‘সবক্ষেত্রে বাংলা ব্যবহারে হীনমন্যতাই বড় বাধা′ | বিশ্ব | DW | 21.02.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘সবক্ষেত্রে বাংলা ব্যবহারে হীনমন্যতাই বড় বাধা'

‘‘সবক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহারে সবচেয়ে বড় বাধা হীনমন্যতা৷ এমন কিছু নেই যা বাংলায় প্রকাশ করা যায় না৷ তারপরও দীর্ঘ চেষ্টার পর সব জায়গায় বাংলার প্রচলন করা যায়নি৷’’এ মন্তব্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের৷

ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম, সত্যেন বসুর মতো মানুষ বাংলায় বই লিখেছেন৷ এই বই লেখার পর তাঁরা বলেছেন, বাংলায় বই লিখতে গিয়ে তাঁদের কোনো সমস্যাই হয়নি৷ সব কিছুই সাবলীলভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন৷ তবুও আমরা বাংলা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগছি৷''

উল্লেখ্য, সবক্ষেত্রে অবিলম্বে বাংলা ভাষা ব্যবহারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গত বছর রুল দিয়েছিল হাইকোর্ট৷ বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক এবং বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানির পর, ঐ রুল দিয়েছিল৷ একই সঙ্গে দূতাবাস ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব সাইনবোর্ড, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপন, গাড়ির নম্বর প্লেট, ব্যক্তিগত নামফলক এক মাসের মধ্যে বাংলায় লিখার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল আদালত৷

Language Movement Day, Bangladesh

‘‘বাংলা ভাষার বিকৃতিকারীরা সফল হবেন না৷ কারণ এ ভাষার নিজস্ব শক্তি আছে’’

এরপর ১লা এপ্রিল নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছিল বিবাদীদের৷ সে সময় আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ৷ আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়৷ আদালতের আদেশের পর ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘১৯৮৭ সালের মার্চে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বত্র, অর্থাৎ সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য সবক্ষেত্রে বাংলা ব্যবহার করবে৷ নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে৷ উল্লেখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে৷ যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহলে উক্ত কাজের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে৷''

এর পরের ঘটনা৷ সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারে কার্যকর ব্যবস্থা প্রবর্তনের নির্দেশনা চেয়ে বাংলায় লেখা একটি রিট আবেদন করা হয়৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ রিটটি করেছিলেন৷ রিটে বলা হয়, আইন প্রণয়নের পর এতদিন অতিবাহিত হলেও সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা এই আইন ঢালাওভাবে অমান্য করে যাচ্ছেন৷ এখনও সেভাবে কারুর বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি৷

সত্যিই তো৷ প্রায় বছরখানেক হতে চললো কিন্তু বাংলাদেশে ইংরেজির ব্যবহার কোনোভাবেই কমেনি৷ বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কথায়, ‘‘বাংলা ভাষা মোটেও দুর্বল ভাষা নয়৷ সবক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার এখন সময়ের দাবি৷ তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের ঐ আদেশ ছিল সময়োচিত৷ এখনও সময় আছে৷ সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷’’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যে তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে তাতে অর্ধশিক্ষিত মানুষ তৈরি হচ্ছে৷ বাংলা ভাষায় যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছেন, তাঁরাই ভালোভাবে বাংলা জানেন না৷ শিক্ষার্থীদের ভুল বাংলা শেখানো হচ্ছে৷ আর ইংরেজি মাধ্যমে যারা পড়ছে, তারা বাংলা না জানার কারণে ইংরেজিও ভালোভাবে শিখতে পারছে না৷ মাতৃভাষা না জানলে অন্য ভাষাও ঠিকমতো আত্মস্থ করা যায় না৷ এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষায় যারা পড়ছে, তারা স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন – এ সব সম্পর্কে কিছুই জানে না৷ তারা যে আরবি পড়ছে, তাও আবার বাংলায়৷ ফলে তাদের কোনো শিক্ষাই ঠিকমতো হচ্ছে না৷ তাই এ সব ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ ঢেলে সাজাতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে৷ একমাত্র তবেই বাংলার প্রয়োগ ঠিকমতো হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন