সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা কী ভারতে বিপন্ন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 04.02.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা কী ভারতে বিপন্ন?

ভারতে শিল্পী ও লেখকের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার কণ্ঠরোধে এক শ্রেণির মানুষ ক্ষেপে উঠেছে৷ আশিষ নন্দীর মন্তব্য, কামাল হাসানের সিনেমা বা রুশদির স্যাটানিক ভার্সেস – এক নতুন ধরণের অসহিষ্ণুতা যেন গ্রাস করে চলেছে দেশকে৷

ভারতে মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের নিশানায় পরিণত হয়ে চলেছেন লেখক, শিল্পী, সিনেমা নির্মাতারা৷ এই প্রবণতা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে৷ মাথা তুলছে এক ধরণের সাংস্কৃতিক ‘ইমারজেন্সি'৷ সেটা ভাবিয়ে তুলছে সাংস্কৃতিক মনস্ক মানুষকে৷ অথচ এ বিষয়ে সরকার বা প্রশাসনের বিশেষ হেলদোল নেই৷

জয়পুর সাহিত্য উৎসবে বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ড. আশিষ নন্দীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর জেলে যাবার উপক্রম হয়েছিল৷ বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে৷ কী বলেছিলেন তিনি? বলেছিলেন, অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে দুর্নীতি সবথেকে বেশি৷ তাঁরা বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত৷ ধনীদের মধ্যে দুর্নীতি তত চোখে পড়ে না৷ সঙ্গে সঙ্গে দলিত নেত্রী মায়াবতির হুংকার, ড. নন্দীকে জেলে ঢোকাও৷

দক্ষিণ ভারতীয় বিখ্যাত অভিনেতা কামাল হাসানের নতুন ছবি ‘বিশ্বরুপম'-এ মুসলিম সম্প্রদায়কে ঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি – এই অভিযোগে, কিছু মুসলিম গোষ্ঠীর আপত্তিতে ঐ ছবির মুক্তি আটকে যায়৷ শুরু হয় বিক্ষোভ৷ আদালত হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয়৷ এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছিল যে, বিপর্যস্ত কামাল হাসান ক্ষোভে দুঃখে দেশ ছেড়ে চলে যাবার কথা বলছিলেন৷ সেন্সর পাশ করা সত্ত্বেও অবশেষে ছবির আরো কিছু অংশ বাদ দিয়ে ধর্মভীরুদের সঙ্গে আপোষ করার পর ছবিটি মুক্তি পায়৷

উল্লেখ্য, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এম. এফ হুসেন হিন্দু দেবির নগ্ন ছবি আঁকার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের কোপের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন৷ দুর্নীতি বিরোধী কার্টুনিস্ট অসীম ত্রিবেদিকে জেলে যেতে হয় বিতর্কিত কার্টুন আঁকার কথিত অপরাধে৷

‘স্যাটানিক ভার্সেস'-এর লেখক সলমান রুশদি দেশ-বিদেশের এক সাহিত্য ব্যক্তিত্ব হলেও, মুসলিমদের চক্ষুশূল৷ তাঁর লেখা ‘মিডনাইটস চিল্ডেন' নিয়ে ছবি করেছেন পরিচালক মীরা নায়ার৷ ছবিটির মুক্তি উপলক্ষ্যে লেখককে কলকাতায় ঢুকতে দেয়া হয়নি, পাছে মুসলিম কট্টরপন্থীদের ক্ষোভে শহরে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দেয়৷ অনেকের মতে, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুসলিম ভোটের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় মুখ ঘুরিয়ে রাখেন৷

Kamal Haasan

‘বিশ্বরুপম' নিয়ে সংকটে পড়েছিলেন কমল হাসান

এভাবেই এক নতুন অসহিষ্ণতা ক্রমশই চেপে বসছে সমাজে, যেটা উদ্বেগের কারণ৷ তাতে ইন্ধন জোগাচ্ছে মিডিয়া চাঞ্চল্য সৃষ্টির উপাদান হিসেবে৷ কেউ কেউ বলছেন, এই অসহিষ্ণুতা বরদাস্ত করার জন্য দায়ী রাজনীতিকরা৷ সুস্থ নাগরিক সমাজের পাশে দাঁড়াতে চান না তাঁরা৷

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী লেখক-সম্পাদক হর্ষ দত্ত এই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘ধর্মান্ধতা পৃথিবীতে যতদিন থাকবে, ততদিন এই ত্রাসটাও চলবে৷ স্বাভাবিকভাবে তাতে সরকারও ভয় পাবে৷ সে জন্য আমাদের যেতে হবে একেবারে গোড়াতে৷ ধর্মান্ধতা বন্ধ করার জায়গাটা কোথায়, সেটা খুঁজে বের করতে হবে৷ কোনো ধর্ম যদি সহনশীলতার জায়গা তৈরি করতে না পারে, তাহলে এ জিনিস চলবেই৷ তাই আপত্তিটা সংস্কৃতির নয়, ধর্মের৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন