সাংবাদিকই যখন নিয়ম মানেন না | বিশ্ব | DW | 24.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভাইরাল ভিডিও

সাংবাদিকই যখন নিয়ম মানেন না

রাজধানীতে উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে পুলিশের সাথে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন দুই সাংবাদিক নেতা৷ যদিও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কারণে তাঁদের নামে মামলা হয়নি৷ তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনা এবং নিন্দার মুখে পড়েছেন ঐ দুই সাংবাদিক৷

উল্টোপথে চলতে থাকা গাড়ি আটকে দিয়ে কাগজপত্র চাওয়ায় পুলিশের এক সার্জেন্টকে ধমক দিয়েছেন সাংবাদিক ঐ দুই নেতা৷ ঘটনার একটি লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়৷

ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জানুয়ারি, শুক্রবার, রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের সামনে৷ শুক্রবার অফিসার্স ক্লাব থেকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ও একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং একই সংগঠনের মহাসচিব ওমর ফারুক প্রাইভেট কারে করে বেইলি রোড হয়ে উল্টোপথে ফিরছিলেন৷ তাঁদের গাড়ি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের সামনে গেলে আটকে দেন দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট৷ কাওসার হামিদ নামের ওই সার্জেন্টের সঙ্গে এ সময় তাঁদের কথা কাটাকাটি হয়৷

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ি আটকে দেওয়ার পর মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ওমর ফারুক দাঁড়িয়ে কথা বলছেন সার্জেন্ট কাওসার হামিদের সঙ্গে৷ এ সময় বুলবুল দাবি করেন, তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে উল্টোপথে প্রবেশ করেছেন, ওনার কাছে প্রমাণ রয়েছে৷ সার্জেন্ট গাড়ির কাগজপত্র চাইলে তিনি তা দিতে চাননি৷ বরং পুলিশকে বলেন তাঁকে থানায় নিয়ে যেতে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে৷ তারপরও তিনি কাগজ দেবেন না৷ বেশ কিছুক্ষণ ধরে পুলিশের সাথে তাঁর বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে৷

ঘটনাটি সরাসরি ফেসবুকে লাইভ দেখাচ্ছিলেন মুনজারিন ইশতিয়াক নামের একজন বাইকার৷ এক পর্যায়ে তাঁর হাত থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মনজুরুল আহসান বুলবুল৷ পরে পুলিশ মোবাইল নিয়ে সব ভিডিও মুছে দেয় বলে দাবি করেন ইশতিয়াক৷ তবে ফেসবুকে সরাসরি লাইভ হওয়ায় ভিডিওটি থেকে গেছে৷

এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় দ্রুত৷ এ পর্যন্ত ফেসবুকে কয়েক লক্ষবার দেখা হয়েছে ভিডিওটি৷ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ব্লগার আরিফ জেবতিক লিখেছেন, ‘‘এই দেশে হ্যাডম দেখানোর জন্য নিয়ম-কানুন ভাঙাকে একটা মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়৷ যে যত নিয়ম ভাঙতে পারে সে তত বড় ভিআইপি৷ ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬ লক্ষই কোনো না কোনোভাবে স্বঘোষিত ভিআইপি! এই অশিক্ষিত অসংস্কৃত লোকগুলোর মধ্যে নিজের তেজ দেখানোর একটা বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে রাস্তায় উল্টো দিক থেকে গাড়ি চালানো৷ বিশেষ করে সরকারি নেতা-পাতিনেতা, পেটি অফিসার আর মিডিয়ার অশিক্ষিত লোকগুলো এটাকে তাদের বিশেষ অধিকার মনে করে থাকে৷''

‘‘সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ( লিংক প্রথম কমেন্টে) যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, সাংবাদিক নেতা বুলবুল ভাই বেইলি রোডে উল্টো লেনে যেতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ দ্বারা বাঁধা পেয়ে হম্বিতম্বি করছেন৷ তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, রাস্তার মোড়ে এক অফিসার তাঁকে উল্টো লেনে আসতে দিয়েছে, সুতরাং তাঁর কোনো অপরাধ নেই৷ দ্বিতীয় আরেকটি কথা বলছেন যে, তাঁকে বাঁধা দেয়া পুলিশ অফিসারটি আদব-কায়দা জানে না, বুলবুল ভাই পুলিশ স্টাফ কলেজে এসপিদেরকে (আদব কায়দার!) ট্রেনিং দেন৷ যিনি ট্রেনিং দেন তিনি নিজেই যদি আইন ভাঙেন তাহলে তাঁকে আবার ট্রেনিং দিতে ডাকা উচিত হবে না৷ তবে মজা পেয়েছি তাঁর অদ্ভুত যুক্তিতে যে, যেহেতু রাস্তার মোড়ে অফিসার তাঁকে এদিকে যেতে বাঁধা দেয়নি, তাই তাঁর কোনো দোষ নাই!''

তিনি একটি যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, ‘‘ভবিষ্যতে কোনো ছিনতাইকারি ধরলে সে যদি বলে বসে, রাস্তা দিয়ে আসার সময় কোনো পুলিশ তারে চেক করে নাই বলে সে ছুরি নিয়ে ছিনতাই করেছে, তার কোনো দোষ নাই, তাহলে বুলবুল ভাই ঐ ছিনতাইকারির পক্ষে দাঁড়িয়ে যাবেন বলে আমার আশংকা৷''  একইসঙ্গে তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ঐ পুলিশ সদস্যকে অভিবাদন জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘তিনি এত চাপের মুখেও বুলবুল ভাইয়ের গাড়ি ছাড়তে রাজি হননি৷ আমি সেই লোকটিকেও অভিবাদন জানাই যিনি ভিডিওটি করেছেন এবং বুলবুল ভাইয়ের ঝামটার মুখে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি উৎসাহী জনতা'৷ অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারব্রিগেড আর পুলিশের গাড়ি ছাড়া আর কাউকেই উল্টো লেনে যেতে দেয়া উচিত না৷''

ওবায়দুল হক ওবায়েদ লিখেছেন, ‘‘উল্টো পথে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর দেশের এক বিশিষ্ট সাংবাদিকের দম্ভোক্তি,‘আমি আপনার এসপিদের পড়াই'-এ কেমন আরগুমেন্ট!''

রিপন ভূঁইয়া ফেসবুকে লিখেছেন সাংবাদিকদের আরও কিছু নিয়ম ভাঙার কথা৷ লিখেছেন, ‘‘সাংবাদিকদের গাড়িতে/ বাইকের নাম্বার প্লেটে লেখা থাকে সাংবাদিক/ প্রেস৷ এমন নিয়ম পৃথিবীর আর কোথাও নেই৷''

এপিবি/এসিবি

 

উল্টোপথে গাড়ি চালানো নিয়ে আপনার মতামত লিখুন নিচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন