সরকারের স্থায়িত্ব সম্পর্কে আশাবাদী ম্যার্কেল | বিশ্ব | DW | 04.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

সরকারের স্থায়িত্ব সম্পর্কে আশাবাদী ম্যার্কেল

জার্মানির এসপিডি দল অস্থায়ী নেতৃত্ব স্থির করে আপাতত পরিস্থিতির সামাল দিয়েছে৷ তা সত্ত্বেও জার্মানির জোট সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হচ্ছে না৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল অবশ্য সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না৷

জার্মানির মহাজোট সরকারের অস্তিত্বের ঝুঁকি এখনো কাটেনি৷ জোটের শরিক এসপিডি দল নেতৃত্বের সংকট সামলানোর চেষ্টা শুরু করেছে৷ রবিবার দলের সভাপতি ও সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে আন্দ্রেয়া নালেস পদত্যাগের ঘোষণা করার পর সোমবারই ৪ জন নেতার সমন্বয়ে আপাতত দলের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে৷ এরপর দলীয় সম্মেলন আহ্বান করে নতুন নেতা বাছাইয়ের উদ্যোগ শুরু হবার কথা৷ কিন্তু এসপিডি দলের সাধারণ সদস্যদের একটা বড় অংশ জোট সরকার ত্যাগ করার পক্ষে আরো সোচ্চার হয়ে ওঠায় নতুন নেতার পক্ষেও এমন চাপ উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠবে৷ ২০১৩ সাল থেকে চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের ছোট শরিক হিসেবে থেকে যাওয়ায় এসপিডি দলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে দলের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে৷ তাই ২০২১ সালে বর্তমান সরকারের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন না অনেকে৷

প্রবল চাপের মুখেও ম্যার্কেল নিজে এখনো অবিচল রয়েছেন৷ এসপিডি দলের বর্তমান সংকট ও নেতৃত্বে রদবদল সত্ত্বেও তিনি সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না৷ সোমবার ম্যার্কেল বলেন, এসপিডি দল কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বটে৷ কিন্তু তার ফলে সরকারের কাজে কোনো বাধার লক্ষণ তিনি দেখছেন না৷ 

জার্মান চ্যান্সেলরের এমন আশার পেছনে একটি কারণ অবশ্যই কাজ করছে৷ একের পর এক নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের কারণে এসপিডি দল এতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, জোট সরকার ত্যাগ করে আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি এই মুহূর্তে সহজ বিকল্প হবে না৷ অন্যদিকে জনসমর্থন তলানিতে ঠেকার ফলে সরকারে থাকার উপযোগিতাও দেখছে না দলের একটা বড় অংশ৷ এমন উভয় সংকটের মুখে দল শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ম্যার্কেলসহ গোটা দেশকে৷

এসপিডি দল জার্মানির জোট সরকার ত্যাগ করলে একাধিক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে৷ আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা বেশি শোনা গেলেও অন্যান্য কিছু বিকল্প নিয়েও জল্পনাকল্পনা চলছে৷ ম্যার্কেলের ইউনিয়ন শিবির একাই সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে৷ যদিও ম্যার্কেল নিজে এমন বিকল্পের ঘোর বিরোধী৷ উদারপন্থি এফডিপি ও সবুজ দলকে নিয়ে নতুন জোট সরকর গড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে৷ গত নির্বাচনের পর এই প্রচেষ্টা অবশ্য বিফল হয়েছিল৷ এখন এফডিপি দল আবার এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ তারা অবশ্য ম্যার্কেলের বদলে অন্য কোনো নেতাকে এমন সরকারের চ্যান্সেলরের পদে দেখতে চায়৷ সবুজ দল এই মুহূর্তে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না৷ আগাম নির্বাচন হলেই বরং তারা লাভবান হবে বলে মনে করছে৷

জার্মানির ঘরোয়া রাজনীতির এই জটিলতা সরাসরি ইউরোপ ও বিশ্ব রাজনীতির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে৷ চ্যান্সেলর হিসেবে দেশের মধ্যে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও বিশ্বনেতা হিসেবে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ভাবমূর্তি এখনো উজ্জ্বল৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঠিক পরে বিভিন্ন ইইউ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণের ক্ষেত্রেও জার্মানির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে ঘিরে দুশ্চিন্তার মাঝে জার্মানিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ইউরোপে একেবারেই কাম্য নয়৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন