সরকার না দেখলে সাড়ে ৫ কোটি মানুষের কী হবে? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সরকার না দেখলে সাড়ে ৫ কোটি মানুষের কী হবে?

করোনায় আর্থিক ক্ষতির প্রণোদনা নিয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন৷ সেখানে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করবেন৷ এখন পর্যন্ত পোশাক খাত ছাড়া আর কারো জন্যই প্রণোদনার কথা বলা হয়নি৷

এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রণোদনার পাঁচ হাজার কোটি টাকা শ্রমিকদের বেতনের জন্য ব্যয় করা হবে৷ আর এটা শতকরা দুই ভাগ সুদে ঋণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে৷ যেসব প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ উৎপাদিত পণ রপ্তানি হয়, তারাই এই প্রণোদনা পাবে৷ আর রপ্তানি খাত বলতে বাংলাদেশে প্রধানত  তৈরি পোশাক খাতকেই বোঝায়৷ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগেরও বেশি এই খাত থেকে আসে৷

কিন্তু বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষ সাড়ে ছয় কোটি৷ আর পোশাক খাতে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন৷ তাই করোনায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন এরকম সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষের জন্য এখনো কোনো প্রণোদনা বা সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়নি৷ তাদের সাথে তাদের পরিবারও যুক্ত৷ 

অডিও শুনুন 03:30

‘শুধু পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে হবে না’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে এই করোনায় শিল্প ও ব্যবসা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ব্যক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ আবার শুধু রপ্তানিমূখী নয়, দেশীয় ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পও ক্ষতির মুখে পড়বে৷ অর্থনীতির প্রায় প্রত্যেকটি খাতই ক্ষতির মুখে৷ তাই এই প্রণোদনা বা সহায়তার জন্য সার্বিক পরিবল্পনা দরকার৷ শুধু রপ্তানিমূখী শিল্পে প্রণোদনা দিলে হবে না৷ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং সাউথ এশিয়ান টেওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিং (এসএএনইম)-এর নির্বাহী পরিচাল ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, ‘‘দেশীয় বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও সেবা খাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নিয়ে পরিকল্পনা প্রয়োজন৷ তাদের টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনা দিতে হবে৷ শুধু পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে হবে না৷’’

দুই বছরের একটি রিকভারি প্ল্যানের প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ‘‘এই রিকভারি প্ল্যান অনুযায়ী, আমাদের বাজেট ও পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করতে হবে৷’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই করোনায় গরিব মানুষ আরো গরিব হবে৷ আর যারা এখন প্রান্তিক পর্যায়ে আছেন তারাও গরিব হয়ে যাবেন৷ যারা নিম্নবিত্ত তারাও ঝুঁকিরমধ্যে পড়ে গেছেন৷ তাই সবাইকে এখন সামাজিক নিরাপত্তা নেটের মধ্যে আনতে হবে৷ আর কর, ব্যাংকিং ও বাণিজ্য খাতে সংস্কার আনতে হবে৷’’

সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন প্রণোদনার পরিকল্পনা করা দরকার ব্যাপকভিত্তিক৷ তিনি বলেন, ‘‘দেশীয় বাজারভিত্তিক এসএমই খাত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, পোল্ট্রি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সেবা খাত, পর্যটন, হাসপাতাল, হোটেল রোস্তোরাঁ- সবাই ক্ষতিগ্রস্ত৷ তাদের দুই ধরনের প্রণোদনা দরকার৷ রিভলবিং ফান্ড আকারে স্বল্প সূদে ঋণ দেয়া দরকার, যাতে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে পারেন, শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেন৷ আবার রাজস্বের দিক থেকেও প্রণোদনা দেয়া যায় ভ্যাট, ট্যাক্স মওকুফ বা রেয়াত দিয়ে৷’’ 

অডিও শুনুন 06:27

‘দুই ধরনের প্রণোদনা দরকার’

তবে সাধারণ মাানুষকে বাঁচাতে বড় উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি৷ আর এজন্য সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়াতে হবে৷ চালু থাকা ওএমএস আরো বিস্তৃত করতে হবে৷

বাংলাদেশে করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি কী পরিমাণ হবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না৷ তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলছে, জিডিপির শূণ্য দশমিক ৬ ভাগ অবনমন হতে পারে৷ কিন্তু গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, করোনা কোথায় শেষ হবে তা বলা মুশকিল৷ এটা বিশ্ব অর্থনীতিতেও ব্যাপক আঘাত হানছে৷ তার প্রশ্ন, ‘‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কাজ করে৷ ৮০ ভাগ রপ্তানি করে এমন পোশাক খাতে শ্রমিক আছেন ৪০ লাখ৷ তাহলে বাকি ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষের কী হবে?’’

তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্য খাতে এখনই বড় বরাদ্দ প্রয়োজন৷ তা না হলে ক্ষতি আরো বাড়বে৷ তাই তার প্রস্তাব, এই বাজেটে বিভিন্ন খাতে অনেক অব্যবহৃত অর্থ আছে, সেই অর্থ স্বাস্থ্য এবং সামাজিক খাতে ব্যয় করা হোক৷ আর আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে বরাদ্দ অনেক বাড়াতে হবে৷ 

২০ মার্চের ছবিঘর দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন