সম্পদ বিক্রি করে ইভ্যালি চলবে | বিশ্ব | DW | 18.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সম্পদ বিক্রি করে ইভ্যালি চলবে

ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির সাবেক এমডি মোহাম্মদ রাসেলের বিলাসবহুল গাড়িসহ অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে কোম্পানি পরিচালনা ব্যয়ভার বহন করবে৷

ইভ্যালির বাইরে রাসেলের গাড়ি

ইভ্যালির বাইরে রাসেলের গাড়ি

ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘হাই কোর্টের আদেশটি পেয়ে আমরা অনেকখানি আনন্দিত হয়েছি৷ যারা ইভ্যালিতে জিনিসপত্র বিক্রি করেছেন কিংবা ক্রয় করেছেন তাদের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব৷ অডিট চলার সময় আমরা আরও ভালো চিত্র জানতে পারব৷’’

প্রতারণার অভিযোগে গতবছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তার হন৷ তার আগে থেকেই কোম্পানির প্রায় দুই হাজার কর্মীর বেতন বন্ধ ছিল৷

Bangladesch Oberstes Gericht genehmigt Verkauf von Luxusautos von Evali-Gründer Russell

​​​​​​​প্রতারণার অভিযোগে গতবছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল

এ অবস্থায় ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে এক গ্রাহকের আবেদনে ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ৷ পরে ১৮ অক্টোবর ইভ্যালির অবসায়ন এবং তার আগে ইভ্যালির ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নিতে চার সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় হাইকোর্ট৷

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে চেয়ারম্যান করে গঠিত এই পর্ষদে সদস্য হিসেবে আছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ৷ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলনকে করা হয়েছে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক৷

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় তিন মাস পার হলেও কোম্পানির নিয়মিত খরচ বহনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না জানিয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘‘আদালতের রায়ে দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে৷ ইভ্যালির পাওনাদারদের পাওনার তুলনায় খুবই অপ্রতুল৷’’

রাসেল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া ইভ্যালির প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর জুলাই পর্যন্ত তাদের দায়-দেনার পরিমাণ ছিল ৫৪৩ কোটি টাকা ৷ তবে তার কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি ৷

রাসেল-শামীমা টাকা সরিয়েছেন'

ইভ্যালির সম্পদের তদন্ত  করতে গিয়ে এর প্রতিষ্ঠাতা রাসেল ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পদের সঙ্গে কোম্পানির সম্পদ মিশে যাওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছে বর্তমান পর্ষদ৷ 

বিচারপতি মানিক বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যেসব কাগজ আছে, তার থেকে মনে করছি রাসেল ও তার স্ত্রী অনেক টাকা নিয়ে নিয়েছে ৷ সে কারণে হাই কোর্টে দরখাস্ত করেছিলাম যে রাসেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব এবং তার সমস্ত সম্পত্তির তথ্য যেন দেওয়া হয় ৷ হাই কোর্ট সে আদেশ মঞ্জুর করেছে ৷’’

হাই কোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংক ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে রাসেল ও শামীমার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাই কোর্টে উপস্থাপন করার আদেশ দিয়েছে ৷

বন্ধ  ইভ্যালির সার্ভার

রাসেল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে দাবি করেন, ইভ্যালির সার্ভার এবং ওয়েবসাইটের ‘ব্র্যান্ডভ্যালু' হাজার কোটি টাকা ৷ সার্ভার এবং ওয়েবসাইট এখন বন্ধ৷ ফেসবুক পেজের আপডেট স্থগিত ৷ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘‘ইভ্যালির ওয়েবসাইটটা খোলা যাচ্ছে না, সার্ভার অ্যামাজনের হাতে ৷ সেখানে অনেক টাকা-পয়সা বাকি পড়ে আছে ৷ এই সার্ভার খুলতে পারলে অনেক তথ্য পাব ৷’’

রাসেলদের বিলাশবহুল গাড়ি

রাসেল, শামীমা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে কেনা দামি গাড়িগুলো আদালত বিক্রির অনুমোদন

দিয়েছে৷  ইভ্যালির ২৪টি গাড়ির মধ্যে ১৪টির দখল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে৷

বিচারপতি মানিক জানান, তাদের কাছে থাকা ১৪টি গাড়ির মধ্যে অন্তত পাঁচটি বিলাসবহুল৷ যেগুলো ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা ব্যবহার করতেন৷ তারা এগুলো বিক্রি করে দেবেন৷ এছাড়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ইভ্যালি থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন সেগুলো ফেরত না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবেন বলেও জানান তিনি৷

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়