‘সরকার প্রবাসীদের জন্য কী করে, বোঝা যায় এয়ারপোর্টে′ | আলাপ | DW | 12.08.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

‘সরকার প্রবাসীদের জন্য কী করে, বোঝা যায় এয়ারপোর্টে'

‘বাংলাদেশ প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীল৷ অথচ তাঁদের নিয়ে সরকারের কোনো চিন্তা নেই, গুরুত্ব কেবল বক্তৃতায়৷' ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় এই মন্তব্যটি এক পাঠকের৷ তবে শুধু তিনি নয়, আরো অনেকেই এ রকম মনে করেন৷

‘‘সরকার যে প্রবাসীদের জন্য কী করে তা বোঝা যায় ঢাকা এয়ারপোর্টে গেলেই৷ আমাদের সাথে ওখানে জানোয়ারের মতো ব্যবহার করা হয়৷'' নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই মন্তব্য করেছেন পাঠক আবির হাসান৷

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘সরকারের কি আর প্রবাসীদের কথা ভাবার দরকার আছে? প্রবাসীরা কি সরকারকে ভোট দেয়? তাছাড়া এখন তো ভোট ছাড়াই সরকার হওয়া যায়৷ তাই তো প্রবাসীরা এত অবহেলিত৷ তবে সরকার যে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্য ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছে, এতে প্রবাসীদের অনেকটাই ভুমিকা থাকবে, আর এ কথা সরকারকেই ভাবতে হবে৷'' বংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা ডয়চে ভেলের ফেসবুকে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল৷

তবে মো. আবদুল্লাহ আল-মাসুদের অভিজ্ঞতা আরো ভয়ংকর৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘প্রবাসীদের সাথে এয়ারপোর্টে খুব খারাপ ব্যবহার করেন কিছু অফিসার৷ এমনকি ব্যাগ কেটে দামি জিনিসপত্র রেখে পরে ব্যাগ টেপ দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দেয়৷''

আবদুল হাসান নাহিদ অনেক দুঃখে খানিকটা ব্যঙ্গো করেই জানিয়েছেন, ‘‘দেশে পা ফেলতেই শুভেচ্ছা হিসেবে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হতে হয়৷''

অন্যদিকে নিজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও পাঠক আসিফ মেহেদি প্রবাসী অনেকের কাছেই শুনেছেন যে, ঢাকা বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে নাকি প্রবাসীদের মানুষ বলেই গণ্য করা হয় না৷

‘‘প্রবাসীরা তাঁদের পরিশ্রমের এত টাকা রেমিটেন্স দেওয়ার পরও যখন শখ করে ঢাকা এয়ারপোর্টে একটা টেলিভিশন কিনতে যান, তখন নাকি ঝামেলার শেষ থাকে না৷'' – এই মন্তব্য ফেসবুকবন্ধু মাহবুবের৷

‘‘নিজের জন্মস্থানে যেতে ভিসা নিতে হচ্ছে৷ তারপর এয়ারপোর্টের ঝামেলা, দেশে নিরাপত্তাহীনতা – সব মিলিয়ে প্রবাসীদের অবস্থা বেশ খারাপ৷'' দুঃখ করে লিখেছেন পাঠক মোহাম্মদ আলম৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুক বন্ধু সেলিম হাওলাদারের ধারণা, সরকার চাইলে সবকিছুই করতে পারে৷ কিন্তু সরকার প্রবাসীদের জন্য কেন যে তা করে – সেটাই সেলিমের প্রশ্ন৷ সরকারের কাছে তাঁর আকুল আবেদন – প্রবাসীদের জন্য এ সব সুযোগ করে দেওয়ার, যাতে দেশে-বিদেশে সবাই ভালো থাকতে পারেন৷

ওদিকে রুবেল হাসানের কথায়, ‘‘সরকার দেশ উন্নয়নের ধোয়া তুলছে৷ কিন্তু যাদের দ্বারা এই উন্নয়ন, তারা সরকারের সুনজরে আসে না৷''

হাসানের মতো মোহাম্মদ রহমান, সাইফ আল-হাসান, কিরণ আকন্দেরও কষ্ট কম নয় যে তাঁরা নিজের দেশের সরকারের কাছেই অবহেলিত৷

‘‘বাংলাদেশ সরকার কখনোই প্রবাসীদের প্রতি গুরুত্ব দেয় না৷ সবই আসলে রাজনীতি৷ বিমানবন্দরের লোকজন এমন আচরণ করে যেন আমরা ভিনদেশি৷'' – এই মন্তব্য ডয়চে ভেলের ফেসবুক-বন্ধু আবদুল্লাহর৷

ইব্রাহিম খলিল বলছেন, ‘‘আসলে প্রবাসী ভাইদের প্রতি সরকারের সম্মান জানানো উচিত৷ তাছাড়া তাদের রক্ত পানি করা টাকা কোথায় যাচ্ছে এবং কাদের পকেটে যাচ্ছে, তা সরকারের নজর রাখা উচিত৷ সরকার তা না করায় উল্টে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে৷''

আর বাংলাদেশের ব্যাপারে ফরিদ মাহমুদ এতটাই হতাশ যে মনের দুঃখে তিনি বলেই ফেলেছেন, ‘‘এ সব নিয়ে লেখালেখি করে কোনো লাভ নেই৷ কারণ এ সব দেখার কেউ নেই৷''

ফরিদ মাহমুদের সাথে পুরোপুরি একমত পাঠক মনির খান, রাজু, বেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকে৷

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়