সংযুক্ত বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

সংযুক্ত বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পরষ্পর সংযুক্ত বিশ্ব নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে আজ মরিয়া৷ কিন্তু এ বিচ্ছিন্নতার পরিণতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে সংকট দেখা দেওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে লড়াই আরো কঠিন হবে৷

ডয়চে ভেলের কলামিস্ট আলেক্সান্ডার  গোয়ালাখ এ বিষয়ে জানিয়েছেন তার মতামত৷

এই মুহূর্তে আমাদের এক সঙ্গে বড় দুইটি সংকটের মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে৷ এক, করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর রূপ নেওয়া; দুই, এর ফলে বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও অর্থনৈতিক যে দুর্যোগ ঘনিয়ে উঠেছে তা৷ বলা যায়, করোনা ভাইরাস সংকট কেটে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার লড়াই হবে আরো কঠিন৷

যদিও এই দুই সংকটের মধ্যে তুলনা করা বা কোনটি বেশি ভয়ঙ্কর সেটা বলা কোনো কাজের কথা না৷ কারণ এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছুঁইঁছুঁই৷

বৈশ্বিক মহামারী বর্ণান্ধ

বৈশ্বিক মহামারী সীমান্ত, বর্ণ, ধর্ম, সংস্কৃতি বা ভাষা কিছু চেনে না৷ রোগ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এই পুরানো প্রবাদ আবারও সঠিক প্রমাণিত হয়েছে৷

চীনের উহান থেকে প্রাদুর্ভাব হওয়া করোনা ভাইরাস এখন ইটালি, ইরান, ফ্রান্স, স্পেন,অ্যামেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়ার মারাত্মক কামড় বসিয়েছে৷  দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন, একই গতি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা৷

মাস দুয়েক আগে চীনের দিকে বাঁকা চোখে তাকানো বাকি বিশ্ব আজ একই অবস্থার মুখোমুখি৷ এই  দেশে-দেশে ভেদাভেদ খুব একটা নেই৷  তাই বিচ্ছিন্ন না হয়ে দেশগুলো বরং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে সবাই মিলে একযোগে করোনা সংকটের মোকাবেলা করতে পারে৷

তৃতীয় সংকট

করোনার কারণে তৃতীয় আরেকটি সংকটও তৈরি হয়েছে৷ যেটা অবশ্যই আগের দুইটির সঙ্গে সংযুক্ত৷ সেটা হলো ‘সামাজিক দূরত্ব' বজায় রাখতে পারা৷ করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সব দেশই জনগণকে ভিড় এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে৷ যেখানে বিস্তার ভয়াবহ সেখানে ‘লকডাউন‘ করা হচ্ছে৷ ভাইরাস বিস্তারের গতি কমিয়ে দিতে বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলে জেল-জরিমানাও করছে কোনো কোনো দেশ৷ পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম স্বাধীন চালাচলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে লোকজন বাড়ির চার দেয়ালে নিজেকে আটকে রাখছে বা অচেনা পরিবেশে কোয়ারান্টিনে আছে৷  প্রতিবেশী, নগর, রাজ্য বা দেশ সবার থেকে আলাদা হয়ে আছে৷ এমনকি এক দেশ আরেক দেশ থেকে আলাদা হচ্ছে৷ যুক্তরাষ্ট্র আগেই সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নও এখন একই পথে চলছে৷ কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো ইউরোপে স্বাধীন চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসবে৷

বিচ্ছিন্নতায়ও একত্র থাকার চেষ্টা

সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মানুষ অসহায়বোধ করে৷ এ অবস্থা কাটাতে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে৷ যে বই পড়বো পড়বো বলে পড়া হয়ে উঠেনি সেগুলো পড়া, সিনেমা দেখাসহ নানাভাবে অস্বস্তিকর এ সময় পার করতে বলা হচ্ছে৷

ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ার, বা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা, সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ আক্রান্ত প্রায় সবদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে৷ 

অবরুদ্ধ এ অবস্থায় যখন সবাই নিজ নিজ ঘরে বন্দি তখন একে অন্যকে সাহস যোগাতে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে পারি৷ যেমন গত সপ্তাহে ইতালীয়রা নিজেদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বা জানালা খুলে গান গেয়ে একে অন্যকে উৎসাহিত করেছেন৷

গতকাল কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত চিকিৎসাকর্মীদের সমর্থন ও সাহস যোগাতে এক যোগে হাতহাতি দেওয়া হয়৷

আলেক্সান্ডার  গ্যোরলাখ/এসএনএল

বিজ্ঞাপন