সংসদের কাছে আরো সময় চায় ব্রিটেনের সরকার | বিশ্ব | DW | 11.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

সংসদের কাছে আরো সময় চায় ব্রিটেনের সরকার

একেবারে শেষ মুহূর্তেও ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী৷ বিরোধী লেবার পার্টির প্রস্তাব নাকচ করে সংসদের কাছে আরো সময় চাইছে সরকার৷

ব্রেক্সিটের সময়সীমা এগিয়ে আসা সত্ত্বেও ব্রিটেনের রাজনৈতিক জগতে ঐকমত্যের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকেও কোনো ছাড় আদায় করতে পারেনি সে দেশের সরকার৷  প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এই অবস্থায় সংসদের কাছে আরো সময় চান৷ ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি ব্রেক্সিট নিয়ে সংসদে ভোটাভুটির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেল৷ ব্রিটেনের আবাসন মন্ত্রী জেমস ব্রকেনশায়ার রবিবার বলেন, দুই সপ্তাহ পর সংসদে ভোটাভুটির সুযোগের উল্লেখ করেছেন৷ এই সময়ে সরকার ইইউ'র সঙ্গে এমন বোঝাপড়া করতে চায়, সংসদে যার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হবে৷ সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব না হলে আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংসদ অন্যান্য বিকল্প নিয়ে ভোটাভুটি করতে পারে৷

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংসদ সদস্যদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপর এখনই আরো চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে৷ ১৪ই ফেব্রুয়ারি বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব এনে সরকারের বিকল্প সীমিত করার পরিকল্পনা ছিল৷ সে ক্ষেত্রে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ কার্যত সংসদের হাতে চলে আসতো৷

বিরোধী লেবার পার্টি সরকারের এই বিলম্বের নীতির কড়া সমালোচনা করেছে৷ তাদের অভিযোগ, একেবারে শেষ মুহূর্তে কোনো চুক্তি পেশ করে তা অনুমোদনের জন্য সংসদের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই সরকার এমনটা করছে৷ সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আবার হুমকি দিয়ে বলতে পারেন, সেই চুক্তি মেনে না নিলে তার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে৷

রবিবার প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন৷ অচলাবস্থা কাটাতে কর্বিন স্থায়ীভাবে ইউরোপের সঙ্গে শুল্ক ইউনিয়নে থাকার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁকে লেখা চিঠিতে মে তা মেনে নিতে অস্বীকার করেন৷ ফলে দুই প্রধান দলের মধ্যে আপোশের সম্ভবনা আবার ধাক্কা খেলো৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে কর্বিনের প্রস্তাব বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিল৷ কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর টোরি পার্টির মধ্যে ভাঙনের আশঙ্কা আরো বেড়ে যেতো৷ দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পথে যেতে চান৷ শুল্ক ইউনিয়নে থাকলে সেটা সম্ভব হবে না বলে তাঁদের আশঙ্কা৷

 ইইউ বারবার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মূল ব্রেক্সিট চুক্তিতে কোনোরকম রদবদল সম্ভব নয়৷ একমাত্র ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে আয়ারল্যান্ড সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা নিয়ে আরো আশ্বাস দেওয়া যেতে পারে৷ তা সত্ত্বেও ব্রিটেন কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যেতে চায়৷ ব্রেক্সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্টিফেন বার্কলে সোমবার ইইউর মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে-র সঙ্গে আলোচনা করছেন৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট চলতি সপ্তাহে প্যারিস ও ওয়ারশ সফর করবেন৷ চলতি মাসের শেষেই প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকারের সঙ্গে আবার বৈঠক করবেন৷

এসবি/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন