সর্বগ্রাসী নীল কাঁকড়াকে বশে এনেছেন টিউনিশিয়ার জেলেরা | অন্বেষণ | DW | 14.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

সর্বগ্রাসী নীল কাঁকড়াকে বশে এনেছেন টিউনিশিয়ার জেলেরা

জলবায়ু পরিবর্তনসহ একাধিক কারণে বিশ্বের অনেক প্রান্তে ইকোসিস্টেমে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে৷ নীল কাঁকড়ার উপদ্রবে টিউনিশিয়া উপকূলে প্রথমে সংকট সৃষ্টি হলেও জেলেরা সেই ধাক্কা সামলে নিচ্ছেন৷

ভোরের আলো ফোটার আগেই জেলেরা গাবেস উপসাগরে বেরিয়ে পড়েন৷ টিউনিশিয়ার পূর্ব উপকূলের এই উপসাগর প্রায় একশো কিলোমিটার দীর্ঘ৷ সম্প্রতি মাছের সন্ধান পেতে জেলেদের উপকূল থেকে অনেক দূরে যেতে হচ্ছে৷ আবদুল্লাহ এল আদিব তাদেরই একজন৷ নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমি ৩৮ বছর ধরে জেলে হিসেবে কাজ করছি৷ এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে৷ ২০ বছর আগে কত পরিমাণ চিংড়ি ধরতাম৷ কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একের পর এক ঘটনার কারণে আমরা বেশি মাছ ধরতে পারছি না৷ বর্তমানে ব্লু ক্র্যাব বাকি সব নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে৷''

২০১৪ সালের শেষের দিকে সেখানে প্রথম নীল কাঁকড়া চোখে পড়ে৷ টিউনিশিয়ায় এর আগে সেই প্রজাতির কথা কেউ জানতো না৷ দ্রুত বংশবৃদ্ধির কারণে মাত্র আট মাসের মধ্যে এই কাঁকড়ার উৎপাতে জেলেদের অনেক সমস্যা হচ্ছে৷

এই কাঁকড়া মাছের জাল কেটে দেয়, মাছসহ যা পায় সব খেয়ে নেয়৷ এমন সন্ত্রাসের কারণে জেলেরা সেই প্রজাতিকে কুখ্যাত ইসলামিক স্টেট উগ্রাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করে ‘দায়েশ' নামে ডাকেন৷

এই ব্লু ক্র্যাব আসলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়৷ লোহিত সাগর ও সুয়েজ প্রণালী দিয়ে সেগুলি ভূমধ্যসাগরে পৌঁছে গেছে৷ সেখানে আরও প্রায় এক হাজার নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটেছে৷

ভিডিও দেখুন 04:25

টিউনিশিয়ার নীল কাঁকড়ার কথা

টিউনিশিয়ার জাতীয় সমুদ্রবিদ্যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে ওলফা বেন আবদাল্লাহ ও তাঁর টিম নীল কাঁকড়া নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷ বিজ্ঞানীরা এই ধ্বংসাত্মক প্রজাতি সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী৷ এই কাঁকড়া কত দ্রুত বেড়ে ওঠে, কত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, নতুন এলাকায় এসে অন্যান্য প্রজাতির উপর কতটা প্রভাব ফেলে – এমন সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাঁরা৷ সেই লক্ষ্যে তাঁরা কাঁকড়ার পেট খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন৷ বিজ্ঞানী হিসেবে ওলফা বেন আবদাল্লাহ বলেন, ‘‘ব্লু ক্র্যাব অত্যন্ত পেটুক প্রাণী৷ পেট কিছুতেই ভরে না৷ যা পায় শিকার করে৷ চিংড়ি তো খায়ই, সঙ্গে স্কুইডও চাই৷ এই প্রাণী গাবেস উপসাগরের মাছও শিকার করে৷ অথচ সেই মাছ স্থানীয় মৎস শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷''

ব্লু ক্র্যাব এমনকি সামুদ্রিক কচ্ছপের মতো বড় প্রাণীর জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে৷ ভূমধ্যসাগরে তিন প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ বিচরণ করে৷ প্রত্যেকটি প্রজাতিই লুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায় রয়েছে৷ শীতকালে খোরাকের খোঁজে সেগুলি গাবেস উপসাগরে চলে আসে৷ বিজ্ঞানী হিসেবে ওলফা চাইব মনে করেন, ‘‘সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের জন্য সি টার্টল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এই প্রাণী খাদ্য শৃঙ্খলে ভারসাম্য বজায় রাখে৷ যেমন লগারহেড টার্টল সর্বভূক৷ কাঁকড়া, শামুক, মাছ, জেলিফিশ – প্রায় সবকিছুই খায়৷ কোনো প্রজাতির হাতে যাতে নিয়ন্ত্রণ চলে না যায়, তা নিশ্চিত করে৷ ভারসাম্যে ফাটল ধরলেই সি টার্টল আবার সবকিছু স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে৷''

ব্লু ক্র্যাব অনেক জেলের জীবিকা প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল৷ কিন্তু এখন সেই প্রাণীই আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে৷ ফলে মাছ ধরার শিল্প আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে৷ সেই কাঁকড়া ধরে কাজে লাগানোর ফলে টিউনিশিয়ার উপকূলের কাছে সেই প্রজাতির সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে৷

বরমান/ডালালি/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়