‘সহজে তৈরির পথ দেখাতে পারলেই পিঠার জনপ্রিয়তা বাড়বে′ | আলাপ | DW | 14.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘সহজে তৈরির পথ দেখাতে পারলেই পিঠার জনপ্রিয়তা বাড়বে'

পিঠা-পুলি বাঙালির সংস্কৃতিরই অংশ৷ পিঠার প্রতি আগ্রহ কি বাড়ছে, নাকি কমছে? কিভাবে আরো জনপ্রিয় করা যায় পিঠা? পিঠা কি রপ্তানি করা সম্ভব? এসব বিষয়েই ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন গবেষক শাহেদা ইয়াসমিন৷ 

ডয়চে ভেলে:বাংলাদেশের আঞ্চলিক পিঠা কোনগুলো?

শাহেদা ইয়াসমিন: বাংলাদেশের আঞ্চলিক পিঠার কয়েকটি নাম আমি আপনাকে বলতে পারি৷ এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে আছে বাঁশের চুঙ্গি পিঠা, এটা মার্মারা করে থাকে৷ নওগাঁর আছে খুপি পিঠা৷ ভোলার আছে দুধ খেঁজুরি, শরীয়তপুরের আছে শিরবিরন পিঠা, যেটা আমার নিজেরও খুবই পছন্দ৷ আর সিলেটের কিছু পিঠা তো অবশ্যই বিখ্যাত৷ এর বাইরে চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, চিতন, ভাপা, আন্দসা, ঝুড়ি পিঠাসহ কত পিঠাই তো আছে৷

কোন পিঠার বৈশিষ্ট্য কী? আর এসব পিঠার স্বাদ কেমন?

আচ্ছা আগেই বলে নেই, পিঠা কিন্তু বাঙালিদের খাদ্যের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ আমরা মনে করি শীতকালটা পিঠার সময়৷ যদিও পিঠা কিন্তু আমরা রোজ খাই না৷ গ্রামাঞ্চলে যখন ধানটা তোলা হয়, তখন এই ধান তোলাকে কেন্দ্র করে যে উৎসবগুলো পরিচিত, যেমন নবান্ন, পৌষপার্বণ এসব ঘিরেই কিন্তু পিঠার উৎসবটা হয়ে থাকে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পিঠা কিন্তু মিষ্টিই হয়ে থাকে৷ এর বাইরে ফল দিয়ে কিছু পিঠা বানানো হয়, যেমন কাঁঠাল, নারকেল, তাল, কলাসহ অনেক রকম ফল দিয়ে পিঠা বানানো হয়৷ মাংস দিয়েও কিন্তু কিছু পিঠা বানানো হয়৷ পিঠা ভাপ দিয়ে হয়, আবার ভেজেও হচ্ছে, নানাভাবে বানানো হয় পিঠা৷ একেকটার স্বাদ একেকরকম৷ 

জেলা বা অঞ্চল ভেদে পিঠায় কী ধরনের পার্থক্য দেখা যায়?

আগেই যেটা বলছিলাম পার্বত্য এলাকায় মার্মারা করে বাঁশের চুঙ্গি পিঠা৷ এর বৈশিষ্ট্য আলাদা৷ চুঙ্গির মধ্যে যখন ভাত দেয়া হয়, তখন কিন্তু এর সঙ্গে আর কিছুই দেয়া হয় না৷ চুঙ্গি কেটে যখন ভাত বের করা হয়, তখন অনেকে সেই ভাত ভেজে খায়৷ আবার অনেকে দুধ জ্বাল দিয়ে একটু টাটকা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি করে৷ এটাকে অনেকভাবেই ব্যবহার করা যায়৷ আবার খুপি পিঠা, এটা কিন্তু খুব মিষ্টি হবে না৷ আবার দুধ খেজুরি পিঠা, এটা কিন্তু খুবই মজার একটা পিঠা৷ এটা যেমন দুধ জ্বাল দিয়ে করলেন, এরপর একটু নারকেল দিলেন, সেটা কিন্তু অনেক মজার একটা পিঠা৷ আর শিরবিরণ পিঠার কথা বললাম, সেটা তো আমার খুবই ফেবারিট৷ আমি মিষ্টি খাই না, তবে শিরবিরন পিঠা বানালে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারি না৷  আর সিলেটের পিঠাতে কিন্তু একটু ঝালও দেওয়া হয়৷

অডিও শুনুন 09:41
এখন লাইভ
09:41 মিনিট

‘শীতকালেও আমরা পিঠা বাজার থেকে কিনে খাওয়ার চেষ্টা করি’

পিঠা সংস্কৃতিতে ফিউশন কী এসেছে? এমন কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাবে?

দেখেন, আমরা যখন বিদেশিদের পিঠা বোঝাতে যাই, তখন প্রথমেই বলি রাইসকেক৷ আসলে পিঠা কিন্তু রাইসকেক না৷ আমি নিজেও কিন্তু পিঠার মূল জিনিসটা ধরে রেখে কয়েকটা ফিউশন করেছি৷

সহজে করা যায়, স্বাদ ভালো এবং জনপ্রিয় পিঠা কোনগুলো?

ঘুরে ফিরে আমি সেই শরীয়তপুরের শিরবিরন পিঠাতেই চলে আসব৷ এটা অসম্ভব সোজা৷ আবার স্বাদও ভালো৷ আধা কেজি খিরসা, ৫টা মুরগির ডিম, দুই কাপ চিনি দিলেন আর দুই চামস ঘি দিলেন তাতেই হয়ে যাবে৷ ঘি বাদে অন্য সবগুলো একসঙ্গে ফেটে নিয়ে তারপর ঘি মিশিয়ে আমরা যেভাবে পুডিং তৈরি করি, সেভাবে বসিয়ে এক ঘন্টা রাখলেই এই পিঠাটা তৈরি হয়ে যাবে৷

আর কোন কোন পিঠা এমন সহজে করা যায়?

দেখেন, সেদিন আমি নিজেও একটা পিঠা তৈরির জন্য ট্রাই করলাম৷ এবং পরে সবাই বেশ ভালোই বলল৷ প্রথমে চার কাপ কুড়ানো নারকেল নিলাম, তার মধ্যে এক কাপ চালের গুঁড়ো দিলাম৷ একটু এলাচির গুঁড়ো দিলাম, একটু নারকেলের দুধ দিলাম, আর চিনি যত কম দেওয়া যায় তা দিয়ে সবকিছু ভালো করে মাখিয়ে ফ্লেভারের জন্য একটা কাঁচামরিচ বসিয়ে দিলাম৷ এগুলো কলাপাতার মধ্যে ভালো করে মুড়িয়ে আধা ঘণ্টা ভাপ দিলাম৷ যখন নামালাম, দারুন ফ্লেভার৷ যারা খেয়েছে, তারা সবাই খুবই প্রসংশা করেছে৷

এটার নাম কী দিয়েছেন?

আসলে কোনো নামই দিইনি৷ তবে আমার মনে হয় কাঁচামরিচ-নারকেল পিঠা নাম দিলেই ভালো হয়৷

পাটিসাপটা, আন্দসা যেগুলোর কথা বলছিলেন, এগুলো করা কি সহজ, না কঠিন?

দেখেন আমি শর্টকাট কাজ পছন্দ করি৷ আমার যদি পাটিসাপটা বানাতেই হয় তাহলে ভেতরে সুজি দিয়ে খেতে পছন্দ করি না৷ ভেতরে কিন্তু তাহলে খিরসা দিতে হবে৷ দেখেন, এই খিরসা বানানো তো কঠিন৷ সময় লাগে৷ ইদানিং খিরসাটা কিনতে পাওয়া যায়৷ যদিও এগুলো আমাদের দাদী-নানীরা করতেন, তাঁরা সময় নিয়ে এগুলো বানাতেন৷

বাংলাদেশের পিঠা কি রপ্তানি হতে পারে? সেটা সম্ভব হলে কোন পিঠা?

অবশ্যই বাংলাদেশের পিঠা রপ্তানি হতে পারে৷ তবে দুধ দিয়ে বানানো কোন পিঠা রপ্তানি করা যাবে না৷

পিঠার জনপ্রিয়তা কি কমছে, নাকি বাড়ছে?

আসলে এখন কিন্তু মানুষের ব্যস্ততা অনেক বেশি৷ তাই শীতকালেও কিন্তু আমরা পিঠাটা বাজার থেকে কিনে খাওয়ার চেষ্টা করি৷ এটা বানানো একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার৷ এখন কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে মিষ্টি একটু দিলাম, তার সঙ্গে পিঠাও দেওয়া হচ্ছে৷ সেই হিসেবে পিঠার জনপ্রিয়তা কমেনি, অবশ্যই কমেনি এবং বেড়েছে তো বটেই৷ তবে আগে যেমন দাদী, ফুফুরা ঘর ভরে বসে পিঠা বানাতেন, সেই প্রচলন এখন আর দেখি না৷

পিঠাকে কিভাবে আরো জনপ্রিয় করা যায়?

পিঠা তো আমরা সব সময় খাই না৷ কৃষকের ঘরে যখন গোলাভরা ধান থাকে, তখন পিঠা তৈরি হয়৷ এর জনপ্রিয়তা তো অবশ্যই আছে৷ তবে দেখেন, একটু ফিউশন করে আমরা যদি সহজে তৈরি করার পথ বের করতে পারি এবং সেটা সবাইকে দেখাতে পারি, তাহলে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা আরো অনেক বেড়ে যাবে৷

দেশে এখন অনেক পিঠা উৎসব হয়৷ এমন উৎসবের ভালো দিকগুলো কী কী?

শীতকালে তো আমাদের সব ধরনের উৎসব হয়৷ এই সময় অনেক পর্যটকও দেশে আসেন৷ তখন এই মেলাগুলোতে পর্যটকদের সঙ্গে আমাদের দেশের পিঠার একটা পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়৷ সেটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ৷

শাহেদা ইয়াসমিনের এই সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন