‘সমকামীদের উপেক্ষা করছে জার্মান সরকার’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.07.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘সমকামীদের উপেক্ষা করছে জার্মান সরকার’

অপেক্ষাকৃত কম বয়সি সমকামীরা সরকারের উপেক্ষার স্বীকার হচ্ছেন - এ অভিযোগ করলেন জার্মানির সবুজ দলের কাই গেরিং৷ আর এই জন্য তার মূল ক্ষোভ পরিবারমন্ত্রী ক্রিস্টিনা শ্রোয়েডারের ওপরই৷

Euro Pride gay parade

সমকামীদের প্যারেডে দুইজন নাচছে

বার্লিন আর কোলন - জার্মানিতে এই দুটি শহরকে বলা হয় সমকামীদের জন্য অনুকূল৷ এই জন্য শহর দুটিতে সমকামীর সংখ্যাও বেশি৷ সেখান থেকেই আসছে সমকামীদের ওপর নির্যাতনের খবর৷ এটা জানালেন দেশের লেসবিয়ান ও গে ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়েট ক্লাউস ইয়েৎস৷ আর এই সবই ক্ষুব্ধ করেছে গেরিংকে৷ তাঁর দাবি, মধ্য ডানপন্থী সরকারের মন্ত্রী শ্রোয়েডার তরুণ সমকামীদের সুবিধা-অসুবিধার কোনো খবরই রাখছেন না৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ তরুণ বয়সির প্রতি মন্ত্রীর এই অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না৷

সমকামীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান রেখেছিলেন গেরিং৷ তবে সাড়া না পেয়ে হতাশ তিনি৷ জার্মান সবুজ দলের সাংসদ গেরিং বলেন, সমকামীদের ওপর নির্যাতনই শুধু হচ্ছে না, বঞ্চনা থেকে অনেকে আত্মহত্যাও করছে৷ অথচ মন্ত্রণালয় বলছে, এই ধরনের আত্মহত্যার কোনো ঘটনাই তাদের নজরে আসেনি৷

Christopher Street Day Parade

সমকামী এক জুটি

সমকামীবিদ্বেষ নির্মূলে সবুজ দলের পুরনো দাবিগুলোই আবার তুলে ধরলেন গেরিং৷ তিনি বললেন, সমকামীদের চাওয়া-পাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে৷ তাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ যেন না হয়, সেজন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে৷ একটা পরিকল্পনা ধরে এগোতে হবে৷

সমকামীদের অধিকারের বিষয়ে জার্মানি বেশ সচেতন৷ তবে তারপরই বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে বলে দাবি করলেন গে ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়েৎস৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, সমাজ এখনো তাদের মেনে নিতে পারছে না৷ ইয়েৎসের মতে, সমকামীদের নিগ্রহের শুরুটা হয় স্কুলে৷ তাই পাঠ্যসূচিতে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত৷ তাহলে ছেলেবেলাতেই সবার সমকামীদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হবে৷ এছাড়া বর্ণবাদবিরোধী মনোভাব তৈরিতে যেভাবে পরিকল্পনা ধরে এগোনো হয়েছে, একই কাজটি এক্ষেত্রেও করতে হবে৷ ইয়েৎস জানালেন, বড় কয়েকটি শহরে অল্প বয়সি সমকামীদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও দেশের বেশিরভাগ এলাকায়ই তা নেই৷

সমকামীদের বিষয়ে আরো মনোযোগী হতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গেরিং ও ইয়েৎস উভয়ই৷ দুজনেই আশা করছেন, সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন সমকামীদেরও অন্য চোখে না দেখে সবাই বন্ধু ভাবতে পারবে৷ হবে তাদের দুঃখ-বেদনার অংশীদার৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

বিজ্ঞাপন