সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন | বিশ্ব | DW | 15.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ধর্ষকদের ‘ক্রসফায়ারে' হত্যার দাবি তুলেছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য৷ বাংলাদেশে আইন-কানুন কাজ করছে না, তাদের কথা এই বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা৷

সংসদ এবং বিচার বিভাগের প্রয়োজন নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন৷

মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে হলে এনকাউন্টার মাস্ট (অবশ্যম্ভাবী)৷ ধর্ষককে গুলি করে মারতে হবে৷ একমাত্র ঔষধ পুলিশ ধরার পর ধর্ষককে গুলি করে মেরে ফেলা৷'' আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন৷ জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হকেরও সমর্থন পান তিনি৷

ফিরোজ রশীদ দেশে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়া ও অপরাধীরা শাস্তির আওতায় না আসার প্রেক্ষাপটে ধর্ষকদের গুলি করে হত্যার এই প্রস্তাব দেন৷ কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘আইন প্রণেতাদের কাছ থেকে এ ধরনের কথা অত্যন্ত বিপদজনক৷ এমনিতেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের তেমন আস্থা নেই৷ এখন রাষ্ট্রই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা অকার্যকর৷ তাদের কথা এই বার্তা দিচ্ছে যে, বাংলাদেশে আইন কানুন কাজ করছে না৷ সেটা হলে তাদের কাজ ছিলো আইন কানুন যাতে কার্যকর হয় সেই ব্যবস্থা করা৷ কিন্তু সেটা না করে তারা অসাংবিধানিক, বেআইনি ও মানবাধিকার লংঘনের কথা বলছেন৷ কোনো সভ্য সমাজেই ধর্ষণ কেন, কোনো অপরাধের বিচারই ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হতে পারে না৷''

অডিও শুনুন 01:18

‘তাদের মন্তব্যে মনে হচ্ছে দেশে আইন, বিচার এগুলো দরকার নাই’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘স্পষ্টত তাদের মন্তব্যে মনে হচ্ছে দেশে আইন, বিচার এগুলো দরকার নাই৷ এগুলো না থাকলে সংসদেরওতো দরকার নাই৷ তাদের এই উদ্ভট কথার একটাই পরিণতি দেশে বিচার ব্যবস্থার দরকার নাই, সংসদ দরকার নাই৷ এরপরও যদি তারা সংসদে বসে বেতন ভাতা নেন তাহলে তারা যা বলেছেন, তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে৷ সংসদের ইতিহাসে এ ধরনের অসভ্য কথা সপ্তদশ শতাব্দীতেও বলা হয়নি৷''

ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে হত্যার এই বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ৷ তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণ প্রতিরোধে ক্রসফায়ার কোনো সমাধান নয়৷ এটার জন্য শক্ত আইন করতে হবে৷ মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে হবে৷ ক্রসফায়ার মানবাধিকারের লংঘন৷ কাউকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা যায় না৷''

তাঁর মতে, ‘‘দেশের মানুষ বিচার পায় না৷ বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে সে কারণেই হয়ত তারা ওই কথা বলেছেন৷''

সাবেক তথ্যমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু সংসদ সদস্যদের এই ধরনের বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন৷ তিনি মনে করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো বিচারের দায়িত্ব বা হত্যার অনুমতি দেয়া যায় না৷ তিনি বলেন, ‘‘ওই বক্তব্যের সময় গতকাল আমি সংসদে ছিলাম না৷ আমি সংসদে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব৷ প্রয়োজনে আইন আরো কঠোর করা যেতে পারে৷ কিন্তু ক্রসফায়ার কোনো সমাধান নয়৷ এটা অনুমোদনযোগ্য নয়৷''

অডিও শুনুন 01:58

‘আইন আরো কঠোর করা যেতে পারে, কিন্তু ক্রসফায়ার কোনো সমাধান নয়’

তাঁর মতে সংসদ সদস্যদের এই বক্তব্যে কেউ কেউ উৎসাহিত হয়ে উঠতে পারেন৷ তাই এ নিয়ে অতি দ্রুত আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত হবে সংসদে বিবৃতি দেয়া৷

সংসদে অধিবেশন চলায় এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য জানা যায়নি৷ তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘‘সংসদে অনেকে আবেগে অনেক কিছু বলেন৷ সবকিছু বিবেচনায় নেয়া যায় না৷ দেশে আইন ও বিচার ব্যবস্থা আছে৷ আইনের বাইরে কিছু হতে পারে না৷''

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০১৬ থেকে ২০১৯, এই চার বছরে ক্রসফায়ারে এক হাজার ১২৭ জন নিহত হয়েছেন৷ ২০১৭ সালে নিহত হন ১৪১ জন আর ২০১৬ সালে ১৭৭ জন৷

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন এবং মাদকবিরোধী অভিযান ক্রসফায়ারের এক নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করে৷ ঐ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন ৪২১ জন, যা আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ৷ ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন