সমুদ্র সৈকতে শতাব্দীপ্রাচীন বোতল | বিশ্ব | DW | 09.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সমুদ্র সৈকতে শতাব্দীপ্রাচীন বোতল

অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হলো শতাব্দীপ্রাচীন জার্মান বোতল৷ সেই বোতলের ভিতরে মিলেছে সমুদ্র গবেষণার চমকপ্রদ সব তথ্য৷ বোতলটি নিয়ে আসা হয়েছে হামবুর্গে৷

মহাসাগরের প্রকৃতি কেমন? কোনদিকে স্রোত? সেই স্রোতের বেগই বা কত? এসব প্রশ্ন নতুন নয়৷ বহুকাল ধরে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ অনেক তথ্য পাওয়া যায়, আবার অনেক কথা জানাও যায় না৷ অজানা তেমনই এক আশ্চর্য তথ্য জানা গেল এতদিন পর৷ একটি বোতলেরকারণে৷

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রায় অচেনা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন টনিয়া ইলম্যান৷ হঠাৎই বালির মধ্যে প্রায় ডুবে থাকা একটি বোতল দেখতে পান তিনি৷ টনিয়া জানতেন, খুব বেশি মানুষ ওই সমুদ্রসৈকতে যান না৷ তাহলে কে ফেলে গেল ওই বোতল? নিছকই কৌতূহলের বশে বোতলটি কুড়িয়ে নেন তিনি৷ দেখেন, বহু পুরনো ওই বোতলটির ভিতরে সন্তর্পণে রাখা আছে একটি ফর্ম৷ বাড়ি নিয়ে গিয়ে সেই ফর্ম শুকনো করেন টনিয়া৷ দেখেন জার্মান ভাষায় কিছু লেখা রয়েছে ভিতরে৷ কাল বিলম্ব না করে টনিয়া বোতলসুদ্ধ ফর্মটি অস্ট্রেলিয়ার একটি জাদুঘরে নিয়ে যান৷

পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১৮৮৬ সালের ১২ জুন ওই বোতলটি সমুদ্রে ফেলা হয়েছিল একটি জার্মান জাহাজ থেকে৷ ভিতরের ফর্মে লেখা আছে কত ডিগ্রি অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ থেকে ওই বোতল জলে ফেলা হয়েছে৷ নাবিকের নাম, পরীক্ষকের নাম সবই লেখা আছে সেখানে৷ ফর্মের উল্টোদিকে বলা হয়েছে, বোতলটি পাওয়া মাত্র যেন হামবুর্গের সমুদ্র গবেষণাকেন্দ্রে  পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

১৮৮৬ সালে বার্ক শিপ পাউলা নামের একটি জাহাজ কার্ডিফ থেকে মাকাসারের দিকে রওনা হয়েছিল৷ সেই জাহাজ থেকেই বোতলটি ফেলা হয়৷ বস্তুত, সেই সময় জার্মান সমুদ্র বিজ্ঞানী জর্জ ফন নিউমায়ার একটি গবেষণা করছিলেন৷ বিভিন্ন অঞ্চলের সমুদ্রে বোতল ফেলে তিনি পরীক্ষা করছিলেন মহাসাগরীয় স্রোত এবং বেগ৷ বোতল ফেলার পর বেশ কিছু উদ্ধারও হয়েছিল ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে৷ তা থেকে একটি ধারণাতেও পৌঁছেছিলেন তিনি৷ তবে বহু বোতলই নিখোঁজ হয়ে যায়৷ এর আগে ১৯৩৪ সালে ডেনমার্কেও এ ধরনের একটি বোতল পাওয়া গিয়েছিল৷ এবার পাওয়া গেল অস্ট্রেলিয়ায়৷

জার্মান গবেষকেরা জানিয়েছেন, বোতলের ফর্মে থাকা সমস্ত তথ্য সেই সময় পাউলা জাহাজের নাবিকের দেওয়া তথ্যের ফাইলের সঙ্গে মিলে গিয়েছে৷ ওই বোতল এবং ফর্ম কিছুদিনের মধ্যেই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে৷ হামবুর্গের মহাসগারীয় জাদুঘরে ওই ধরনের আরো কিছু বোতলও রাখা আছে বলে জানা গিয়েছে৷

অ্যালিস্টেয়ার ওয়ালশ/এসজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন