সংলাপ ব্যর্থ হলো? | বিশ্ব | DW | 07.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সংলাপ ব্যর্থ হলো?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সরকার৷ নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবিও মানা হচ্ছে না৷ হবে না আর কোনো সংলাপ৷ তবে আরো আলাপ-আলোচনার আশায় আছে ঐক্যফ্রন্ট৷

বুধবার সকালে গণভবনে সরকার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে৷ কারণ, তারা নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে ১০ সদস্যের যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ উপদেষ্টা পরিষদের প্রস্তাব করেছেন, তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে৷ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া এবং সরকারের মেয়াদের পরবর্তী তিন মাসে নির্বাচনের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে৷ তিনি সবাইকে আবারো নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷

সংলাপ শেষ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘আলাপ-আলোচনা চলবে, তবে ডায়লগ শেষ৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘তাঁরা নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷ তাতে উভয় পক্ষেরই বিপদ হতে পারে৷ তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে৷ তাই নির্বাচন সরকারের মেয়াদের শেষ তিন মাসের মধ্যেই হবে৷  সংবিধানেও তাই বলা আছে৷ আর তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনও সম্ভব নয়৷ সম্ভব নয় নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন৷ এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে৷ তাঁরা সংবিধানের মধ্যে থেকে এসব প্রস্তাব দেয়ার কথা বললেও আসলে এগুলো সংবিধানের বাইরে৷''

তিনি আরো বলেন,‘‘তাঁরা খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছেন৷আদালত যদি জামিন দেয়, তাহলে তো আমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়৷ আর আমরা আইনমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছি৷ তাঁরা যে মামলার তালিকা দিয়েছেন, তদন্তে যদি রাজনৈতিক মামলা পাওয়া যায় তা প্রত্যাহার করা হবে৷''

অডিও শুনুন 05:41
এখন লাইভ
05:41 মিনিট

‘তাঁরা নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতে উভয় পক্ষেরই বিপদ হতে পারে’

তিনি বলেন, ‘‘তাঁদের কয়েকটি দাবি তো আমরা মেনেই নিয়েছি৷ লেভেল প্লেইিং ফিল্ড তো নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে৷ আমরা সহযোগিতা করব৷ আমাদের কোনো মন্ত্রী, এমপি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনের সময় ব্যবহার করবেন না৷ মন্ত্রীরা গাড়িতে পতাকাও ব্যবহার করবেন না৷ আর তাঁরা সভা- সমাবেশ সবই করতে পারবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘লং মার্চ বা রোড মার্চ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার৷ তাঁরা তা করবেন৷ কিন্তু যদি আগের মতো বোমাবাজি বা সন্ত্রাস করে, তাহলে তো ব্যবস্থা নেয়া হবে৷''

এদিকে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুণ ইসলাম বলেছেন, ‘‘আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি, তা জনগণেরই দাবি৷ সরকার যদি তা মেনে না নেয়, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব৷ আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই সংলাপে অংশ নিয়েছ৷ কাল(বৃহস্পতিবার) রাজশাহীতে আমাদের রোড মার্চ হবে৷ আর শুক্রবার হবে সমাবেশ৷ যদি নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে, তাহলে আমরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবো৷''

তাঁদের মূল দাবিগুলোই তো মানা হয়নি, এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, এখনো আলাপ-আলোচনা শেষ হয়নি৷ আরো আলাপ- আলোচনার সুযোগ আছে৷''

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন উপস্থিত থাকলেও তিনি তেমন কোনো কথা বলেননি৷ নেতাদের কিছুটা বিক্ষিপ্ত এবং উত্তেজিত মনে হয়েছে৷ তবে নির্বাচন বর্জন বা নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো কথা বলেননি তাঁরা৷ তাঁরা বলেন, ‘‘সরকারকে জনগণের দাবি মানতে হবে৷ আমরা ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছি৷ সরকার পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দিলেই তা সম্ভব৷ এটাই সংবিধান৷ আর সেজন্যই নির্বাচনের তফসিল পেছানো দরকার৷'' আলোচনায় সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এটা জনগণের বিষয়৷ তাঁরাই বলবেন সন্তুষ্ট, না অসন্তুষ্ট৷''

আর ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘‘বল এখন সরকারের কোর্টে৷ আমরা এখন জনগণের কাছে যাবো৷''

অডিও শুনুন 03:29
এখন লাইভ
03:29 মিনিট

‘আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি, তা জনগণেরই দাবি’

সংলাপে আরো যাঁরা:

গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রথম সংলাপ শুরু করে সরকার৷ পরের দিন সংলাপ হয় বিকল্পধারার সঙ্গে৷ ৪ নভেম্বর ক্ষমতাসীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপ হয় সরকারের৷ ৫ নভেম্বর বর্তমান সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ হয়৷ ৬ নভেম্বর ইসলমি ঐক্যজোটসহ ১৫টি ইসলামিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে সরকার৷ ওইদিন সন্ধ্যায় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সংলাপ করে৷

৭ নভেম্বর সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর সন্ধ্যায় ক্ষুদ্র ক্ষ্রদ্র ৩০টি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়৷ সরকার জানিয়েছে, আর কোনো সংলাপ হবে না৷

বৃহস্পতিবার সকালেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সংলাপের বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন৷আর বিকেলের পর যে কোনো সময় নির্বাচন কমিশনের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে৷

সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া আর সবাই এই সরকারের অধীনেনির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বলেছে৷ তারা নির্বাচন যাতে না পেছায়, তার দাবিও জানিয়েছে৷ তবে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন