‌সম্প্রীতির বার্তাই অপছন্দ?‌ | বিশ্ব | DW | 25.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌সম্প্রীতির বার্তাই অপছন্দ?‌

২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে বাদ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ট্যাবলো', যে ট্যাবলোর মাধ্যমে একতা এবং সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু কেন?

দিল্লিতে প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতের প্রতিটি রাজ্য থেকে একটি করে ‘ট্যাবলো' যায়৷ পশ্চিমবঙ্গ থেকেও যায় যথারীতি৷ এবং ২০১৪ ও ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোই সব রাজ্যের মধ্যে সেরা ঘোষণা করে কেন্দ্র সরকার৷ অথচ সেই পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোই এবার বাদ পড়েছে কুচকাওয়াজ থেকে৷ অথচ ট্যাবলোর কেন্দ্রীয় বিষয় নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য যে আলোচনা হয়, এর মধ্যে দু'‌বার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ সেই দু'টি বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ জানিয়ে দেয়, ভারতের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের যে ঐতিহ্য, তার সম্প্রীতির যে সংস্কৃতি — তাই তুলে ধরতে চায় তারা৷ বাংলার বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে ‘‌একতাই সম্প্রীতি'‌ ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে চায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷

অডিও শুনুন 04:19
এখন লাইভ
04:19 মিনিট

‘তারা বস্তুত বিভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী’

এর পরই বেনজিরভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের পরবর্তী বৈঠকগুলিতে আর ডাকা হলো না, যার অর্থ, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে পশ্চিমবঙ্গ অংশ নিতে পারবে না৷ যদিও এটাই প্রথম নয়, এর আগেও ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যেবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রিয় প্রকল্প, আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত এবং ইউনেসকো দ্বারা পুরস্কৃত ‘‌কন্যাশ্রী'‌-র সাফল্যকে ট্যাবলোর মূল বিষয় রাখা হয়েছিল৷ এটা সত্যিই বিস্ময়কর ছিল যে, যে কেন্দ্র সরকার ‘‌বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও'‌ স্লোগান তুলে কন্যাসন্তানের সুরক্ষা এবং শিক্ষার প্রসার ঘটাতে চায় বলে মনে হচ্ছে, তারাই কন্যাশ্রীর মতো একটা সফল সামাজিক কর্মসূচিকে ট্যাবলোর বিষয় হিসেবে পছন্দ করেনি৷ আর এবারের বাতিল করার সিদ্ধান্ত পরিষ্কারই বুঝিয়ে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রীতির বার্তাকে রুখে দেওয়া আদতে এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন কবি প্রসূন ভৌমিক৷ একাধিক সরকারি কমিটির সদস্য তিনি৷ ডয়চে ভেলেকে প্রসূন পরিষ্কারই বললেন, যে সরকার ঠিক করে দেয় কার ফ্রিজে কী মাংস থাকবে, কে কী খাবে, কী পরবে, তাদের কাছ থেকে এটাই আশা করা যায়৷ অথচ সম্প্রীতির কথা বলা, একতার কথা বলা, বিভেদ অস্বীকার করে সামাজিক জোটবদ্ধতার কথা বলা — এ সবই ভারতীয় সংস্কৃতি, ভারতের ঐতিহ্য৷ বাংলাতেও তার প্রতিফলন ঘটেছে, বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ভিন্নতার একীকরণের মাধ্যমে৷ কিন্তু কেন্দ্র সরকারের স্বাভাবিক কারণেই সেটা পছন্দ হচ্ছে না, কারণ তারা বস্তুত বিভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী৷ অন্যদিকে সেই ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে গান বেঁধে, গল্প লিখে, সংহতির বার্তা দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলা, বাঙালি৷ সেটাই নাপসন্দ কেন্দ্রীয় সরকারের৷

এর পাশাপাশি বাংলাকে যেভাবে অপমান করা হলো, তাতে সবাই ক্ষুব্ধ৷ নবান্ন থেকে সরকারিভাবে দিল্লির কাছে জানতে চাওয়া হবে, কেন, কী কারণে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ পড়ল৷ আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, কলকাতায় রাজ্যের নিজস্ব যে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ, তার একেবারে সামনের সারিতে থাকবে কেন্দ্র সরকারের বাতিল করে দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো, যা একতা এবং সম্প্রীতির বার্তা বহন করবে৷

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও