1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Indien, Dhaka: Journalisten halten Banner und Plakate, während sie vor dem Presseclub gegen das kürzlich verabschiedete Gesetz zur digitalen Sicherheit protestieren
ছবি: Reuters/M. Ponir Hossain

সাংবাদিকতায় খবর আছে!

তায়েব মিল্লাত হোসেন ঢাকা
৮ নভেম্বর ২০১৯

মুদ্রণে, সম্প্রচারে, অনলাইনে- সব পাটাতনেই বাংলাদেশে সংখ্যায় বেড়েছে গণমাধ্যম৷ মানে ও মুদ্রায় এই দেশে সাংবাদিকতার অগ্রগতি কেমন? পেশাজীবনে আর জীবিকায় কেমন আছে সংবাদকর্মীরা?

https://p.dw.com/p/3SgaN

সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতার মূল্য দেয়া যাচ্ছে না৷ সাংবাদিকেরা কেবল কর্মচারী৷ আর সম্পাদকেরা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা৷ বছরের শুরুতে এডিটরস গিল্ডের এক আয়োজনে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের পরিস্থিতি কিছুটা এভাবে তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান৷ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) বর্তমান চেয়ারম্যানের কথায় এসেছে মুদ্রার এক পিঠ৷ যেখানে সাংবাদিকতার গুণগতমানের জায়গায় ছাড় দেয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে৷ মুদ্রার অন্য পিঠ তথা জীবিকার প্রয়োজন মেটাতে নীতির প্রশ্নে আপোষের যে ইঙ্গিত- তার সুফল মিলছে কি? মোটেই না৷ কেননা দেশের গণমাধ্যমে কোথাও আছে ছাঁটাই আতঙ্ক৷ কোথাও আছে বেতনভাতার অনিশ্চয়তা৷ ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগকে পরিস্থিতি বিশদে জানালেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি ইলিয়াস হোসেন৷

তার ভাষায়, ‘‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে৷ বিশেষ করে বেতনভাতার যে বিষয়টা, যেটি পত্রিকা বা টেলিভিশনে একই রকম অবস্থা৷ অনেক জায়গাতেই কয়েক মাসের বেতন জমা পড়ে আছে৷ আমরা যারা সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করি, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেছি৷ সব কর্তৃপক্ষের কথা প্রায় একই, তাদের রেভিনিউ কম, আয় হচ্ছে না৷ তারা বেতন দেবে কোথা থেকে? এ কারণেই মূলত তারা দিতে পারছে না৷''

ইলিয়াস হোসেন

গণমাধ্যমের আয়ের প্রধানতম উৎস বিজ্ঞাপন৷ এই বিজ্ঞাপন কী কমে গেছে? এ প্রসঙ্গে বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কর্মরত এই সাংবাদিক বলেন, ‘‘এখানে যে পদ্ধতিতে দর্শকেরা টেলিভিশন দেখে সেক্ষেত্রে টিভি কর্তৃপক্ষ দর্শকের কাছ থেকে সরাসরি কিছু পায় না৷ আয় শুধুই বিজ্ঞাপন নির্ভর৷ বর্তমানে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ভারতের টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে৷ এখানে বিজ্ঞাপনের নিয়মিত বিলও পরিশোধ করা হয় না৷ অনেক টেলিভিশনের মার্কেটিং বিভাগের কথা জানি৷ তারা দিনের পর দিন ধর্ণা দিচ্ছে৷ তারপরও তারা টাকা তুলতে পারছে না৷''

আয়-রোজগারের দিক থেকে সাংবাদিকেরা  পিছিয়ে আছে৷ এটা অনেকেরই জানা৷ তবে শখ থেকে নেশা, নেশা থেকে পেশা- এমন পাইপলাইন থেকেই গণমাধ্যমে আসছে তরুণেরা৷ তাদের জন্য কেমন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে- এমন প্রশ্নে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিও ব্যাক্তিগতভাবে সাংঘাতিক দ্বিধান্বিত৷ এই পেশায় টিকে থাকা বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই কঠিন৷ এখানে নতুন করে যারা সাংবাদিকতায় আসতে চাইবে, আসলে হতাশার কথা বলতে ভালো লাগে না তবে যে সময় চলছে এখন যারা কাজ করছে তাদেরই ঠিকমত বেতন হচ্ছে না৷ এই আশঙ্কায় নতুনদের জন্য এই ক্ষেত্রটি খুবই ঝুকিপূর্ণ৷''

সংকট উত্তরণে গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের রুটিরুজি ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কথা মূলত ট্রেড ইউনিয়নের৷ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- এগুলো আবার দুইভাগে বিভক্ত৷ এটাও খুবই দুঃখজনক যে নব্বইয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির একটা ব্যাপার চলে আসছে৷ ফলে যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে তাদের আশীর্বাদপুষ্ট বা সমর্থক যারা তারাই নেতৃত্ব দিয়ে থাকে এবং সরকারের সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগ পেয়ে থাকে৷ তারা অনেক সময়ই সরকারের সঙ্গে বা মালিক পক্ষের সঙ্গে যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অধিকার আদায়ের জন্য যতটুকু শক্তি দরকার সেটা দেখাতে পারে না৷ আর যারা বিরোধী দলের সমর্থক, তাদের যে ট্রেড ইউনিয়ন তারা তো কোনো পাত্তাই পায় না৷''

প্রসারে প্রচার না অপপ্রচার?

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের প্রসার হয়েছে৷ আসলেই তো সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল, এফএম রেডিও, কমিউনিটি রেডিও আর অনলাইন মাধ্যম সংখ্যায় এতো বেড়েছে যে, এগুলোর হিসেব রাখাই দায়৷ আর নানান নামে, নানান আকারে, নানান দিনের ছাপানো পত্রিকা তো আছেই৷ এগুলোর সঙ্গে তালমিলিয়ে বেড়েছে গণমাধ্যম কর্মীর সংখ্যাও৷ মেধা-মননে, নীতি-নৈতিকতায় সবাই কি দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছেন?

বাস্তব পরিস্থিতি ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগকে জানালেন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত৷ তিনি বলছেন, ‘‘একসঙ্গে অনেক মিডিয়ার বিকাশ ঘটছে৷ তারমধ্যে অনলাইন, টেলিভিশন, পত্রিকা৷ সবমিলিয়েই  প্রশিক্ষিত সাংবাদিকের এক ধরনের অভাবতৈরি হয়েছে৷ এ কারণে অনেকে খুব দ্রুতই দায়িত্বশীল পদে চলে যাচ্ছে৷ কিন্তু দায়িত্বশীলতার জায়গা একটা অভিজ্ঞতার বিষয়৷ সেটি কিন্তু হচ্ছে না৷ যে কারণে সাংবাদিকতার বেসিক যে ন্যায়নীতি অনুসরণ করা- সেটি অনেক সময় হয় না৷ এছাড়াও সংবাদ ভুলভাবে পড়া, যথাযথ নিয়ম অনুসারে না করা- এগুলো এখন অহরহ ঘটছে৷''

শ্যামল দত্ত

গণমাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সামনে রেখে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিভাগ খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়৷ আলাদা করে রয়েছে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান৷ এ বিষয়ে এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, ‘‘খুব ভালো প্রশিক্ষণের কিছু জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট আছে৷ সেখানে সাংবাদিকতার বেসিক কিছু জিনিস পড়ায়৷ কিন্তু হাতে কলমে শেখানোর যে বিষয়টা সেটা কিন্তু হয় না৷ বিশ্বের অনেক দেশে সে ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু বাংলাদেশে নেই৷ যে কারণে হাতে কলমের ট্রেনিংটা হচ্ছে না৷ আর এমনিতেই প্রশিক্ষিত সাংবাদিকের খুব অভাব৷ ফলে খুব দ্রুত এই ট্রেনিংয়ের দিকে নজর দেওয়া যাচ্ছে না৷ বাংলাদেশে আমার মনে হয় না ট্রেনিংয়ের ব্যাপারটায় অতো গুরুত্ব দেওয়া হয়৷''

পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীর সংকট কাটাতে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে শ্যামল দত্ত বলছেন, ‘‘সংগঠনগুলোর তো ভূমিকা রাখার কথা৷ কিন্তু সংগঠনগুলো কোনো ভূমিকা রাখছে না৷ তাদের কোনো পেশাদারি নেই৷ তারা নিজেদের পেশার উন্নয়নে কোনো গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে না৷ তারা বরং ট্রেড ইউনিয়নভিত্তিক কর্মকাণ্ডে বেশি আগ্রহী৷ অথচ বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উন্নয়নে বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ প্রেস ইন্সটিটিউট রয়েছে, প্রেস কাউন্সিল রয়েছে- এরা চাইলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত৷ কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য তারা ভূমিকা রাখছে না বা রাখতে পারছে না৷ তারা সাংবাদিকদের ট্রেনিং দিতে পারে৷ এটা প্রেস কাউন্সিল করতে পারে৷ তারপর পিআইবিও আছে৷ আমি নিজেও পিআইবির গভর্ণিং বডির একজন সদস্য৷ আমি দেখি সেখানে তথাকথিত যে ট্রেনিং- এর বাইরে কিছু হচ্ছে না৷ আধুনিক সাংবাদিকতার সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিকায়নের কাজ করা হচ্ছে না৷ এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়৷''

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান
স্কিপ নেক্সট সেকশন সম্পর্কিত বিষয়
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে ১২০ পাহাড় নিশ্চিহ্নকারীদের দাপট বাড়ছে

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান