেল চুরি করার চেষ্টা করলে সেন্সরের মাধ্যমে ইনসেক্ট তা বুঝে ফেলে ১০০ ডেসিবেল তীব্রতায় অ্যালার্ম বাজাবে৷ তাছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে সে আমাকে বার্তাও পাঠাবে৷ তারপরেও সাইকেল নিয়ে পালালে আমাকে তার অবস্থান জানান দেবে৷''

অন্ধকার ঘনিয়ে এলে সাইকেল চালকের জন্য বিপদও বেড়ে যায়৷ তা সত্ত্বেও পথেঘাটে অনেক সাইকেলে যথেষ্ট আলো থাকে না৷ নিয়ম মেনে যথেষ্ট আলো লাগালেও অনেক সাইকেল চালককে সহজে দেখতে পাওয়া যায় না৷ একটি হেলমেট সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে৷ বস্টন শহরের দুই ছাত্রের মাথায় এই ‘লুমোস' তৈরির আইডিয়া এসেছিল৷ ৬০টি এলইডি বাতি ঘন অন্ধকারেও চালকের অস্তিত্ব জানান দেয়৷ ব্রেক করলে হেলমেটে গাড়ির মতোই লাল আলো জ্বলে ওঠে৷ তাছাড়া গতিপথও নির্দেশ করে আলো৷

সাইকেল চালকদেরআরও নিরাপত্তা দিতে লুমোস ছাড়া আরও কিছু আইডিয়া রয়েছে৷ যেমন সাইকেল ও গাড়ির সংঘাতের বেশিরভাগ দুর্ঘটনা একাধিক রাস্তার সংযোগস্থলে ঘটে৷ ব্রিটেনের এক লেজার আলো সাইকেলের সামনে পথের উপর উজ্জ্বল সাইকেলের চিহ্ন ফুটিয়ে তোলে৷ সরাসরি সাইকেলটিকে দেখতে না পেলেও গাড়ির চালকরা সেই আলো দেখতে পান৷

টোমাস ভাগনার/এসবি

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন