‘সকল স্তরে প্রযুক্তি নিশ্চিত করলে দুর্নীতি কমবে′ | আলাপ | DW | 17.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘সকল স্তরে প্রযুক্তি নিশ্চিত করলে দুর্নীতি কমবে'

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কত বড় প্রযুক্তির ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ৷ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মনে করেন, সমাজের সকল স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে সেই ঝুঁকি কমবে৷

ডয়চে ভেলে : ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রয়োজন হলো কেন?

 জুনাইদ আহমেদ পলক : বাংলাদেশে আমরা যদি কর্মসংস্থান শিফট করতে চাই বা সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই, শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে চাই, তাহলে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই৷ যদি প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের বিকল্প নেই৷

দুর্নীতি রোধে এটা কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?

দুর্নীতি রোধে ডিজিটাল বাংলাদেশ (গড়ার প্রয়াস) অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে৷ ২০০৮ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের কাজ শুরু করেন, তখন আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশ পরপর ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে৷ এখন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমাদের সময়, অর্থ-দুর্নীতি সবই কিন্তু কমে এসেছে৷ আগে কিছু করতে হলে মানুষকে শারীরিকভাবে সেখানে উপস্থিত হতে হতো৷ এখন অটোমেশনের ফলে শারীরিক উপস্থিতি যেমন কমছে, তেমনি দুর্নীতিও কমছে৷ গত ৯ বছরে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে সারা বিশ্বে যদি আমরা লক্ষ্য করি, তাহলে দেখবো, দুর্নীতির সুচক অনেকটা সম্মানজনক জায়গায় এসেছে৷ ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন, তখন সেটা ছিল তার একার স্বপ্ন৷ এই ৯ বছর দেশের ১৬ কোটি মানুষ এটাকে আপন করে নিয়েছে৷ এখন এটা সবার স্বপ্ন৷ সবাই এখন এই ভিশনটাকে আপন করে নিয়েছে৷

অডিও শুনুন 09:46

‘সকল স্তরে প্রযুক্তি নিশ্চিত করলে দুর্নীতি কমবে'

ডিজিটালাইজ করে রাজনীতিকদের দুর্নীতি কি বন্ধ করা সম্ভব?

দুর্নীতি আসলে ব্যবসায়ী বলুন আর রাজনীতিবিদ বলুন, এটা সকলের জন্যই৷ যখন আমরা পুরো প্রক্রিয়াটাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারব তখনই আমরা প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিমুক্ত একটা সমাজ গড়ে তুলতে পারব৷ সমাজের সকল স্তুরে বা সব জায়গায় যত বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারব তত বেশি আমরা দুর্নীতিমুক্ত হতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি৷ 

আপনি বলছিলেন, ডিজিটালাইজেশনের ফলে দুর্নীতি কমেছে৷ আসলে কি কমেছে?

অবশ্যই৷ আপনি দেখেন, ২০০৮ সালের আগে পরপর ৫ বার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে৷ তখন বলতে গেলে কোনো কিছুতেই প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না৷ তখন একটা জমির পরচা পেতে শত কিলোমিটার দূরে যেতে হতো এবং দালাল ধরে দুর্নীতির মাধ্যমে সেটা করতে হতো৷ আজকে ২০০ রকমের সেবা আমরা অনলাইনে আনতে পেরেছি৷ এখন এই পরচা, বা শিক্ষাক্ষেত্রে ধরুন বেতন দেয়া এগুলো শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে করতে হয় না৷ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতির সূচকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত তো নয়ই, বরং দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হচ্ছে৷

ব্যাংক বা বিভিন্ন অফিস আদালত তো অনেকটাই ডিজিটালাইজড হয়েছে৷ কিন্তু এসব জায়গায় দুর্নীতি তো সেভাবে কমার লক্ষণ দেখছি না৷

আগে তো এটিএম কার্ড ছিল না, মোবাইল ব্যাংকিং ছিল না৷ এখন তো ৫ কোটিরও বেশি মানুষ অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন৷ প্রধানমন্ত্রী এখানে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ স্থাপনের মাধ্যমে৷ ব্যাংকিং সেক্টরে এখন কিন্তু অর্ধেক লেনদেন অনলাইনে হচ্ছে৷ এখন হয়ত ব্যাংকিং খাতের কিছু কিছু অনিয়ম সামনে উঠে আসছে, যেটা আগে আসত না৷ এর মানে এই না যে, আগে এই অনিয়মগুলো হতো না৷ আগেও এগুলো হতো, হয়তো বেশি বেশি হতো৷ কিন্তু আমরা সেটা জানতেই পারতাম না৷ এখন ছোট ঘটনাই হোক বা বড় ঘটনাই হোক সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেটা প্রতিহত করছে বা চিহ্নিত করছে বা বিচারের আওতায় আনছে৷ তাই জনগনের সামনে সেটা উঠে আসছে৷

ব্যাংকগুলো তো এখন ডিজিটালাইজড৷ আপনি এখানে দুর্নীতি কমার কথা বলছেন, অথচ আমরা দেখছি এখানে বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে৷

ব্যাংকগুলো এখনো পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হয়নি৷ নো ইয়োর কাষ্টমার, এটাকে বলে ইকেওয়াইসি৷ অর্থাৎ ইলেকট্রোনিক নো-ইয়োর কাষ্টমার৷ এটা কিন্তু আমরা খুবই পুশ করছি আইসিটি ডিভিশন থেকে, বাংলাদেশ ব্যাংকে৷ এই ইকেওয়াইসি যেন তারা প্রবর্তন করে৷ এখনো কোনো ব্যাংকেই নো ইয়োর কাষ্টমার প্রবর্তন করা হয়নি৷ এছাড়া যেমন ধরেন ক্রেডিট রিপোর্ট৷ প্রতিটি ব্যাংকে প্রত্যেক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের একটি করে ক্রেডিট রিপোর্ট থাকতে হবে৷ এটা যদি অনলাইনে থাকে তাহলে কেউ লোন নিয়ে আর্থিক জালিয়াতি করতে পারবে না৷ বাংলাদেশে অর্থনীতি এখন সুসংহত, ডিজিটালাইজেশন যেহেতু দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই আমরা নজর দিচ্ছি ইকেওয়াইসি'র দিকে৷ আমাদের উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে তিনি বলেছেন ২০২১ সালে আমরা লেস ক্যাশ সোসাইটির দিকে যাবো৷ ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, কেনা-কাটা বা ই-কমার্সে ডিজিটাল মানি প্রবর্তনের দিকে যেতে চাচ্ছি৷ এর বাইরে সাইবার সিকিউরিটির দিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি৷ আমরা আশা করছি, এই ধরনের অব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমেই মোকাবেলা করা সম্ভব৷

বাংলাদেশ ব্যাংকে যে টাকা চুরি হলো সেটা তো ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়ই হলো?

বিশ্বে এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই বা দেশ নেই যারা বলতে পারেন তারা সাইবার আক্রমনের শিকার হননি বা হচ্ছেন না বা হবেন না৷ কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী একটি দেশ, তারা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন৷ আমাদের প্রতিনিয়তই সিকিউরিটির দিকে নজর দিতে হবে৷ এজন্য আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রনয়ণ করতে যাচ্ছি৷ প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটির দিকে আমরা আরো বেশি মনোযোগী হতে চাই৷

প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি কমাতে হলে ডিজিটালাইজেশনে কি পদক্ষেপ নেয়া দরকার এখনই?

আমরা এখনই যেটা নিচ্ছি, সেটা হল ই-গভর্ন্যান্স৷ এই ই-গভর্ন্যান্স থেকে এন-গভর্ন্যান্সে আমরা শিফট করছি৷ আমরা আইসিটি মিনিষ্ট্রি এবং প্ল্যানিং কমিশন থেকে একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি যেটা বেসরকারি কর্পোরেট অফিসগুলো করে থাকে৷ যেমন ধরেন পেপারলেস অফিস৷ অফিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আমরা ইন্ট্রোডিউস করতে যাচ্ছি সরকারের ৮২টি মন্ত্রণালয়ে৷ আমরা আশা করছি, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা লেস পেপার ই-গভর্ন্যান্স প্রোভাইড করতে পারব৷ লেস ক্যাশ সোসাইটি আমরা করতে পারব৷ আর সচেতনতা তৈরির কাজটাও চলতে থাকবে৷ আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের যে চারটি পিলার- হিউম্যান রিসোর্স, কানেক্টিভিটি, সবার জন্য আইসিটি ও ই-গভর্ন্যান্সকে সামনে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি৷ এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস তরুন প্রজন্ম ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন