সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একজোট | বিশ্ব | DW | 16.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একজোট

ইন্টারনেট থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ক সহিংস কনটেন্ট সরাতে একটি সনদে স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের বৃহৎ সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান৷ তাদের সাথে যুক্ত আছে ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকার৷

জেসিন্ডা আর্দার্ন ও এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

জেসিন্ডা আর্দার্ন ও এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

ইন্টারনেটকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ক সহিংস কনটেন্ট থেকে মুক্ত করতে একজোট হলো বৃহৎ সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান৷ মেধাসত্ত্ব, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একে অন্যের পেছনে লেগে থাকলেও এ নিয়ে তাদের একমত হতে পারাটাকে বড়  ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে৷

‘ক্রাইস্টচার্চ কল' নামের এই সনদে স্বাক্ষর করেছে সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান৷ এই তালিকায় আছে ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল, অ্যামাজন, টুইটার, মাইক্রোসফট ও ডেইলিমোশন৷ 

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলার লাইভ ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে৷ তাৎক্ষণিকভাবে সেই ভিডিও সরাতে না পারায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো৷ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্দার্নও৷ এ বিষয়ে তিনি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন৷

বুধবার জেসিন্ডা আর্দার্ন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই সনদ স্বাক্ষরে উপস্থিত ছিলেন৷ নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা একটা অভুতপূর্ব ঘটনা যে, আমরা এখানে সরকার এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পেরেছি৷'' ব্রিটেন, ক্যানাডা, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, জর্ডান, ইউরোপীয় কমিশন, সেনেগাল এবং ইন্দোনেশিয়ার সরকারও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে৷ সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ভারতও এতে সমর্থন জানিয়েছে৷

Frankreich Paris | Emmanuel Macron, Präsident & Mark Zuckerberg, CEO Facebook

গত সপ্তাহে প্যারিসে

কী বলা হয়েছে সনদে

সনদে স্বাক্ষর করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে তারা ইন্টারনেট থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ক সহিংস কনটেন্ট সরানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে৷ এই ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিত করার জন্য নতুন নতুন অ্যালগোরিদম নিয়ে তারা কাজ করবে৷ সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের জন্য কনটেন্ট আপলোডের নতুন নীতিমালাও নিয়ে আসা হবে৷

ঘৃণা ছড়ায় এমন কনটেন্ট চিহ্নিত করে তা সরাতে ‘মেশিন লার্নিংয়ের’ মাধ্যমে নতুন টুলস উদ্ভাবনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা৷ এক্ষেত্রে ক্ষতিকর কোনো কিছু ইন্টারনেটে ছাড়ার পর সাথে সাথেই যেন তা ধরা পড়ে সে বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে৷ ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে অনাকাঙ্খিত ছবি বা ভিডিও চিহ্নিত করা হবে৷ তার উপাত্তগুলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সবাই ব্যবহার করতে পারবে এমন একটি ড্যাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে সেগুলো এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে না পারে৷

বিধিবহির্ভূত কোনো কিছু যাতে ভাইরাল না হয়ে যায়, সেজন্যে ব্যবহারকারীরা কী দেখতে পান তার অ্যালগোরিদম পরিবর্তনের  উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে এই সনদে৷ প্রতিষ্ঠানগুলো ‘গ্লোবাল ইন্টারনেট ফোরাম টু কাউন্টার টেররিজম’ নামের আলাদা একটি উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ ২০১৭ সালে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে অপব্যবহার রোধে ফেসবুক, মাইক্রোসফট, টুইটার ও ইউটিউব এটি প্রতিষ্ঠা করেছিল৷

ফেসবুকের উদ্যোগ

এদিকে এই সনদ স্বাক্ষরের কয়েক ঘন্টা আগেই ফেসবুক লাইভ স্ট্রিমিং বা সরাসরি ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে৷ এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘‘নিউজিল্যান্ডে নৃশংস হামলার পর আমাদের মাধ্যম ব্যবহার করে ক্ষতি করা কিংবা ঘৃণা ছড়ানোর বিষয়গুলো রোধের উপায় নিয়ে পর্যালোচনা করেছি৷’’ ওয়ান স্ট্রাইক নামে প্রতিষ্ঠানটি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে৷ এর ফলে কোনো ব্যবহারকারী সবচেয়ে গুরুতর নীতিগুলোর কোনোটির বরখেলাপ করলে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য তাকে লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবহার করতে দেয়া হবে না৷ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায়  ৭৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি৷

ফেসবুকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেসিন্ডা আর্দার্ন৷ এটিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেব উল্লেখ করেন তিনি৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যাতে সন্ত্রাসীদের জন্য বিকৃত একটি মাধ্যমে পরিণত না হয় সেজন্য বিভিন্ন দেশের সরকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে বলেও জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী৷

এফএস/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি)

১৩ মার্চের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন