সাইকেলের জন্য লড়ছে কলকাতা | বিশ্ব | DW | 11.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কলকাতা

সাইকেলের জন্য লড়ছে কলকাতা

সাধারণ এক দুর্ঘটনা বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে কলকাতায়৷ এক কথায় যাকে বলা হচ্ছে ‘সাইকেল আন্দোলন'৷ শহরের দিকে দিকে ‘সাইকেল বে' তৈরির জন্য লাগাতার আন্দোলন চলছে৷

‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট' শব্দটির সঙ্গে পরিচিত এখন পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ৷ পরিবেশ সংক্রান্ত যে কোনো আলোচনায় এই শব্দটির ব্যবহার সম্ভবত সর্বাধিক৷ কিন্তু কীভাবে এই কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো যায়? কীভাবে পরিবেশ বান্ধব সভ্যতা তৈরির দিকে এগনো যায়? প্রশ্নগুলো সহজ, কিন্তু উত্তর তত সহজ নয়৷ সহজ হওয়ার কথাও নয় কারণ, দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর বুকে হানিকর গ্যাস উৎপাদন করে চলেছে মানব বিশ্ব৷ সেই সমস্ত গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়৷ কিন্তু ধীরে ধীরে পরিবেশ সহায়ক নানা ভাবনা ভাবছেন বিশেষজ্ঞেরা৷

সাইকেল তেমনই এক পরিবেশবান্ধব যান৷ পৃথিবীর বহু দেশই নতুন করে সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছে৷ ইউরোপে বহুকাল আগে থেকেই সাইকেলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সাইকেল আরোহীদের জন্য আলাদা রাস্তা বা ‘বে' তৈরি করা হয়েছে৷ ডিজেল বা পেট্রোল গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে লোকে যাতে ইলেকট্রিক গাড়ি বা সাইকেলের প্রতি আরো আকৃষ্ট হন, তার জন্যও নানারকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে৷ শেষ পরিবেশ সম্মেলনেও এ বিষয়ে বহু আলোচনা হয়েছে৷

ইউরোপ এখনো যা চেষ্টা করছে, কলম্বিয়া তা করে দেখিয়ে দিয়েছে৷ বোগোটার রাজপথ এখন সাইকেল আরোহীদের তীর্থক্ষেত্র৷ শহরের মেয়র থেকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, সকলেই সাইকেলে চড়ে দপ্তরে যান৷ অফিস টাইমে লক্ষ লক্ষ সাইকেল দেখতে পাওয়া যায় রাজপথে৷ যা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে, অ্যামেরিকা এবং ইউরোপের কোনো কোনো শহরে বিশেষ বিশেষ রাস্তায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সাইকেল ছাড়া আর সমস্ত যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

Kalkutta Protest gegen Fahrradverbot

কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অধিকাংশ রাস্তাতেই সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ

অর্থাৎ, সাইকেলের গুরুত্ব অনুধাবন করেছে বিশ্ব৷ সত্যিই কি করেছে?

ইউরোপ যা ভাবতে পারছে, কলম্বিয়া যা পারছে, এশিয়া কি তার ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারছে? এশিয়ার হাতেগোনা কয়েকটি শহর ছাড়া রাজপথে সাইকেল চালানো কার্যত নিষিদ্ধ৷ সম্প্রতি কলকাতার একটি ঘটনা তা আরো একবার প্রমাণ করে দিল৷ তথ্য-প্রযুক্তি হাব হিসেবে এখন পরিচিত পূর্ব কলকাতার নিউটাউন অঞ্চল৷ দু'দশক আগে তৈরি হওয়া এই অঞ্চলে সভ্যতার সমস্ত উপাদান থাকলেও ‘সাইকেল বে' নেই৷ সম্প্রতি সেই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক সাইকেল আরোহীর৷ অভিযোগ, এরপর পুলিশ সেই রাস্তায় সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হবে বলে ঘোষণা করেছে৷ বস্তুত, কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অধিকাংশ রাস্তাতেই সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ৷ পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতেই এই ব্যবস্থা৷ শুধু কলকাতা নয়, রাজধানী দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই – কোথাও সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা রাস্তার ব্যবস্থা নেই৷

ফলে সাইকেল নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সংস্কৃতিই গড়ে ওঠেনি অধিকাংশ শহরে৷ অথচ গ্রামাঞ্চলের চিত্র কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা৷ ভারতের গ্রামগুলিতে এখনো সাইকেল অন্যতম পরিবহনের ব্যবস্থা৷ স্টেশনগুলির বাইরে রয়েছে সাইকেল স্ট্যান্ড৷ অনেকেই সাইকেল নিয়ে স্টেশন পর্যন্ত এসে ট্রেন ধরে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছান৷ এ কোনো নতুন ঘটনা নয়, শতাব্দীকাল ধরে এভাবেই চলে আসছে ভারতের গ্রামগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা৷ এখনো তা যথেষ্ট সফল৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য৷ যেমন প্রযোজ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে৷ সেখানে গ্রামাঞ্চলে সাইকেলের বহুল ব্যবহার থাকলেও শহরের রাজপথে সভ্যতার চাপে সাইকেল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব এবং পশ্চিম দুনিয়ার মধ্যে তফাত ঠিক এইখানেই৷ সভ্যতা কীভাবে পরিবেশকে ধ্বংস করে পশ্চিম তা বুঝতে শুরু করেছে৷ কিন্তু পূর্ব এখনো সভ্যতার নামে পরিবেশ ধ্বংসের খেলায় মত্ত৷ ফলে সাইকেল নিয়ে ভাবার মতো অবকাশটুকুই তাদের নেই৷ সেখানকার রাষ্ট্রনেতারা ভাবতেই পারেন না, শুধুমাত্র সাইকেলের ব্যবহার বারিয়ে কত পরিমাণ ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট' কমানো যায়৷

প্রদীপের তলায় অন্ধকার ছায়া থাকলেও আলোর নিশানা থাকে৷ আশার কথা, ভারতের বিভিন্ন শহরে সাইকেল নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে৷ তৈরি হয়েছে বহু ছোটবড় সাইকেল ক্লাব৷ সাইকেল নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বছরভর৷ যার অন্যতম, প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা থেকে ঢাকা সাইকেল যাত্রা৷ এছাড়াও শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল যাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে৷ পূর্ব কলকাতার ওই ঘটনার পরেও বহু আন্দোলনকারী সরকারের সমালোচনা করেছে৷ সমস্যার গোড়ায় না গিয়ে রাস্তা থেকে সাইকেল তুলে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে৷ আশা করা যায়, তাদের সমালোচনা সরকারের কর্ণগোচর হবে৷ ভারতের বড় বড় শহরগুলিতে ফিরে আসবে সাইকেল৷ তৈরি হবে ইউরোপের মতো ‘সাইকেল বে'৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন