সমুদ্রের তলদেশে ড্রোন সাবমেরিনের সাফল্য | অন্বেষণ | DW | 09.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সমুদ্রের তলদেশে ড্রোন সাবমেরিনের সাফল্য

নানা রকম প্রতিকূলতার কারণে সমুদ্রের নীচের জগতের নাগাল পাওয়া আজও সহজ নয়৷ ইউরোপের বিজ্ঞানীরা এবার এমন সাবমেরিন ড্রোন তৈরি করেছেন, যারা দলবদ্ধভাবে অনেক দুরূহ কাজ সেরে ফেলতে পারবে৷

এক ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ইঞ্জিনিয়াররা এমন ড্রোন সাবমেরিন তৈরি করেছেন,যেগুলি শব্দসংকেতের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে সংলাপ চালাতে পারে৷ রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিয়ারা পেট্রিওলি এ বিষয়ে বলেন, ‘‘এই রোবটরা পানির নীচে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করতে সক্ষম৷ একে ‘ইন্টারনেট অফ আন্ডারওয়াটার থিংস' বলা চলে৷ এ এক অভিনব আইডিয়া, যার আওতায় সেন্সর ও রোবটের মতো বিভিন্ন ডিভাইস তথ্যের আদান-প্রদান করতে পারে৷ এর ফলে মহাসাগর, হ্রদ ও নদীগুলির উপর নজর রাখার নতুন পথ খুলে যাচ্ছে৷''

নির্দিষ্ট কিছু সেন্সর নিয়ে একদল রোবট সমুদ্রের তলদেশ ঘুরে হারিয়ে যাওয়া কোনো বস্তু বা রাসায়নিক পদার্থের লিক শনাক্ত করবে৷ একসঙ্গে কাজ করে কম সময়ের মধ্যে তারা অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে৷ পোর্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকার্ডো মার্টিন্স বলেন, ‘‘তাদের সংলাপও অনেকটা মানুষের মতো৷ পানির নীচে যন্ত্ররা বিশাল পরিসরে ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে৷ মানুষের কণ্ঠ ছাড়াও কানে শোনা যায় না – স্পেকট্রামের এমন ফ্রিকুয়েন্সিও কাজে লাগায় তারা৷''

ভিডিও দেখুন 03:57
এখন লাইভ
03:57 মিনিট

সমুদ্রে ড্রোন সাবমেরিন

সাবমেরিনগুলি সব তথ্য মাটির উপর এক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পাঠায়৷ তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান এবং তাপমাত্রা ও সমুদ্রের পানির রাসায়নিক মিশ্রণের মতো পরিবেশগত তথ্য পর্দায় ফুটে ওঠে৷ রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের রোব্যার্তো পেত্রোকিয়া বলেন, ‘‘একই সময়ে একাধিক যান একটি এলাকা চষে বেড়ায় এবং সেন্টার থেকে আমরা সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করি৷ তাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবার নির্দেশ দেই৷ প্রায় সব সময়ে তাদের উপর নজর রাখি৷ পানির নীচে থাকলে এক অ্যাকুস্টিক চ্যানেল, উপরে এলে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ রাখি৷''

বিশেষ পানি-নিরোধক আবরণের কল্যাণে সাবমেরিন সমুদ্রের কয়েকশ' মিটার গভীরে নামতে পারে৷ অভিযান অনুযায়ী, তাদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ, রেকর্ড ও প্রেরণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ পোর্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকার্ডো মার্টিন্স বলেন, ‘‘অ্যাকুস্টিক মোডেম পানির নীচে যোগাযোগ সম্ভব করে৷ সেইসঙ্গে রয়েছে পরিবেশ সেন্সর এবং পানির নীচে চলাফেরা সম্ভব করতে এক কম্পিউটার সিস্টেম৷ প্রায় ৮ ঘন্টা চলাফেরা করার জন্য উপযুক্ত ব্যাটারিও রয়েছে৷ রেডিও ও স্যাটেলাইট যোগাযোগের মডিউল তো আছেই৷''

সাবমেরিনের মধ্যে এক সোনার ডিভাইসও রয়েছে, যার শব্দতরঙ্গের সাহায্যে ডুবে যাওয়া বস্তু শনাক্ত করা যায়৷ পোর্টো শহরের বন্দর এলাকায় হারানো একটি কন্টেনার শনাক্ত করেছে এই ব্যবস্থা৷ পোর্টো বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি লিনো আন্টুনেস বলেন, ‘‘তিন রকমের প্রয়োগের জন্য এমন ডিভাইস উপযুক্ত৷ প্রথমত নিরাপত্তা, দ্বিতীয়ত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, যা আমাদের জন্য জরুরি এবং তৃতীয়ত বন্দরের জাহাজগুলির নিরীক্ষণ৷''

সমুদ্র থেকে নদী – যেখানেই ডুবুরির জন্য ঝুঁকি ও ব্যয়ের মাত্রা বেশি, সেখানেই এই মিনি সাবমেরিন কাজে লাগানো যেতে পারে৷ নতুন এই প্রযুক্তি পানির নীচের নীরব জগত বুঝতে আমাদের আরও সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিয়ারা পেট্রিওলি বলেন, ‘‘পানির নীচে আগ্নেয়গিরি ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান আবিষ্কার থেকে শুরু করে আমাদের উপকূল, অবকাঠামো ও বন্দরের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি আমাদের জগত সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করবে৷ মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন