সড়কে এখন কম বয়সিরা বেশি মরছেন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 22.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সড়কে এখন কম বয়সিরা বেশি মরছেন

বুয়েটের গবেষণা বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছরের কম বয়সিদের মৃত্যুহার এখন বেশি৷ এদের বেশিরভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন৷

শুক্রবার ‘নিরাপদ সড়ক দিবসের' আগের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক এক সংলাপে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান৷ তিনি জানান, ‘‘২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি৷ ২০২০ সালে করোনার মধ্যেও ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা৷ আর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা৷ বছর শেষে এ ক্ষতি ৩৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে৷''

হাদিউজ্জামান বলেন, ‘‘সড়ক দুর্ঘটনায় যে আর্থিক ক্ষতি হয় সেই টাকা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব৷''

পুলিশের দেয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে তিন হাজার ৯৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে৷ এতে প্রাণ হারিয়েছেন চার হাজার ৩৫৮ জন৷ আহত হয়েছেন আট হাজার ২৪০ জন৷

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগতির দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিলেন৷ ওই দুর্ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলেন৷

অডিও শুনুন 03:30

নিরাপদ সড়কের দায়িত্ব কি শুধু চালকের: শাজাহান খান

পরে সেই আন্দোলন গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছিল৷ সরকারের তরফ থেকে আইন সংশোধনের ঘোষণা আসার পর শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়েছিলেন৷

‘অর্থের চেয়ে দরদ দিয়ে আইন প্রয়োগ প্রয়োজন'

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সড়ক নিরাপদ করতে যতটা না অর্থ দরকার, তার চেয়ে বেশি দরকার দরদ দিয়ে আইনের প্রয়োগ করা৷ কিন্তু বাংলাদেশে হচ্ছে ঠিক উলটো৷ অনেক টাকা খরচ করে সড়ক বানানো হচ্ছে, কিন্তু শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো আন্তরিকতা নেই৷ ফলে সড়কের যে বিশৃঙ্খলা সেটা রয়েই গেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘মহাসড়কে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলবে এটাই তো স্বাভাবিক৷ সেখানে মহাসড়কের মধ্যে হাটবাজার, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন চলছে৷ আবার পথচারীরা হুট করেই দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন৷ ফলে শুধু একপক্ষকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই৷ বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দরদ দিয়ে কাজটা করতে হবে৷ আমাদের দেশে পুলিশকে দেখলে কোনো ড্রাইভার ভয় পায় না৷ কারণ তারা জানে পুলিশকে ম্যানেজ করা যায়৷ কিন্তু বহির্বিশ্বে দেখেন চালকরা অনেক বেশি স্বচ্ছল৷ তারা নিজের গাড়ি নিজেই চালান৷ সবাই আইন মেনে চলেন৷ কিন্তু তারপরও পুলিশ সারা বছর রাস্তায় কড়া দৃষ্টি রাখে৷ এখন একজন পুলিশকে দেখলে ড্রাইভারকে ভয় পেতে হবে৷ আমাদের পাশেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সড়কে শৃঙ্খলা আছে৷ তারা আইন মেনে চলে৷ অথচ আমরা কেউই আইন মানছি না৷''

‘সবাইকে দায় নিতে হবে'

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান এমপি মনে করেন, কিছু ঘটলেই শুধু চালকদের উপর দায় চাপানো হয়, যা ঠিক নয়৷

অডিও শুনুন 03:23

সবচেয়ে বড় সমস্যা সঠিকভাবে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না: ইলিয়াস কাঞ্চন

ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছিল৷ আমরা এক মাসের মধ্যে ১১১টি সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম৷ সরকার সেগুলো গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে৷ আমরা টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলেছিলাম৷ সেটা করা হয়েছে৷ কিন্তু দেখেন, নিরাপদ সড়কের দায়িত্ব কি শুধু চালকের? আমরা কি কখনও খোঁজ নেই একজন চালক কত ঘণ্টা গাড়ি চালান? টানা ১২-১৪ ঘণ্টা গাড়ি চালানো কি কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব? আমাদের দেশে গাড়ির সংখ্যা কত আর চালকের সংখ্যা কত? একজন শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স পাস করাতে তার পেছনে বাবা-মা আর সরকার কত টাকা খরচ করে, খোঁজ নিয়ে দেখেছেন? কিন্তু একজন চালক তৈরিতে সরকার এক টাকাও খরচ করে না৷ এদের পেছনে তো লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয় না৷ এদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলেই হয়৷ এমন অনেক কিছু আছে৷ তাই আমি বলব, এখানে কাউকে দোষারোপ না করে সবাইকে দায় নিতে হবে৷ সমন্বিতভাবে কাজ করলে অবশ্যই সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব৷''

‘পরিস্থিতির একটু উন্নতি হচ্ছে'

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পরিস্থিতির একটু উন্নতি হচ্ছে৷ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে৷ একটি টাস্কফোর্স করা হয়েছে, করোনার কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারেনি৷ আগামী বছরে আরো কিছু কাজ হবে৷ তখন আমরা পরিবর্তনটা দেখতে পাব৷ কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা সঠিকভাবে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না৷ দেখেন, সড়কটাকে নিরাপদ করতে যে কাজগুলো করতে হয়, তার সবটাই কিন্তু সরকারের দায়িত্ব৷ আইন বলেন, আইনের প্রয়োগ বলেন, সড়ক নির্মাণ বলেন- এই কাজগুলোর সবকিছুই কিন্তু সরকারকে করতে হবে৷ আমরা তো শুধু বলতে পারি৷ এখন আবার সড়কে নতুন উপসর্গ হয়েছে মোটরসাইকেল৷ এই কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়