‘সরকার হিজরাদের স্বীকৃতি দিলেও সমাজ দেয়নি’ | বিশ্ব | DW | 11.11.2014

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘সরকার হিজরাদের স্বীকৃতি দিলেও সমাজ দেয়নি’

মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার চান বাংলাদেশের হিজরারা৷ ‘তৃতীয় লিঙ্গ' হিসেবে সরকার স্বীকৃতি দিলেও সমাজ এখনো স্বীকৃতি দেয়নি, মেনে নেয়নি৷ ডয়চে ভেলেকে এ কথা বলেন হিজরাদের সংস্থা সুস্থ জীবনের নির্বাহী পরিচালক ববি হিজড়া৷

তিনি বলেন, ‘‘হিজরারাও তো মানুষ! তাদেরওতো সমাজের অন্য পাঁচজনের মতো বেঁচে থাকার অধিকার আছে৷ স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার আছে৷ অথচ রাষ্ট্রের কোথাও স্থান নেই আমাদের৷ পৃথিবীতে আপন বলে কেউ নেই৷ কেউ আমাদের ভালো চোখে দেখে না৷ ফলে প্রতিনিয়তই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হচ্ছে৷ এবার সুযোগ চাই৷ আমরাও মানুষের মতো বেঁচে থাকতে চাই৷ সম্মান চাই, অধিকার চাই৷''

হিজরাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গত ২ নভেম্বর থেকে সারাদেশে ‘হিজরা প্রাইড কর্মসূচি ও পরামর্শক' সভার আয়োজন করে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বিএসডাব্লিউএস)৷ সোমবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক পরামর্শক সভায় ‘ঢাকা ঘোষণা'র মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়েছে৷

Hijra Day Transgender Pride Parade in Dhaka, Bangladesch

হিজরারাও মানুষ!

বিএসডাব্লিউএস-র কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট জাহিদ আল আমিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঢাকা ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে সরকারের স্বীকৃতির পাশাপাশি সাংবিধানিক স্বীকৃতি৷ সংসদে বিল এনে তা পাস করাতে হবে৷ তৃতীয় লিঙ্গের সাংবিধানিক স্বীকৃতি হলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে শুরু করবে৷ তখন হিজরারা সমাজে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে৷''

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত পরামর্শক সভায় উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে এম নূর-উন-নবী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ইউএনএইডস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর লিউ ক্যানি৷

তারানা হালিম বলেন, জাতীয় সংসদের একজন সদস্য হিসেবে তিনি দলীয় প্রধানসহ সবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন৷ সংসদে যাতে বিল পাস করা যায় তার ব্যবস্থা করবেন৷

হিজরাদের সংগঠন ‘সম্পর্কের নয়া সেতু'র প্রেসিডেন্ট জয়া সিকদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলে অনেক কিছুই আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে৷ এখন কোনো বাড়ির মালিক বাসা ভাড়া দিতে চান না৷ সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানেই চাকরির সুযোগ নেই৷

সাংবিধানিক স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গে এই সুযোগগুলোও পাওয়া যাবে৷'' তিনি বলেন, হিজরাদের এতদিন সম্পত্তির কোনো অধিকার ছিল না৷ এখন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে সম্পত্তির ভাগ চান তারা৷ তাঁর মতে, শুধু কাগজে স্বীকৃতি দিলেই হবে না, রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার৷ আর সে কাজ চাইলে রাষ্ট্রই করতে পারে৷

ববি হিজরা বলেন, ‘‘অত্যাচার সইতে না পেরে দুইবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম৷ খেলতে গেলে না পুরুষ না নারী স্বভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে কেউ খেলতে নিতো না৷ সবাই হাসিঠাট্টা করতো৷ বাড়িতে এসব বললে বাবা-মা-ভাই সবাই আমাকেই মারতেন৷ বলতেন, তোরই দোষ, আচরণ পাল্টাস না কেন? একদিকে বাড়িতে অন্যায়-অত্যাচার, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, অন্যদিকে সমাজের তিরষ্কার চলতো প্রতিনিয়ত৷ এভাবে আর কতোদিন বাঁচা যায়!'' তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যেন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি, সেই সুযোগ চাই৷

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত পরামর্শক সভায় উপস্থিত হিজরারা বলেন, ‘‘আমরা সমাজে মানুষের মতো বাঁচতে চাই৷ মানুষ হিসেবে প্রাপ্য অধিকার চাই৷ সুযোগ দিলে আমরাও সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারব৷ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আমাদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে৷ করুণা নয়, দক্ষতার ভিত্তিতে আমরা কাজের সুযোগ চাই৷'' তাঁরা বলেন, ‘‘হিজরারা চাঁদাবাজি করে বলে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়৷ কিন্তু তাদের দুর্ভোগের কথা কেউ তুলে ধরে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়