সচেতনতা, আইনের প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ কমবে | আলাপ | DW | 12.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

সচেতনতা, আইনের প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ কমবে

হঠাৎ করে বেড়ে গেছে শিশু ধর্ষণ৷ আসলেই কি বেড়েছে? নাকি খবরগুলো বেশি করে প্রচার পাচ্ছে? যদি বেড়েই থাকে তাহলে প্রতিকার কি? আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই বিকৃত যৌনাচার নিয়ে কি করছে?

এসব নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম৷

ডয়চে ভেলে : হঠাৎ করে বিকৃত যৌনচারের কিছু ঘটনা সামনে আসছে, এর কারণ কী? এটা কি বেড়েছে? না-কি খবরগুলো বেশি করে প্রচার পাচ্ছে?

শেখ নাজমুল আলম : ঠিকই বলেছেন৷ বেশ কিছুদিন শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাদের সামনে আসছে৷ এসব ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আমরাও শিউরে উঠছি৷ এই ধরনের অপরাধ আগেও ছিল, এখনও আছে৷ আমাদের ফেসবুক, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার কারণে এই খবরগুলো দ্রুত আমাদের সামনে আসছে৷ সামাজিক অবক্ষয় ও নানাবিধ কারণে এই ধরনের অপরাধগুলো আগের থেকে একটু বেড়েছে৷

অডিও শুনুন 07:54

‘এই ধরনের অপরাধ আগেও ছিল, এখনও আছে’

নারীদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা কি কমে যাচ্ছে?

দেখেন, ধর্ষণ আদিমকাল থেকে আছে৷ ভবিষ্যতেও বাড়বে বা কমবে৷ আগে শিশুদের ব্যাপারে এই হার এত বেশি ছিল না৷ নারীদের সচেতনতা বেড়েছে৷ আগের চেয়ে শিক্ষিতের হার বেড়েছে৷ ফলে এই ধরনের অপরাধীরা বয়স্ক নারীদের চেয়ে শিশুদের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে৷ কারণ শিশুদের প্রতি এই অপরাধ করতে গেলে বাধা বিঘ্ন কম আসে৷ এবং সহজেই তারা এই অপরাধটি করতে পারে৷

এই বর্বরতা থেকে শিশুদের রক্ষা করা যাচ্ছে না, প্রতিকার কী?

সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে৷ ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ ৫০টি থানাকে ৩০০ বিটে ভাগ করেছে৷ প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি বিটে উঠান বৈঠক হয়৷ সেখানে নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, জঙ্গিবাদ, মাদক নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে থাকি৷ প্রতি মাসেই আমাদের পুলিশ হেড কোয়ার্টার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে প্রতিটি মামলার অগ্রগতি জানাতে হয়৷ এই ধরনের ঘটনার তদন্ত করে আমরা দ্রুত চার্জশিট দাখিল করি৷ এগুলোর যদি দ্রুত বিচার হয় এবং মানুষ যদি দেখে অপরাধীর বিচার হচ্ছে তাহলেও অপরাধ কমে আসবে৷ বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা ও অপরাধীর জামিনে বের হয়ে আসার কারণে মানুষের কাছে বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরী হচ্ছে৷ পুলিশের কাজ আসামী গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করা৷ চাঞ্চল্যকর ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা অতি দ্রুত সেই কাজটি করছি৷ এরপর বিচার হবে৷ সেখানেও সাক্ষীদের হাজির করা পুলিশের দায়িত্ব৷ দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধটা হয়তো কিছুটা কমতে পারে৷

সমাজে ধর্ষণের ঘটনা হঠাৎ বাড়ল কেন?

১৭ কোটি মানুষের একটি ছোট্ট দেশ৷ এখানে ঢাকা শহরে কোন অপরাধ হলে আমরা দ্রুত জানতে পারি৷ গ্রামগঞ্জে এমন অপরাধ অহরহ হচ্ছে৷ সেটা বেশি প্রচার পায় না৷ আমাদের সমাজবিজ্ঞানীদের এগুলো নিয়ে রিসার্স করার সময় এসেছে৷ সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে, কিছু মামলার রায় দ্রুত হলে অপরাধ কমে আসতে পারে৷ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে দ্রুত এই বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে৷ শিশুদের উপর যারা এই ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে তারা মানসিক রোগী৷ আর মাদকসেবীদের মধ্যেও এই ধরনের প্রবণতা আমরা দেখছি৷

বিকৃত যৌনাচার নিয়ে পুলিশ কি কোন কাজ করছে? আর আইনগত কোনো সমস্যা আছে?

এখানে কোন আইনগত সমস্যা নেই৷ কয়েকদিন আগে ওয়ারীতে একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে৷ পরদিনই আমরা আসামীকে গ্রেফতার করেছি৷ সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ এখন মেডিকেল রিপোর্ট পেলেই আমরা চার্জশিট দেব৷ এখানে আমরা আমাদের কাজটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেছি৷ এই মামলাটির যদি দ্রুত বিচার হয় তাহলে মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে৷

এটা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নাকি সচেতনতা কোনটা দরকার?

এই ধরনের অপরাধ যদি আমরা কমাতে চাই তাহলে সচেতনতা বাড়াতেই হবে৷ পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার- এই তিনটি কাজই একসঙ্গে করতে হবে৷ তাহলে হয়ত এই অপরাধ কমতে পারে, তা না হলে সম্ভব না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন