সংসদে দেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় আলোচনা হয় না | বিশ্ব | DW | 26.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

সংসদে দেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় আলোচনা হয় না

সংসদ কার্যকর নয়, করতে হবে - এ বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত৷ অকার্যকর সংসদে প্রতি মিনিটে খরচ কত, কেন এই অপচয়, এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে৷ কোরাম সংকটও বাংলাদেশের সংসদের প্রায় নিয়মিত আলোচনার বিষয়৷

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই নির্বাচনটি বড়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ৷ ৩০ ডিসেম্বরের ভোট প্রশাসন ২৯ ডিসেম্বর রাতে সম্পন্ন করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে৷ ভোটারদের ভোট দিতে হয়নি৷ সেই সংসদ এখন কেমন চলছে? যেমন চলার কথা, তেমনই চলছে৷

বাজেট অধিবেশনের আগে বোঝা যায়নি যে, দেশে কোনো সংসদ চলেছে৷ বিএনপির পাঁচজন সদস্যযোগ দেয়ায় সংসদের আলোচনা গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে মাঝে মধ্যে৷

৩০ ডিসেম্বরের ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি৷ স্বৈরাচার এরশাদের এই জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে আসম রবের জাসদকে গৃহপালিত বিরোধী দলবানিয়ে সংসদ চালিয়েছিল৷ সেই জাতীয় পার্টি নিজেই গত দুই সংসদের গৃহপালিত বিরোধী দল৷

গত সংসদে আবার তারা সরকারেরও অংশ ছিল৷ এখনো তারা বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের অংশও থাকতে চায়৷ সুতরাং এমন গৃহপালিত একটি বিরোধী দল বানিয়ে সংসদ কেমন চলছে, তা নিয়ে বলা বা লেখা বোকার মত আচরণ বলেই মনে হয়৷

১৯৯১ সালের আগের কোনো নির্বাচন প্রশ্নহীন ছিল না৷ বিশেষ করে সামরিক সরকারগুলোর সময় নির্বাচন ছিল প্রহসন৷ ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে অকারণে ব্যালট বাক্স ঢাকায় নিয়ে আসার মতো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল সেই নির্বাচনকে৷ সেই সংসদেও ছয়-সাতজন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য থাকায় তা কার্যকর হয়নি৷ সামরিক সরকারগুলোর সময়তো সংসদ কার্যকর থাকার সুযোগই ছিল না৷ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে গঠিত সংসদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ ছিল৷ জনমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এসব নির্বাচন নিয়েও বিরোধী দল প্রশ্ন তুলে সংসদ বর্জন করেছে ধারাবাহিকভাবে৷ ফলে সংসদ কার্যকর হয়নি৷

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় মানুষ ভোট না দিলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন৷ তবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল কিছুকে ছাপিয়ে রেকর্ড করেছে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন৷ রাতে ভোটের এমন অভিযোগ আগে কখনো এভাবে আসেনি৷ সেই সংসদে বিএনপির পাঁচ ছয়জন সদস্য কার্যকর করতে পারবেন, সে ধারণা করার কোনো কারণ নেই৷ এ কথার একটু ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন৷ সংসদ কার্যকর বলতে আসলে কী বোঝায়? সরকারের ভূমিকা কতটা, বিরোধী দলের ভূমিকা কতটা?

বাংলাদেশে সাধারণ সংসদ কার্যকর বা প্রাণবন্ত কিনা, তা বোঝানো হয় বিরোধী দল সংসদে থাকলো কিনা, কথা বলল কিনা, কথা বলতে পারল কিনা, প্রতিবাদ বা প্রতিবাদে ওয়াক আউট করল কিনা, তার ওপর৷ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলো সংসদ কার্যকরের নিশ্চয়ই একটি উপাদান৷ সেই উপাদান বাজেট অধিবেশনে কিছু দৃশ্যমান হচ্ছে, সামনেও হয়তো হবে৷

Bangladesh Journalist Golam Mortoza

গোলাম মোর্তোজা, সাংবাদিক

কিন্তু সংসদ কার্যকরের মূল বিষয়, সরকার পরিচালনার ধরন ও দৃষ্টিভঙ্গি৷ সংসদে বিরোধী দলের হৈচৈ, সরকারের তীব্র সমালোচনার নামই সংসদ কার্যকর হওয়া নয়৷ সংসদ কার্যকর বলতে বোঝায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে কিনা৷ তা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল আলোচনা করছে কিনা৷ সেই আলোচনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণ জানছে কিনা৷ আরও পরিষ্কার করে বলি৷ যেমন, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট-এর বিষয়টি যদি সংসদে আলোচনা হতো, মূল তথ্যগুলো যদি প্রকাশিত হতো, তবে সংসদে বিরোধী দল না থাকলেও হয়তো কার্যকর বলা যেত৷ এই প্রকল্পের ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা রাশিয়ার থেকে নেয়া ঋণ৷ ঋণের শর্ত কী? ৩০ বছরে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা৷ এটা কী ভায়াবহ প্রকল্প? বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম কত পড়বে? পৃথিবীর অন্য দেশে কত পড়ে?

অথবা পদ্মা সেতুতে ব্যয় বারবার বাড়ছে কেন? কেন ভারতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন খরচ হচ্ছে বাংলাদেশের মেট্রোরেল নির্মাণে? পদ্মা সেতুর উপর রেললাইন নির্মাণে চীন থেকে যে ঋণ নেয়া হবে, তার শর্ত কী? পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ব্যয়ে কেন সবচেয়ে নিম্নমাণের রাস্তা নির্মিত হয়? কোন শর্তে রাশিয়ার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে অস্ত্র কেনা হচ্ছে? বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি কেন প্রকাশ করা হবে না ইত্যাদি৷

জনগুরুত্বপূর্ণ এসব কোনো বিষয় বাংলাদেশের সংসদে আলোচনা হয় না৷ বর্তমান সংসদেও আলোচনা হচ্ছে না৷ আলোচনা হচ্ছে না মানে সরকার এসব বিষয় সংসদে আলোচনার জন্যে উপস্থাপন করে না৷ বিরোধী দলও এসব বিষয় নিয়ে জানতে চায় না৷

সবকিছু মিলিয়ে এবারের সংসদ কোনো অর্থেই কার্যকর নয়৷ অতীতের কোনো সংসদই কার্যকর ছিল না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন