সমুদ্রে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ | বিশ্ব | DW | 14.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

সমুদ্রে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ

বাড়ছে দেশের জনসংখ্যা, বাড়ছে মৎস্যসম্পদের ওপর চাপও৷ এ চাপ সামলাতে এখন সামুদ্রিক মাছের বৈজ্ঞানিক আহরণে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ৷ এ নিয়ে ডয়চে ভেলেকে বিস্তারিত জানিয়েছেন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে তো জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ সে তুলনায় আমাদের জায়গা অনেক কমে যাচ্ছে৷ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কী বলছে? ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? মাছের কোনো সংকটে কি পড়বে বাংলাদেশ?

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মূলত যে কাজটি করেছে, তা হচ্ছে প্রযুক্তি উদ্ভাবন৷ আমরা ইতোমধ্যে যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি মৎস্য চাষ এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ক, সে প্রযুক্তিগুলো কিন্তু মাঠপর্যায়ে মৎস্য অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে মাঠে ছড়িয়েছি, যার কারণে, বাংলাদেশ কিন্তু এরই মধ্যে মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে

বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম৷ বাংলাদেশের মোট মাছের ৫৬ শতাংশ আসছে চাষ থেকে৷ আমাদের দেশে যে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী আছে, তার প্রোটিন চাহিদা আমরা যদি মেটাতে চাই, তাহলে প্রযুক্তিভিত্তিক মাছ চাষ তো করতেই হবে৷ কিন্তু কীটনাশক ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের ফলে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে চাষ ক্রমহ্রাসমান৷ আমরা এইগুলিকেও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষব্যবস্থায় আনার জন্য কাজ করছি৷

আরেকটি বিষয় নতুন করে সংযোজিত হয়েছে৷ আমরা এক লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের একটা বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা পেয়েছি৷ এখন এই জলাশয়কে আমাদের কাজে লাগাতে হবে৷ আমরা ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে একটি জরিপ চালিয়েছিলাম, বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ ও বিস্তৃতি জানার জন্য৷ তার ওপর ভিত্তি করেই কিন্তু এখন পর্যন্ত সাগর থেকে আমরা মাছ আহরণ করছি৷

অডিও শুনুন 08:03

‘কয়েক বছরে মৎস্যসম্পদে নীরব বিপ্লব সাধিত হবে’

বর্তমান সরকারের আমলেও আর ভি মীন সন্ধানী নামে একটি জাহাজ আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা আবার জরিপ চালাচ্ছি৷ এর ফলে মাছের মজুদ, বিস্তৃতি জানা যাবে, কোন সময়ে কতটুকু হারভেস্ট করলে তাকে স্থায়ীত্বশীল মৎস্যসম্পদ সাগরে গড়ে তোলা যাবে, তা নিয়ে আমরা জরিপ করছি৷

এটা যদি আমরা সঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে সমুদ্রে যে মৎস্য সম্পদ আছে, তার একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে৷ পাশাপাশি, তৈরি করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক অভয়াশ্রম৷  আমাদের দেশীয় মাছ যেগুলি আছে, সেগুলিকে রক্ষা করা ও জলাশয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি৷ আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মৎস্যসম্পদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আরেকটি নীরব বিপ্লব সাধিত হবে৷

চাষের মাছ থেকে দ্রুত ব্যবসা করে বেশি লাভ করার জন্য অনেক চাষি অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকেন৷ এর ফলে মাছে অনেক উপাদান থেকে যায়, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর৷ এ বিষয়ে আপনার মত কী?

বিচ্ছিন্নভাবে এই বিষয়গুলি বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হয়, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়গুলি আসছে৷ আমরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী হিসেবে এ সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ এবং ওয়াকিবহাল৷ বিগত কয়েক বছর যাবত একটি প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে যে, বাংলদেশের তেলাপিয়াতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো খেলে মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হবে, ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে৷

এটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা স্যাম্পল কালেকশন করেছি৷ তারপর আমরা আমাদের গবেষণাগারে, সায়েন্স ল্যাবরেটরির গবেষণাগারে, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণাগারে ক্রসচেক করেছি৷ আমরা কোথাও তেলাপিয়ার মধ্যে যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের কথা বলা হচ্ছে, সে ডায়োক্সিনের অস্তিত্ব পাইনি৷

দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির ঘের করতে গিয়ে লবণাক্ত পানির ফলে কৃষিজমি নষ্ট হয়৷ এই বিষয়টিকে সার্বিক তত্ত্বাবধানের মধ্যে নিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা৷

এই বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদেরকে প্রশ্নের সম্মুখীন করছেন৷ এটা আপনি স্বীকার করবেন যে, মাছ এবং চিংড়ি চাষে গত কয়েক বছরে একটা বিপ্লব হয়ে গেছে৷ চাষিদের চিন্তাভাবনাও এখন কিন্তু অনেকক্ষেত্রে আমাদের গবেষকদের কাছাকাছিই অবস্থান করছে৷

আপনি যদি এখন দক্ষিণাঞ্চল ভিজিট করেন, তাহলে দেখবেন, তারা অলটানেটিভ ক্রপ করছে৷ এক সময় ধান করছে, এক সময় চিংড়ি করছে, এক সময় আবার চিংড়ির সাথে মাছ করছে৷ এই বিষয়গুলো  কিন্তু দ্রুত পালটাচ্ছে৷ অতি সম্প্রতি আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, তিনি তো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, উনি একটি নির্দেশনা আমাদের দিয়েছেন৷ আ্মাদের চিংড়ি সম্পদকেও বাঁচাতে হবে, ধানকেও বাঁচাতে হবে৷ আপনি জানেন, দক্ষিণাঞ্চলে এখন প্রচুর শাকসবজিও হচ্ছে৷

এখন এটা একটা জোনিং করার জন্য, কোন এলাকায় ধান করবো, কোন এলাকায় চিংড়ি করবো, কোন এলাকায় সবজি করবো এবং কোন সময়ে করবো, কোনটা হাই-ইয়েল্ডিং স্পিসিস হবে, এই বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এটি মৎস্য অধিদপ্তর, আমরা আছি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বিভিন্ন চাষি সমিতির লোকজন থাকবে সেখানে৷ এই বিষয়ে সমন্বিত তথ্য শিগগিরই আমরা জাতির সামনে উপস্থাপন করবো৷ এই জোনিং প্রক্রিয়া শেষ হলেই আপনার প্রশ্নের একটা স্থায়ী সমাধান মিলবে৷

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন