সমকামিতা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কি বদলাবে? | বিশ্ব | DW | 11.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

সমকামিতা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কি বদলাবে?

সমকামিতা সাংবিধানিক অধিকার বলে ভারতের শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নং ধারায় সমকামীদের যৌন সম্পর্ককে এতদিন ‘অপরাধ' বলে গণ্য করা হতো৷ এই ঐতিহাসিক রায়ে গোটা দেশ তোলপাড়৷

প্রশ্ন উঠেছে, এই রায় কি প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারবে? পারলে কতটা? এক সমীক্ষা বলছে, বেশির ভাগ মানুষই সমকামিতার বিপক্ষে৷

সমকামিতা অপরাধ নয়৷  সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চের রায়, সমকামী, উভকামী, রুপান্তরকামী, তথা এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষেরও নিজের পছন্দমতো যৌনসঙ্গী বেছে নেবার অধিকার আছে৷ এটা তাঁদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে৷ সামাজিক নৈতিকতার নামে ব্যক্তি বিশেষের অধিকার খর্ব করা যায় না৷ বিচারপতিদের কথায়, আমি যা, সেভাবেই আমাকে গ্রহণ করতে হবে সমাজকে৷ কিন্তু সমাজ কী বলছে ? দিল্লিকেন্দ্রিক সেন্টার ফর দি স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটি সিএসডিএস-এর এক জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, সমকামিতার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছে ৬১ শতাংশ৷ গড়ে চার জনের মধ্যে একজন মনে করেন, দুটি পুরুষ বা দুটি নারীর মধ্যে যৌনতা অন্যায় নয়৷ বয়স্কদের চেয়ে কম বয়সিরা (১৫ থেকে ১৭ বছর) সমকামিতা অন্যায় নয় বলে মনে করে৷ সমকামিতা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে বিশ্বাস৷ সিএসডিএস সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় রীতিনীতিতে যাঁদের আস্থা আছে, তাঁরা সমকামিতাকে অতটা খারাপভাবে দেখেন না, যতটা দেখেন ধর্মীয় প্রথায় যাঁদের আস্থা নেই, তাঁরা৷ প্রচলিত ধারণা ছিল এর বিপরীত৷ আরো দেখা গেছে, ছোট ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বড় বড় শহরে সমকামিতার গ্রহণযোগ্যতা অনেক কম৷ এটাও প্রচলিত ধারণার বিপরীত৷ পাশাপাশি, ভিন্ন মতাবলম্বীরা বলছেন, ভারতে সমকামিতাকে এমন স্বীকৃতি দেয়ার ফলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে৷ সমকামী যৌনসঙ্গীদের পারিপার্শ্বিক বাতাবরণ আরো অনুকূল হবে৷ অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পথেঘাটে সবাই আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়েছিল, যাতে গতানুগতিক যৌনতার ধারণা পালটে যায় সমাজে৷ সম্পর্কের বাইরেও জীবন আছে৷ যৌনতা আছে৷এটা বোঝা দরকার৷ কারণ, পছন্দের ভিন্নতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে সংবিধান৷ এই রায়ে মুক্তি পেলো প্রাইভেসি বা বলা যায় ব্যক্তি পরিসর৷ প্রচলিত সামাজিক বিধান বা  সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি, কোনোটা দিয়েই সাংবিধানিক পথ আটকানো যায় না, বৃহত্তর সমাজকে সেটা বুঝতেই হবে৷ তারপরেও একটা ‘কিন্তু' আছে৷ সমাজের একটা অংশ মনে করেন, নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক একটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি৷ অন্যটা নয়৷

অডিও শুনুন 02:20
এখন লাইভ
02:20 মিনিট

‘সমকামিতা নিয়ে প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বদল সহসা হবে’

পশ্চিমবঙ্গের মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায় মনে করেন না যে, সমকামিতা নিয়ে প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বদল সহসা হবে৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘বিধবা-বিবাহ বন্ধ করা হয়েছিল৷ ডিভোর্স হবার পরও সমাজ তাঁকে অন্য চোখে দেখে বলে স্বামী তাঁকে নেয় না৷ এই ধরনের কটুক্তি বা কথাবার্তা আইন দিয়ে আটকানো যায় না৷ যেমন ধরুন, তিন তালাক প্রথা৷ সুপ্রিম কোর্ট সেটা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন৷ কিন্তু তারপরও চলছে আড়ালে-আবডালে৷ ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে সমাজ কর্তারা আমল দেন না৷'' তাই সুনন্দা মুখোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘শীর্ষ আদালতের রায়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতরবিশেষ হবে না৷ তবে হ্যাঁ, আইনের দিক থেকে হয়ত সমকামীদের শাস্তি হবে না, কারণ, আইনের চোখে তাঁরা অপরাধী নয়৷ পুলিশ হয়ত তাঁদের হয়রানি করবে না৷ তবে সমাজের আর পাঁচ জনের চোখে তাঁরা খাটো হয়েই থকবে৷ সমাজের কাছে তাঁরা বাঁধা পড়ে থাকবে৷ সমকামীদের যৌনসুখ থাকবে, এ আবার কী কথা ?''

 সুপ্রিম কোর্টের রায় ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে এখন কার্যকর হচ্ছে না৷ সেরাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামি রয়েছে৷ সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা পুরুষতান্ত্রিক৷ তার উপর ইসলামিক জঙ্গিদের রক্তচক্ষু তা বলবৎ হতে দেবে না৷ সেই কারণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং অন্যান্য নেতারা শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে একটি কথাও বলেননি৷ যদিও তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়াতে সব বিষয়ে মন্তব্য করে থাকেন৷ অবশ্য, আদালতে রায় আপনা-আপনি জম্মু-কাশ্মীরে কার্যকর হয় না৷ সেজন্য পৃথক আইনি বিধি আছে৷ তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন. রাজ্যে যাতে তা কার্যকর হয়, তার জন্য আন্দোলন শুরু করবেন৷ এক হিসেব অনুযায়ী, কাশ্মীরে প্রায় ৭০ লাখ সমকামী রয়েছে৷ কিন্তু ভয়ে তাঁরা কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন