সম্পদের সমান অধিকারের দাবিতে এক মিশরীয় নারীর লড়াই | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মিশর

সম্পদের সমান অধিকারের দাবিতে এক মিশরীয় নারীর লড়াই

উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে সমান অধিকারের দাবিতে লড়ছেন এক মিশরীয় নারী৷ বাবার মৃত্যুর পর এ পর্যন্ত তিনবার আদালতের দারস্থ হয়েছেন তিনি৷

পিতার সম্পত্তির সমান অধিকার পাওয়ার জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হুদা নাসরাল্লাহ৷

পিতার সম্পত্তির সমান অধিকার পাওয়ার জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হুদা নাসরাল্লাহ৷

হুদা নাসরাল্লাহ একজন খ্রিস্টান নারী৷ গত বছরের ডিসেম্বরে তার বাবা মারা যান৷ এরপর থেকে তিনি ঘুরছেন এক আদালত থেকে আরেক আদালতে৷ উদ্দেশ্য, মৃত্যুকালে যেই সম্পদ বাবা রেখে গেছেন দুই ভাইয়ের সাথে তার যেন সমান ভাগ পান তিনি৷ কিন্তু দেশটির বর্তমান আইন তা অনুমোদন করে না৷ সেখানে উত্তরাধিকার সম্পদের বণ্টন হয় ইসলামিক মোতাবেক৷

এখন পর্যন্ত আদালত দুইবার নাসরাল্লাহর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে৷ ৪০ বছর বয়স্ক এই মানবাধিকার আইনজীবী এখন দারস্থ হয়েছেন উচ্চ আদালতের৷ চলতি মাসের শেষ নাগাদ বিচারকদের এ নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়ার কথা রয়েছে৷ 

মুসলিম আইন অনুযায়ী, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অর্ধেক সম্পদের উত্তরাধিকার পাবে৷ কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মে ছেলে বা মেয়ে উভয়ই সমান সম্পদের ভাগ পেতে পারে, যা চাইছেন নাসরাল্লাহ৷ তিনি বলেন, ‘‘ এটা উত্তরাধিকারের বিষয় নয়, আমার বাবা লাখ লাখ টাকাও রেখে যাননি৷ কিন্তু আমার ভাইদের সমান সম্পদ দাবির অধিকার আমার রয়েছে৷''

গত বছর তিউনিসিয়ার সরকার উত্তরাধিকার সম্পদে সবার সমান অধিকার দিয়ে একটি বিল পাস করে৷ সেখানকার মুসলিম নারীবাদিরা স্বাগত জানিয়েছে এই উদ্যোগকে৷ এরপর থেকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা  শুরু হয়৷ কিন্তু অনেক দেশের ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমান অধিকারের বিরোধী৷ যেমন, মিশরের আল-আজহার৷ তাদের দাবি, উত্তরাধিকার সম্পদের সমান বণ্টন ইসলামিক আইনবিরুদ্ধ এবং তা মুসলিম সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে৷ 

কিন্তু নাসরাল্লাহর মতো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কী হবে? বর্তমানে মিশরে তাঁর মতো এক কোটি কপ্টিক নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে, যারা খ্রিস্টান ধর্মানুসারী৷ আইন অনুযায়ী মিশরে ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে, চার্চ নির্মাণ ও মুসলিমদের ধর্মান্তর নিষিদ্ধ৷ খ্রিস্টানদের নিজেদের বিয়ে, বিচ্ছেদসহ ব্যক্তিগত কিছু বিষয় কপ্টিক চার্চের হাতে থাকলেও উত্তরাধিকার মীমাংসার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই৷  

অবশ্য কপ্টিক চার্চগুলোও বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে যথেষ্ট রক্ষণশীল৷ যেমন, বয়স্ক আর ইসলাম ধর্মান্তরিত হওয়া, এই দুইটি কারণ ছাড়া কেউ বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন না৷ একজন কপ্টিক নারী মিশরীয় সমাজে যে দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার হন নাসরাল্লাহর মামলাটিতে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করেন করিমা কামাল নামের  মিশরের এক কলামিস্ট৷ তিনি বলেন, ‘‘আপনি একটি ধর্মের আইন অন্য ধর্মের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না৷'' 

Ägypten Frauen Gleichberechtigung Erbschaftsgesetz

মিশরের একটি চার্চে বিয়ের আয়োজন৷ এক কোটি কপ্টিক খ্রিস্টানদের বসবাস রয়েছে দেশটিতে৷

সরকারি চাকুরিজীবী নাসরাল্লাহর বাবা কায়রোর নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস এলাকায় একটি চার তলা ভবন ও কিছু ব্যাংকের জমা টাকা রেখে যান৷ নাসরাল্লাহ স্থানীয় আদালতে কপ্টিকদের বিধি অনুযায়ী এই সম্পত্তি বণ্টনের আবেদন করেন৷ তার ভাইরাও চান বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ সবার মধ্যে সমবণ্টনহোক৷ কিন্তু আদালত দুই দফা তাদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে৷ 

নাসরাল্লাহ জানান, অনেক কপ্টিক পুরুষও নিজেদের লাভের জন্য ইসলামিক আইন সমর্থন করে৷ যক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আহমেদ জাকি বলেন, ‘‘উত্তরাধিকার ধর্মীয় আইনের বাইরের একটি বিষয়৷ এটা আমরা যেই সমাজে বাস করি তার প্রেক্ষিতেই বিবেচনা করা উচিত৷'' তাঁর মতে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সম্পদে সমান অধিকার দেয়া হলে মুসলিমরাও একই দাবি তুলতে পারে৷ রাষ্ট্র এ নিয়ে ভয় পায় বলেও মনে করেন তিনি৷

নাসরাল্লাহর আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত আছেন গিরগিস বেবাওয়ি৷ গত দুই বছরে তিনি এমন ডজন খানেক মামলা নিয়ে লড়েছেন, হেরেছেন প্রতিটিতে৷ তবে তার আশা, মিশরের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত এবার বিষয়টির মীমাংসা ভিন্নভাবে করবে৷ 

এফএস/এসিবি (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন