সাঁতরে মহাদেশ পাড়ি দিয়ে পঙ্গুত্বকে জয় করতে চান ক্রোয়াজঁ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 24.05.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সাঁতরে মহাদেশ পাড়ি দিয়ে পঙ্গুত্বকে জয় করতে চান ক্রোয়াজঁ

হাত নেই, পা নেই৷ তাতে কী ? ইচ্ছা এবং অদম্যশক্তির কাছে শারীরিক বাধাকে তুচ্ছ প্রমাণ করেছে ফ্রান্সের এক ব্যক্তি৷ ইতোমধ্যে সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন ইংলিশ চ্যানেল৷ এবার নিজেই নিয়েছেন এক চ্যালেঞ্জ৷ সাঁতরে পাড়ি দেবেন পাঁচটি সাগর৷

default

পাছাড়াই স্কি করাও সম্ভব!

ফিলিপ ক্রোয়াজঁর বয়স ৪৩ বছর৷ সতেরো বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর হাত ও পা দুইই হারিয়েছেন৷ তবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন শতশত কিলোমিটার সাঁতরে পাঁচটি মহাদেশের জলসীমা ছুঁয়ে যাওয়ার ৷

দুই সন্তানের জনক ক্রোয়াজঁ বলেন, আমার সাঁতার কেটে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার পর আমার মতো যারা আছেন তাঁদের মধ্যে আশার আলো জাগবে৷ আর সাঁতারের এই অভিযানে তাঁর সঙ্গী হতে পারেন দীর্ঘপথ সাঁতরে অতিক্রম করা চ্যাম্পিয়ন ৩৪ বছরের আরনো চাসেরি৷

সাঁতরে পাঁচ মহাদেশের জলসীমা অতিক্রম করার জন্য প্রথম রাউন্ডে তাঁরা পাপুয়া নিউগিনি এবং ইন্দোনেশিয়া সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের ২০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে সাঁতার কাটবেন৷ যদিও এসময় এই দুই সাঁতারু মুখোমুখি হতে পারেন তীব্র স্রোত, হাঙর এবং বিষাক্ত জেলি ফিশের৷

সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে ক্রোয়াজঁ এবং তাঁর সহযাত্রী জুন মাসে আকাবা উপসাগর দিয়ে জর্ডান থেকে মিশরের উপকূলীয় এলাকার ২৫ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দেবেন৷ তার পরের মাসে এই দুই সাঁতারু আফ্রিকা থেকে জিব্রালটার প্রণালী হয়ে ইউরোপে উপস্থিত হবেন৷

সবচেয়ে চমক অপেক্ষা করছে আগস্টের শেষে৷ রাশিয়া হয়ে এশিয়া মহাদেশের জলপথে প্রবেশ করবেন তাঁরা৷ সেসময় প্রায় শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সাগর পাড়ি দিতে হবে তাঁদের৷

১৯৯৪ সালে একটি বাড়ির ছাদ থেকে টেলিভিশনের অ্যান্টেনা খোলার চেষ্টা করতে গেলে ২০ হাজার ভোল্ট বিদ্যুতের চার্জে আহত হন ক্রোয়াজঁ৷ তারপর চিকিৎসকরা অপারেশন করে তাঁর হাত ও পা কেটে ফেলে৷ হাসপাতালে তিনি যখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তখন একজন চ্যানেল সাতারুকে নিয়ে টেলিভিশনে একটি প্রামাণ্যচিত্র হচ্ছিল৷ তখনই মনের মধ্যে স্বপ্ন দানা বাঁধে৷ সাঁতার কাটার জন্য বিশেষ ফ্লিপারস ব্যবহার করে তিনিও একদিন পাড়ি দেবেন চ্যানেল৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক