সাঁওতাল পল্লিতে এখন আখ চাষ হচ্ছে | বিশ্ব | DW | 06.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সাঁওতাল পল্লিতে এখন আখ চাষ হচ্ছে

গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা এক বছরেও তাঁদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেননি৷ তাঁদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে পূনর্বাসনের কথা বলছে সরকার৷ তাঁদের জমিতে এখন আখ চাষ করা হচ্ছে৷ সাঁওতালরা তাঁদের ভিটেমাটি ফেরত চান৷

গত বছরের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ রোপণকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতাল ও বাঙালিদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়৷ সংঘর্ষের সময় গুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন৷ শুধু তাই নয়, সংঘর্ষে ন'জন পুলিশ সদস্যও আহত হন৷ এ ঘটনায় সাঁওতালদের দুই শতাধিক ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়৷ উচ্ছেদ হয় প্রায় আড়াই হাজার পরিবার৷

সংঘর্ষ এবং আগুনে উচ্ছেদ হয়ে জীবন বাঁচাতে পাশের মাদারপুর-জয়পুরপাড়ায় আশ্রয় নেন সাঁতালরা৷ দুঃখের বিষয়, এখনও তাঁরা সেখানেই আছেন৷ হয় তাঁবুর নীচে অথবা খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা গত এক বছর ধরে৷ তার ওপর তাঁদের কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নাই৷ তাই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের৷ 

অডিও শুনুন 02:06
এখন লাইভ
02:06 মিনিট

‘আমি একজন কম্পাউন্ডার’

উচ্ছেদের শিকার সাঁওতাল সিলমন বাসকি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমি একজন কম্পাউন্ডার৷ উচ্ছেদের পর আমি ন'মাস কাজ করতে পারিনি৷ গত কয়েকমাস ধরে পাশের ইউনিয়নে একটি ওষুধের দোকান খুলে কোনোভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি৷ অনেকেরই কোনো কাজ নাই৷ সকলেই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন৷ কেউ কেউ তো বনের আলু ও লতা পাতা সংগ্রহ করেও খাচ্ছেন৷''

তিনি জানান, ‘‘নিহতদের পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি৷ আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনো সুস্থ হয়ে ওঠেননি৷ তাঁদের চিকিৎসাও চলছে না৷''

সাঁওতালদের দাবি, তাঁদের প্রায় দু'হাজার একর জমি জবর দখল করা হয়েছে৷ সেই জমির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আখ চাষ শুরু করেছে চিনি কলের লোকজন৷ সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ তাই উচ্ছেদ হওয়া সাঁতালরা সেখানে যেতে পারছেন না৷

বাংলাদেশে আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সাঁওতালরা এখনো মাদারপুর-জয়পুরপাড়ায় তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছেন৷ কারুর আবার মাথার ওপর তাঁবুখানিও নাই৷'' সরকার বলছে, এঁদের করতোয়া নদীর পারে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাস করবে৷ কিন্তু সাঁওতালরা সেখানে যেতে চান না৷ তাঁরা তাঁদের নিজেদের আবাস স্থলেই ফিরতে চান৷ ওই জমির মালিক তাঁরা৷ তাঁরা কয়েক পুরুষ ধরে ঐ জমিতে বসবাস করে আসছিলেন৷ শুনেছি সরকার নাকি ঐ জমিতে শিল্প স্থাপন করবে৷ আমরা তা হতে দেবো না৷'' 

অডিও শুনুন 04:18
এখন লাইভ
04:18 মিনিট

‘কারুর আবার মাথার ওপর তাঁবুখানিও নাই’

সাঁওতাল পল্লিতে হামলায় আহতদের মধ্যে একজন চরেন সরেন৷ তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘পুলিশের গুলি আমার হাত ও পায়ে লাগে৷ আজও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি৷ ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারি না৷ টাকার অভাবে ওষুধ কেনা হয় না৷ প্রকৃত হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি৷ তারা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷''

হামলার পর মিল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের করে৷ সাঁওতালদের দু'টি মামলার এজাহারে ৩৩ জনের নাম-ঠিকানা উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক হাজারের বেশি আসামি করা হয়৷ তাঁদের মধ্যে মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানান রবীন্দ্র নাথ সরেন৷

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাঁওতালদের পুনর্বাসনে গুচ্ছ গ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে৷ সেখানে তাঁরা বসবাস করতে পারবেন, জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন৷ তাছাড়া সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সাঁওতালদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলা হবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ওই জমি এখন আর সাঁওতালদের নয়৷ অনেক আগেই সরকার ওই জমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে৷ এখন ঐ জমি আইন অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয়ের৷''

অডিও শুনুন 01:11
এখন লাইভ
01:11 মিনিট

‘ওই জমি এখন আর সাঁওতালদের নয়’

কিন্তু সাঁওতালদের পুনর্বাসন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত স্বপন শেখ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঐ জমি সাঁওতালদের৷ আমরা চাই সাঁওতালদের তাঁদের ভিটেতেই পুনর্বাসন করা হোক৷ তাঁদের জমি ফিরয়ে দেওয়া হোক৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে এখন সেই জমিতে  নানা সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷ এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷''

রবীন্দ্র নাথ সরেন বলেন, ‘‘আমরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছি৷ সাঁওতালদের নিজ জমিতে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং অপরাধীদের বিচার৷ এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন