সরকারের হুঁশিয়ারিতে কি পিটিয়ে মারা থামবে? | বিশ্ব | DW | 28.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সরকারের হুঁশিয়ারিতে কি পিটিয়ে মারা থামবে?

কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো, গণপিটুনি এবং হিংসার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে এই মর্মে রেডিও, টেলিভিশন এবং গণমাধ্যমগুলিতে কড়া হুঁশিয়ারি দেবে৷

সুপ্রিম কোর্ট সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল গণপিটুনি ও হিংসারোধে শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা মেনে চলা হচ্ছে কিনা৷ সমাজতত্ত্ববিদ দেবদাস ভট্টাচার্য় মনে করেন, শুধু আইনই যথেষ্ট নয়, পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে৷

গণপিটুনি এবং গণহিংসায় যে কড়া শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে হুঁশিয়ার করে দিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ ঐ নির্দেশিকায় রেডিও, টেলিভিশন, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও পুলিশ বিভাগের ওয়েবসাইট এবং পত্রপত্রিকায় বার্তা দিয়ে জনসাধারণকে সাবধান করে দেবার কথা বলা হয়৷ কিন্তু সরকারের টনক না নড়ায় মানবতাবাদী কর্মী তেহসিন পুণাওয়ালার আইনজীবী ইন্দিরা জয় সিং সেদিকে শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ বলেন, আড়াই মাসেরও বেশি হতে চললে এ বিষয়ে সরকারের তরফে কার্যত কোনো সাড়াশব্দ নেই৷ সাধারণ মানুষকে সাবধান করা জরুরি যে, এই ধরনের ঘটনা কতটা গুরুতর৷ আইন চুপ করে থাকতে পারে না কিছুতেই৷

অডিও শুনুন 03:15

‘মুশকিলটা হচ্ছে, গণধোলাই যারা দেয়, তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকে’

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক বেঞ্চ এই অভিযোগ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বেনুগোপাল এবং অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, যদি ইতিমধ্যে তা পালন করা না হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা করা হবে এবং সেটা সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই৷   

বিচারপতিদের বেঞ্চ বলে, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে৷ মানুষকে বোঝাতে হবে এই ধরনের হিংসায় জড়ালে আইন তাঁকে রেহাই দেবে না৷ আদালত আরো বলে, সুপ্রিম কোর্টের ১৭ই জুলাইয়েএর নির্দেশিকা মানা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আটটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনো পর্যন্ত কিছুই জানায়নি৷ তিন দিনের মধ্যে হলফনামা পেশ করে তা জানাবার আদেশ দেওয়া হয়৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গণপিটুনির কারণ ধর্মীয় বিদ্বেষ কিংবা জাতি বিদ্বেষ৷ মুসলিম, দলিত, জনজাতি এবং খ্রিস্টানরা এর শিকার৷ মুখ্য কারণ গো-হত্যা, গো-পাচার, গো-মাংস ভক্ষন কিংবা লাভ জেহাদের নামে এই হিংসা৷ কারণ, এই ধরনের অভিযোগের জিগির তুললে গণপিটুনি এবং গণহিংসা সহজ হয়৷

এ বিষয়ে সমাজতত্ত্ববিদ দেবদাস ভট্টাচার্যের অভিমত জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এটা তো একটা রাজনৈতিক ট্যাক্সি৷ শুধু পাগল-ছাগল করে বেড়াচ্ছে তা তো নয়৷ কাজেই উদ্যোগটা রাজনৈতিকই হতে হবে৷ সেটা করতে পারলে সমাধান সম্ভব৷ অন্য লোকেরা যদি এগিয়ে আসে, তাহলেই সম্ভব৷ মুশকিলটা হচ্ছে গণধোলাই যারা দেয়, সাধারণত তাদের একটা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকে৷ কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণধোলাইয়ের অভিযোগ আছে, সে নাকি এবার ভোটে দাঁড়তে যাচ্ছে৷ কাজেই আমি মনে করি, পালটা প্রতিরোধটা হতে হবে রাজনৈতিক৷''

এক্ষেত্রে আইনের ভূমিকা কী হবে জানতে চাইলে দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আইন তো আছেই৷ আদালত তো বলে দিয়েছে এটা ঠিক নয়৷ আসলে ভারতে আইনের বিষয়টা একটা লম্বা ব্যাপার৷ সবকিছুতেই যদি সর্বোচ্চা আদালতে যেতে হয়, তাহলে তো চলে না৷  কোথায় কোন গ্রামে কে কাকে পিটিয়ে মারলো, তারজন্য কে আদালতে লড়তে যাবে৷ যার সোশ্যাল ক্যাপিট্যাল, যাকে বলে সামাজিক মূলধন আছে, সে লড়তে পারে৷ যার সেটা নেই, সে কী করবে ?''

 

সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এখন তো সোশ্যাল মিডিয়ার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে৷বলা হয়েছে, পাঁচজনের বেশি ফরোয়ার্ড করা যাবে না৷ এই ধরনের সেন্সরশিপ থাকা জরুরি৷ লিগ্যালি বলছি না, তবে দেখবেন, আমাদের দেশে লিগ্যাল প্রোটেকশন শেষ পর্যন্ত সেই পায়, যার সোশ্যাল ক্যাপিটেল আছে৷ যার নেই, সে তেমন আইনের সাহায্য পায় না৷ সামাজিক মূলধন বলতে বোঝাতে চাইছি পাড়ার লোকজন৷ তাঁরা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে সে বেঁচে যাবে৷ রাজস্থানে যে বাঙালিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, সেই হত্যাকারীদের একজন এবার ভোটে দাঁড়াচ্ছে৷ কাজেই রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে এই ধরনের কাজ করতে কেউ সাহস পায় না৷ সর্বোচ্চ আদালত আইনত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা ছাড়া আর বেশি কী বলতে পারেন? রাজনৈতিক খেলা তো বলতে পারেন না৷ মোটকথা, যারা নোংরা রাজনীতি করছে, তাঁদের বরোধিতা করতে হবে৷ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে৷ তবেই এই ধরনের ঘটনা হয়ত বন্ধ হবে৷''

পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গোরক্ষার নামে হিংসা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলি মনে করে, কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের এটা এক ধরনের জাতি বিদ্বেষ, যেখানে শত্রুকে ধর্ম, জাতি ও আদর্শ থেকে ভিন্ন ভাবা হয়৷ অন্য কথায় তাদের নিশ্চিহ্ন করার কথা ভাবা হয়৷ আরেকটা কারণ, ছেলে ধরার অভিযোগ দেগে দেওয়া৷ এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায়  ছেলে ধরার গুজব একবার ছড়িয়ে দিলেই হলো৷ আর রক্ষা নেই৷

এই তো কয়েকদিন আগেকার ঘটনা৷ লাভ জেহাদের জিগির তুলে দিল্লির কাছে মিরাট শহরে একজন মুসলিম যুবককে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কিছু লোক৷ পুলিশের নাকের ডগায়৷ অপরাধ, সে একজন হিন্দু মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে প্রেম করছে৷ তাদের কাছে ভিন ধর্মের মেয়ের সঙ্গে রোমান্স অসহ্য৷ মেয়েটিকেও কম হেনস্থা করা হয়নি৷ ঐ ছেলে-মেয়ে দুটি মেডিকেলের ছাত্রছাত্রী৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোরগোল শুরু হয়৷  কর্নাটকের বিদার থেকে কিছু মুসলিম যুবক হায়দ্রাবাদে ফিরছিলেন৷ পথে এক জায়গায় থেমে স্নেহবশত বাচ্চাদের চকলেট দেয়৷ গুজব ছড়ায়, ওরা নাকি ছেলে ধরা৷ সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়ে মুসলিম যুবকদের গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠিপেটা শুরু করে৷  ঘন্টা খানেক ধরে চলে এই গণপিটুনি৷ তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয় জনা তিনেক পুলিশ৷ মাস দুয়েক আগে মহারাষ্ট্রে গণপিটুনির শিকার হয় পাঁচজন৷ একটা বাচ্চা ছেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখে সন্দেহ হয়, এরা ছেলেধরা৷ ঝাড়খন্ড রাজ্যে গণপিটুনির শিকার সাতজন৷ এ পর্যন্ত গণপিটুনিতে মারা গেছে ২৫ জন৷ বেশির ভাগই বাইরের লোক৷ স্থানীয় নয়৷ তাই সন্দেহটা গাঢ় হয়৷ কেন্দ্রীয় সরকার হোয়াটসঅ্যাপকে গুজব ছড়ানোর জন্য আংশিক দায়ী করে৷ গুজব ছড়াতে এই সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা থাকে৷ তাই সরকার এই ধরনের গুজব ছড়াতে হোয়াটসঅ্যাপের উপর বিধিনিষেধ জারি করেছে৷ হোয়াটসঅ্যাপ বড় জোর জনা কুড়িকে ম্যাসেজ ফরোয়ার্ড করতে পারবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন