সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী | বিশ্ব | DW | 03.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলই অংশ নেবে৷ তবে কোনো দল যদি অংশ না নেয়, তাহলে তাঁর সরকারের কিছু করার নেই৷ নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে বুধবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন৷ সেখানে আগামী জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনী জোট, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বই, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলসহ আরো অনেক বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন তিনি৷

নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবেতিনি বলেন,‘‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে৷ নির্বাচন হবে৷ দেশের মানুষ ভোটও দেবে৷ দেশে অনেক রাজনৈতিক দল৷ নির্বাচনে কোন দল আসবে, আর কোন দল আসবে না, সে সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারি না৷ তবে আমাদের আশা, সব দলই নির্বাচনে আসবে৷ তবে কেউ নির্বাচনে না এলে আমাদের কিছু করার নেই৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমাদের সময় যত নির্বাচন হয়েছে, সব সুষ্ঠু হয়েছে৷'' প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল আইন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘যাদের অপরাধী মন, তারাই ডিজিটাল আইন নিয়ে ভয় পায়, উদ্বিগ্ন৷ অপরাধী মন না থাকলে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই৷ যারা সঠিক সাংবাদিকতা করবেন, তাদের ভয় পওয়ার কোনো কারণ নেই৷ যদি কেউ জঙ্গি তৎপরতা চালায়, তাকে চিহ্নিত করার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা না গেলে কেমন হবে? ওয়ারেন্টের জন্য অপেক্ষা করলে তো আর তাকে পাওয়া যাবে না৷ আর যারা নির্বাচনের আগে প্রস্তুত হয়ে আছে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর জন্য, তারা এই আইনে উদ্বিগ্ন৷ সাংবাদিকরা তো উদ্বিগ্ন৷ আমাদের উদ্বেগ কে দেখবে৷ আমি যতক্ষণ আছি, ততক্ষণ সাংবাদিদের কোনো সমস্যা হবে না৷'' 

অডিও শুনুন 01:06

‘নির্বাচনে কোন দল আসবে সে সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারি না’

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের জোট গঠনকে স্বাগত জানান৷ তিনি বলেন, ‘‘শত ফুল ফুটতে দাও৷'' তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে তাদের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলাদা মঞ্চ করে দেবো৷ জনসভায় লোক লাগলে তা-ও দেবো৷ বাংলাদেশে ভোটের দু'টি ভাগ৷ একটি আওয়ামী লীগের পক্ষে, আরেকটি আওয়ামী লীগবিরোধী৷ সেই ভোটগুলো তো এক জায়গায় যেতে হবে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এইসব জোট আমার ভয়ের কোনো কারণ নয়৷ জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই৷'' তবে তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে৷ মানুষ নৌকায় ভোট দেবে৷ কারণ, একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় থাকলেই উন্নয়ন হয়৷''

এদিকে  সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বই নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি৷ তবে যারা চায়, তাদের বইটি পড়ে দেখতে বলেছেন৷ এতে কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি৷ এস কে সিনহা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন না দেয়ার অনুরোধ করেছেন- এমন তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা তো অনেকেই ভারতে গিয়ে বলে৷ বিএনপিও বলে৷ আমরা বিদেশের কারো সমর্থন বা সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসিনি৷ জনগণের ভোটে এসেছি৷'' কোটা বাতিল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তারা কোটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করেছে৷ সহিংসতা করেছে৷ কোটা বাতিল করে দিয়েছি৷ এখন কোটা চাইলে তারা আবার আন্দোলন করুক৷ তখন দেখবো৷''

অডিও শুনুন 01:35

‘আর কেউ নয়, প্রধানমন্ত্রী সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছেন’

সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে৷''

 বুধবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা৷ মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, দুই-একদিনের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে৷   

এর আগে গত সোমবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয় সরকার গঠিত সচিব কমিটি৷

সব কোটা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বুধবার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা৷ কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আজ (বুধবার)  বিকেলে এ নিয়ে বৈঠক করেছি৷ বৃহস্পকিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিভাবে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো৷ এখন কিছু বলতে চাই না৷''

অডিও শুনুন 00:51

‘সব কোটা বাতিল করায় নতুন করে আরেকটি সংকট তৈরি হতে পারে’

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা তো হোলসেল হয়ে গেল৷ আমি চাইনি, আমাকে তা-ও দিয়ে দিলেন৷ কেউতো সব কোটা বাতিল চায়নি৷ যারা আন্দোলন করেছে, তারাও তো কোটা বাতিল চায়নি৷ তারা চেয়েছে সংস্কার৷ সরকার সব কোটা কেন বাতিল করল, কী উদ্দেশ্যে করল, তা বোঝা যাচ্ছে না৷ তবে কোটা পুরোপুরি বাতিল ঠিক হয়নি৷ কিছু কোটার দরকার আছে৷ যেমন আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, তাঁদের জন্য কোটা থাকতে হবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘সব কোটা বাতিল করায় নতুন করে আরেকটি সংকট তৈরি হতে পারে৷''

অন্যদিকে সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে তিনি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন৷ এখন এই সব দলের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা তাঁকে বা তাঁর সরকারকেই করতে হবে৷ আর কেউ নয়, প্রধানমন্ত্রী সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছেন৷ এখন তাঁকেই সংবিধান ঠিক করতে হবে৷ কেয়ারটেকার ব্যবস্থা তিনিই বাতিল করেছেন৷ এখন তাঁর সমাধান তাঁকেই করতে হবে৷''

তিনি আরো বলেন,‘‘কেউ নির্বাচনে না এলে প্রধানমন্ত্রীর কিছু করনীয় নেই, এ কথা ঠিক নয়৷ প্রধানমন্ত্রীর করণীয় আছে৷ তিনিই এখন প্রধান বাধা৷ তিনিই সব বাধার সৃষ্টি করেছেন৷ তিনি সরে দাঁড়ালে সব বাধা দূর হয়ে যাবে৷ তখন তাঁকে আরেকবার অভিনন্দন জানাবো৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন