সচিব বলছেন ‘সুষ্ঠু’ ভোট, কমিশনারের ভিন্নমত | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সচিব বলছেন ‘সুষ্ঠু’ ভোট, কমিশনারের ভিন্নমত

বাংলাদেশে দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভার ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর৷ তবে কমিশনার মাহবুব তালুকদার এটিকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ বলতে রাজি নন৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর মো. আলমগীরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইভিএম ও ব্যালট মিলিয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি  বলেন, ‘‘সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো ছিল৷ প্রচুর ভোটার উপস্থিতি ছিল৷ দুয়েকটি জায়গায় দুষ্কৃতিকারীরা অপচেষ্টা করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে; এটা খুবই নগণ্য ঘটনা৷’’ তিনি দাবি করেন, ‘‘সব মিলিয়ে এবার পৌরসভায় সুষ্ঠু ও একটা সুন্দর নির্বাচন হয়েছে৷’’

সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল চারটায়৷ ২৯টি পৌরসভায় ইভিএম এবং ৩১টি পৌরসভায় ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে৷ অনেক জায়গায় ভোট বর্জন, অনিয়ম, গোলযোগ ও প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এসেছে৷ কুষ্টিয়ার কুলিয়ারচরে অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি৷ পাবনার ঈশ্বরদীতে মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জোর করে নৌকায় সিল মারাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন৷ এছাড়া রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার বিএনপি প্রার্থী বিভিন্ন অভিযোগে ভোট বর্জনের কথা বলেছেন৷

কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট পৌরসভার নির্বাচনে ভোট বর্জন করেন বিএনপি মেয়র প্রার্থী মো. জুলফিকার আলী৷

বরগুনায় পৌরসভা নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর অস্থায়ী প্রচার কার্যালয়ের কাছে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠে৷

গোলযোগ ও সহিংসতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সচিব বলেন, ‘‘৬০ পৌরসভার মধ্যে দুয়েকটি কেন্দ্রে হয়েছে, স্থগিতও করা হয়েছে৷  দুষ্কৃতকারীদের এ ধরনের অপচেষ্টা থাকে ভোটকে বিতর্কিত করার জন্য, কিন্তু তারা সফল হয়নি৷’’

তিনি জানান, বোয়ালমারীতে একটি কেন্দ্রে ব্যালটবাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার অপেচষ্টা করলে কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে৷ কিশোরগঞ্জেও একটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে৷

 ইভিএমে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য এসেছে আড়ানি পৌরসভায়, সর্বনিম্ন কুলিয়ারচরে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে৷এছাড়া ব্যালট পেপারে বোয়ালমারীতে ৭৫ শতাংশ ও দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে৷ তবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি৷

ঢাকার সাভার পৌরসভা নির্বাচনে বেশিরভাগ কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷ এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন৷

জয়ী হয়েছেন কাদের মির্জা

এই নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জা৷ নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভায় তিনি মেয়র পদে পুননির্বাচিত হয়েছেন৷ ইভিএমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রবিউল আলম৷ নৌকা প্রতীকে কাদের মির্জা পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৩৮ ভোট৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ৭৭৮ ভোট৷

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি বলেছেন, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি আগের মতোই কথা বলে যাবেন৷ নির্বাচনের আগে দলের বিভিন্ন নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন৷

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না’

এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না বলে অভিমত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের৷ ভোট চলাকালে সাভারের তিনটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি৷ বিকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘পৌরসভার নির্বাচনে ক্রমাগত সহিংসতা বেড়ে চলেছে৷ সহিংসতা ও নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে না৷ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন না হলে এই সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়৷ এ বিষয়ে সকলের ঐক্যমত্য আবশ্যক৷ যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান৷’’

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আলোচিত এই কমিশনার বলেন, ‘‘তিনটি বুথে আমি তিন জন বিরোধী দলীয় প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট দেখতে পাই, কিন্তু অন্য কোথাও এজেন্ট ছিলেন না৷ এছাড়া সাভার পৌর এলাকায় আমি বিরোধী দলীয় প্রার্থীর কোনো পোস্টার দেখতে পাইনি৷ এমতাবস্থায়, এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না৷ যে কোনো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে তা সিদ্ধ হয় না৷’’

বিএনপির অভিযোগ

নির্বাচন চলাকালে দুপুরে বিএনপি অভিযোগ করেছে, পৌর নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ধানের শীষের সমর্থক এমনকি প্রার্থীদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না৷

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘তারা গায়ের জোরে ভোটকেন্দ্র দখল করেছে৷ জাতীয় নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনেও তারা একই ধরনের কাজ করছে৷''

আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই বিনেপি নেতা। বলেন, ‘‘ভোট কেন্দ্রের অবস্থা যে কী, তা আওয়ামী লীগের নেতারা কিছু কিছু মুখ খুলতে শুরু করেছে। আমি আর বলতে চাই না৷’’

জাতীয় নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ভোট কেন্দ্র দখল করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷

এফএস/এডিকে (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়